,



জীবন বিসর্জন দিয়ে এ দেশ স্বাধীন করেছেন

বাঙালী কণ্ঠ ডেস্কঃ গৃহায়ণ ও গনপূর্ত মন্ত্রী শ.ম রেজাউল করিম বলেছেন, বঙ্গবন্ধুর জন্ম না হলে আমরা স্বাধীন বাংলাদেশ পেতাম না। তিনি নিজের জীবন বিসর্জন দিয়ে এ দেশ স্বাধীন করেছেন। কিন্তু দেশ স্বাধীনের পরে পরাজিত শক্তিরা দেশের স্বাধীনতাকে মেনে নিতে পারে নি। স্বাধীনতা যুদ্ধে ভারত সহ বিশ্বের অনেক দেশ আমাদের সহায়তা করলেও কিছু দেশ স্বাধীনতার পরেও আমাদের মেনে নিতে পারে নি। পরাজিত শক্তিদের কর্তৃক বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর তারা এদেশের স্বাধীনতাকে স্বীকার করেছিলো।

রোববার (৮ ডিসেম্বর) সকালে পিরোজপুর মুক্ত দিবস উপলক্ষ্যে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ সব কথা বলেন।

এ সময় মন্ত্রী স্বাধীনতা যুদ্ধে পাকিস্তানি সেনাদের হাতে নিহত পিরোজপুরের ভাগিরথীসহ সকল শহীদদের রুহের মাগফিরত কামনা করেন।

নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে রোববার (৮ ডিসেম্বর) পিরোজপুর মুক্ত দিবস পালন করা হয়েছে। এ উপলক্ষ্যে ওই দিন সকাল সাড়ে ৯টায় শহরের শহীদ ভাগীরথী চত্ত্বরে শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পমাল্য অর্পণ, আনন্দ শোভাযাত্রা শেষে শহরের স্বাধীনতা চত্ত্বরে স্বধীনতা মঞ্চের উদ্বোধন, গন-সংগীত পরিবেশন ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

এ উপলক্ষ্যে সকাল ১০টায় শহরের টাউন ক্লাবের স্বাধীনতা মঞ্চে জেলা প্রশাসক আবু আলী মো. সাজ্জাদ হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন পিরোজপুরের নারী এমপি শেখ এ্যানী রহমান, পিরোজপুর পৌর মেয়র মো. হাবিবুর রহমান মালেক, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এ্যাড. হাকিম হাওলাদার, সহকারী পুলিশ সুপার মোল্লা মো. আজাদ, সাবেক জেলা ও দায়রা জজ ও মুক্তিযোদ্ধা মো. সালাম শিকদার, মুক্তিযোদ্ধা গৌতম নারায়ন চৌধুরী, জেলা যুবলীগ সাধারণ সম্পাদক মো. জিয়াউল হাসান গাজী প্রমুখ।

এর আগে মন্ত্রী টাউন ক্লাব মাঠে স্বাধীনতার মঞ্চের উদ্বোধন করেন।

উল্লেখ্য, দীর্ঘ নয় মাস রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ শেষে এই দিনে পিরোজপুর পাকহানাদার মুক্ত হয়। ঘরে ঘরে সেদিন উড়েছিল লাল সবুজের বিজয় পতাকা। পিরোজপুরের ইতিহাসে এ দিনটি বিশেষ স্মরণীয় দিন। মুক্তিযুদ্ধের নবম সেক্টরের অধীন পিরোজপুর ছিল সুন্দরবন সাব-সেক্টর কমান্ডার মেজর জিয়াউদ্দিনের দায়িত্বে।

১৯৭১ সালের ৪ মে পিরোজপুরে প্রথম পাক বাহিনী প্রবেশ করে। শহরের প্রবেশদ্বার হুলারহাট নৌ-বন্দর থেকে পাকহানাদার বাহিনী শহরে প্রবেশের পথে প্রথমেই তারা মাছিমপুর ও কৃষ্ণনগর গ্রামে শুরু করে হত্যাযজ্ঞ। তারপর ৮ টি মাস স্থানীয় শান্তিকমিটির নেতা ও রাজাকারদের সহায়তায় বিভিন্ন এলাকায় সংখ্যালঘু ও স্বাধীনতা পক্ষের লোকজনদের বাড়ি-ঘরে আগুন দেয়া হয়। হত্যা করা হয় প্রায় ৩৫ হাজার মুক্তিকামী মানুষকে। সম্ভ্রম হারান প্রায় ৫ হাজার মা-বোন। পিরোজপুরকে হানাদার মুক্ত করতে সাব-সেক্টর কমান্ডার মেজর জিয়াউদ্দিনের নেতৃত্বে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের একটি দল সুন্দরবন থেকে ৭ ডিসেম্বর রাত ১০টায় পিরোজপুরের দক্ষিণপ্রান্ত পাড়েরহাট বন্দর দিয়ে শহরে প্রবেশ করে। মুক্তিবাহিনীর এ আগমনের খবর পেয়ে পাক হায়নারা শহরের পূর্বদিকের কচানদী দিয়ে লঞ্চ-স্টীমার যোগে বরিশালের উদ্দেশ্যে পালিয়ে যায়। অবশেষে দীর্ঘ আট মাস অবরুদ্ধ থাকর পর ৮ ডিসেম্বর পিরোজপুর হানাদার মুক্ত হয়।

Print Friendly, PDF & Email

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর