ঢাকা , সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬, ৩০ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

স্থানীয় নির্বাচন নিয়ে ইসি সরকারের দিকে তাকিয়ে

স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা ও সিটি করপোরেশন) নির্বাচন নির্দলীয় প্রতীকে ফিরছে। গত বৃহস্পতিবার এ সংক্রান্ত সংশোধিত আইন সংসদে পাস হয়েছে। এখন আনুষ্ঠানিকভাবে সংশোধিত আইনের গেজেট পেলে আচরণবিধিমালা ও নির্বাচন পরিচালনা বিধিমালা সংশোধনের উদ্যোগ নেবে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। স্থানীয় সরকার নির্বাচন দলীয় নাকি নির্দলীয় প্রতীকে হবে তার জন্য এতদিন সংসদের দিকে তাকিয়ে ছিল কমিশন। আইন সংশোধন হওয়ার পর এখন কবে এবং কোন নির্বাচন দিয়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু করা হবে তার জন্য সরকারের সিগন্যালের দিকে তাকিয়ে আছে ইসি। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

সূত্র জানায়, স্থানীয় সরকার নির্বাচন সাধারণত স্থানীয় সরকার বিভাগের অনুরোধে আয়োজন করে ইসি। সংসদ নির্বাচনের আগে ১ ফেব্রুয়ারি ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এবং চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচন আয়োজনের জন্য অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পক্ষ থেকে ইসিকে চিঠি দেওয়া হয়েছিল। এ ছাড়া নিজেদের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে মাঠপর্যায়েও চিঠি দিয়েছে কমিশন। গত ১০ মার্চ মাঠপর্যায়ে দেওয়া চিঠিতে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের তথ্য হালনাগাদ করার লক্ষ্যে অঞ্চলভিত্তিক সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, জেলা পরিষদ, উপজেলা পরিষদ ও ইউনিয়ন পরিষদের তথ্যাদি নির্দিষ্ট ছক অনুযায়ী চাওয়া হয়। মাঠপর্যায় থেকে এরই মধ্যে এ সংক্রান্ত তথ্য ইসিতে পৌঁছেছে। তবে নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর ইসিকে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি। আর সংসদে আইন পাস হওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে চার নির্বাচন কমিশন, প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও সচিব এখনো একসঙ্গে বসেননি।

এক নির্বাচন কমিশনার কালবেলাকে বলেন, নির্বাচন আয়োজন করতে কোনো পরীক্ষা আছে কি না, আবহাওয়া, বন্যাসহ নানা দিক বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে। আর নির্বাচন আয়োজনে নির্বাচন কমিশনের কতটুকু সময় লাগবে তা সংসদের এক প্রশ্নের জবাবে এরই মধ্যে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।

প্রথম কোন নির্বাচন আয়োজন করতে চান জানতে চাইলে এই নির্বাচন কমিশনার বলেন, ইউনিয়ন পরিষদ দিয়ে শুরু করতে পারি। পৌরসভা দিয়ে শুরু করতে পারি। সিটি করপোরেশন দিয়ে করতে পারি। একসঙ্গে দুটিও করতে পারি। আমরা একটু অপেক্ষা করছি যে, সরকারেরও একটা মনোভাব আছে। সরকারই আমাদের নির্বাচন আয়োজন করতে বলবে।

স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনে কমিশনের প্রস্তুতি কতটুকু রয়েছে এবং নির্বাচন কবে থেকে শুরু হবে জানতে চাইলে ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ কালবেলাকে বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন তো বছরব্যাপী হয়। সবগুলো তো একসঙ্গে হয় না। এই নির্বাচন ধাপে ধাপে হয়। এখন কোথা থেকে শুরু হবে, কবে শুরু হবে সেটি জানি না। আমাদের নির্বাচন প্রস্তুতি নিতে মোটামুটিভাবে ৪৫ থেকে ৬০ দিন সময় লাগে। স্থানীয় সরকার বিভাগ বলুক যে, এখান থেকে শুরু করুন।

তার আগে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের জন্য বিধিগুলো ঠিক করতে হবে উল্লেখ করে সংশোধিত আইনের কপি পেয়েছেন কি না জানতে চাইলে সচিব বলেন, গেজেটের কপি এখনো পাইনি। এ সপ্তাহে পেয়ে যাব আশা করি। তারপর আচরণ বিধিমালা দেখতে হবে।

চার ধরনের স্থানীয় সরকার নির্বাচনের বিধিমালা সংশোধনের কাজ একসঙ্গে নাকি একটি একটি করে শুরু করা হবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এখনো জানি না। কোনটা দিয়ে শুরু হবে, কখন শুরু হবে, এগুলো তো নির্ভর করে স্থানীয় সরকার বিভাগের ওপর। ওনারা কীভাবে করবেন, করতে চাচ্ছেন, ওনাদের সীমানা ঠিক আছে কি না, সীমানা নির্ধারণ করতে হলে তো ওনাদের করতে হবে। ওটা তো আর আমরা করব না।

তিনি বলেন, সংসদ নির্বাচনের আগে ভোটার তালিকা করা আছে। তালিকাটা সংসদীয় আসন অনুযায়ী করা আছে। এখন কনস্টিটুয়েন্সিকে ছোট করে বিভাজনগুলো ওনারাই ঠিক করে দেবেন। তাহলে আমরা সেভাবে ভোটার তালিকা করব।

কেনাকাটার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, কেনাকাটা তো করা আছে; কিন্তু সবগুলোর জন্য তো নেই। আরও হয়তো কিছু লাগবে। নির্বাচন যেহেতু ধাপে ধাপে হবে। তাই হয়ে যাবে।

স্থানীয় সরকারের আইনগুলো পাস হওয়ার পর দ্রুততম সময়ের মধ্যে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোতে নির্বাচন দেওয়া হবে বলে সংসদকে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।

ইসির সংশ্লিষ্ট শাখা থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সঙ্গে সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, উপজেলা পরিষদ ও জেলা পরিষদ নির্বাচনের জন্যও সব নির্বাচনী সামগ্রী সংগ্রহ করে রেখেছে কমিশন। শুধু ইউনিয়ন পরিষদের জন্য কেনাকাটা করতে হবে। সরকার চাইলে দ্রুততম সময়ে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের জন্যও সব সামগ্রী সংগ্রহ করা যাবে। যেহেতু সব নির্বাচন ধাপে ধাপে অনুষ্ঠিত হবে। তাই কমিশনের প্রস্তুতিতে কোনো ঘাটতি হবে না।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর দেশের বিভিন্ন সিটি করপোরেশনের মেয়র ও কাউন্সিলর এবং পৌরসভা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের অনেকে আত্মগোপনে চলে যান। কেউ কেউ গ্রেপ্তার হন। পরে জনপ্রতিনিধিরা আত্মগোপনে কিংবা পরিষদে না যাওয়ায় নাগরিক সেবা ব্যাহতের কারণ দেখিয়ে অন্তর্বর্তী সরকার ১২টি সিটি করপোরেশন, ৩৩০টি পৌরসভা, ৪৯৭টি উপজেলা পরিষদ এবং ৬৪টি জেলা পরিষদের জনপ্রতিনিধিদের অপসারণ করে। এর মধ্যে ১২টি সিটি করপোরেশনসহ বিভিন্ন জায়গায় প্রশাসক নিয়োগ করে। যদিও পরে আদালতে গিয়ে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র হন বিএনপি নেতা শাহাদাত হোসেন। গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে ১৭ ফেব্রুয়ারি সরকার গঠন করা বিএনপি সরকার পরে সব সিটি করপোরেশন ও জেলা পরিষদে নতুন করে প্রশাসক নিয়োগ দেয়।

ইউনিয়ন পরিষদের সর্বশেষ নির্বাচনের প্রথম ধাপে ২০২১ সালের ২১ জুন ভোট গ্রহণ হয়। পঞ্চম ধাপে নির্বাচন হয় ২০২২ সালের ৫ জানুয়ারি। প্রথম ধাপে অনুষ্ঠিত হওয়া ইউনিয়ন পরিষদের ক্ষণগণনা এরই মধ্যে শুরু হয়ে গেছে।

সূত্র আরও জানায়, গত ১৭ ফেব্রুয়ারি সব জেলা প্রশাসকের (ডিসি) কাছে চিঠি পাঠিয়েছে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়। তাতে দেশের সব ইউনিয়ন পরিষদে বর্তমানে কারা দায়িত্ব পালন করছেন, তা একটি ছকে তৈরি করে পাঠাতে বলা হয়েছে। কতটি ইউনিয়ন পরিষদে বর্তমানে চেয়ারম্যান দায়িত্ব পালন করছেন, কতটি ইউনিয়ন পরিষদে বর্তমানে প্যানেল চেয়ারম্যান দায়িত্ব পালন করছেন, কতটি ইউনিয়ন পরিষদে বর্তমানে প্রশাসক দায়িত্ব পালন করছেন— সে তথ্য পাঠাতে বলা হয়েছে ওই চিঠিতে।

অন্যদিকে, ২০২০ সালের ২৮ ডিসেম্বর প্রথম ধাপে ২৫টি পৌরসভায় ভোট হয়। পরে কয়েক ধাপে বাকিগুলোতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। সে হিসাবে পৌরসভার পাঁচ বছর মেয়াদ এরই মধ্যে শেষ হয়ে গেছে। আর ২০২২ সালের ১৭ অক্টোবর দেশে জেলা পরিষদ নির্বাচন হয়েছে। সেদিন ৬৪টি জেলার মধ্যে তিন পার্বত্য জেলা বাদে ৬১ জেলায় নির্বাচন হওয়ার কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত ভোটগ্রহণ হয় ৫৭ জেলায়।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

Bangal Kantha

স্থানীয় নির্বাচন নিয়ে ইসি সরকারের দিকে তাকিয়ে

আপডেট টাইম : ৫৯ মিনিট আগে

স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা ও সিটি করপোরেশন) নির্বাচন নির্দলীয় প্রতীকে ফিরছে। গত বৃহস্পতিবার এ সংক্রান্ত সংশোধিত আইন সংসদে পাস হয়েছে। এখন আনুষ্ঠানিকভাবে সংশোধিত আইনের গেজেট পেলে আচরণবিধিমালা ও নির্বাচন পরিচালনা বিধিমালা সংশোধনের উদ্যোগ নেবে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। স্থানীয় সরকার নির্বাচন দলীয় নাকি নির্দলীয় প্রতীকে হবে তার জন্য এতদিন সংসদের দিকে তাকিয়ে ছিল কমিশন। আইন সংশোধন হওয়ার পর এখন কবে এবং কোন নির্বাচন দিয়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু করা হবে তার জন্য সরকারের সিগন্যালের দিকে তাকিয়ে আছে ইসি। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

সূত্র জানায়, স্থানীয় সরকার নির্বাচন সাধারণত স্থানীয় সরকার বিভাগের অনুরোধে আয়োজন করে ইসি। সংসদ নির্বাচনের আগে ১ ফেব্রুয়ারি ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এবং চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচন আয়োজনের জন্য অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পক্ষ থেকে ইসিকে চিঠি দেওয়া হয়েছিল। এ ছাড়া নিজেদের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে মাঠপর্যায়েও চিঠি দিয়েছে কমিশন। গত ১০ মার্চ মাঠপর্যায়ে দেওয়া চিঠিতে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের তথ্য হালনাগাদ করার লক্ষ্যে অঞ্চলভিত্তিক সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, জেলা পরিষদ, উপজেলা পরিষদ ও ইউনিয়ন পরিষদের তথ্যাদি নির্দিষ্ট ছক অনুযায়ী চাওয়া হয়। মাঠপর্যায় থেকে এরই মধ্যে এ সংক্রান্ত তথ্য ইসিতে পৌঁছেছে। তবে নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর ইসিকে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি। আর সংসদে আইন পাস হওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে চার নির্বাচন কমিশন, প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও সচিব এখনো একসঙ্গে বসেননি।

এক নির্বাচন কমিশনার কালবেলাকে বলেন, নির্বাচন আয়োজন করতে কোনো পরীক্ষা আছে কি না, আবহাওয়া, বন্যাসহ নানা দিক বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে। আর নির্বাচন আয়োজনে নির্বাচন কমিশনের কতটুকু সময় লাগবে তা সংসদের এক প্রশ্নের জবাবে এরই মধ্যে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।

প্রথম কোন নির্বাচন আয়োজন করতে চান জানতে চাইলে এই নির্বাচন কমিশনার বলেন, ইউনিয়ন পরিষদ দিয়ে শুরু করতে পারি। পৌরসভা দিয়ে শুরু করতে পারি। সিটি করপোরেশন দিয়ে করতে পারি। একসঙ্গে দুটিও করতে পারি। আমরা একটু অপেক্ষা করছি যে, সরকারেরও একটা মনোভাব আছে। সরকারই আমাদের নির্বাচন আয়োজন করতে বলবে।

স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনে কমিশনের প্রস্তুতি কতটুকু রয়েছে এবং নির্বাচন কবে থেকে শুরু হবে জানতে চাইলে ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ কালবেলাকে বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন তো বছরব্যাপী হয়। সবগুলো তো একসঙ্গে হয় না। এই নির্বাচন ধাপে ধাপে হয়। এখন কোথা থেকে শুরু হবে, কবে শুরু হবে সেটি জানি না। আমাদের নির্বাচন প্রস্তুতি নিতে মোটামুটিভাবে ৪৫ থেকে ৬০ দিন সময় লাগে। স্থানীয় সরকার বিভাগ বলুক যে, এখান থেকে শুরু করুন।

তার আগে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের জন্য বিধিগুলো ঠিক করতে হবে উল্লেখ করে সংশোধিত আইনের কপি পেয়েছেন কি না জানতে চাইলে সচিব বলেন, গেজেটের কপি এখনো পাইনি। এ সপ্তাহে পেয়ে যাব আশা করি। তারপর আচরণ বিধিমালা দেখতে হবে।

চার ধরনের স্থানীয় সরকার নির্বাচনের বিধিমালা সংশোধনের কাজ একসঙ্গে নাকি একটি একটি করে শুরু করা হবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এখনো জানি না। কোনটা দিয়ে শুরু হবে, কখন শুরু হবে, এগুলো তো নির্ভর করে স্থানীয় সরকার বিভাগের ওপর। ওনারা কীভাবে করবেন, করতে চাচ্ছেন, ওনাদের সীমানা ঠিক আছে কি না, সীমানা নির্ধারণ করতে হলে তো ওনাদের করতে হবে। ওটা তো আর আমরা করব না।

তিনি বলেন, সংসদ নির্বাচনের আগে ভোটার তালিকা করা আছে। তালিকাটা সংসদীয় আসন অনুযায়ী করা আছে। এখন কনস্টিটুয়েন্সিকে ছোট করে বিভাজনগুলো ওনারাই ঠিক করে দেবেন। তাহলে আমরা সেভাবে ভোটার তালিকা করব।

কেনাকাটার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, কেনাকাটা তো করা আছে; কিন্তু সবগুলোর জন্য তো নেই। আরও হয়তো কিছু লাগবে। নির্বাচন যেহেতু ধাপে ধাপে হবে। তাই হয়ে যাবে।

স্থানীয় সরকারের আইনগুলো পাস হওয়ার পর দ্রুততম সময়ের মধ্যে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোতে নির্বাচন দেওয়া হবে বলে সংসদকে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।

ইসির সংশ্লিষ্ট শাখা থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সঙ্গে সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, উপজেলা পরিষদ ও জেলা পরিষদ নির্বাচনের জন্যও সব নির্বাচনী সামগ্রী সংগ্রহ করে রেখেছে কমিশন। শুধু ইউনিয়ন পরিষদের জন্য কেনাকাটা করতে হবে। সরকার চাইলে দ্রুততম সময়ে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের জন্যও সব সামগ্রী সংগ্রহ করা যাবে। যেহেতু সব নির্বাচন ধাপে ধাপে অনুষ্ঠিত হবে। তাই কমিশনের প্রস্তুতিতে কোনো ঘাটতি হবে না।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর দেশের বিভিন্ন সিটি করপোরেশনের মেয়র ও কাউন্সিলর এবং পৌরসভা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের অনেকে আত্মগোপনে চলে যান। কেউ কেউ গ্রেপ্তার হন। পরে জনপ্রতিনিধিরা আত্মগোপনে কিংবা পরিষদে না যাওয়ায় নাগরিক সেবা ব্যাহতের কারণ দেখিয়ে অন্তর্বর্তী সরকার ১২টি সিটি করপোরেশন, ৩৩০টি পৌরসভা, ৪৯৭টি উপজেলা পরিষদ এবং ৬৪টি জেলা পরিষদের জনপ্রতিনিধিদের অপসারণ করে। এর মধ্যে ১২টি সিটি করপোরেশনসহ বিভিন্ন জায়গায় প্রশাসক নিয়োগ করে। যদিও পরে আদালতে গিয়ে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র হন বিএনপি নেতা শাহাদাত হোসেন। গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে ১৭ ফেব্রুয়ারি সরকার গঠন করা বিএনপি সরকার পরে সব সিটি করপোরেশন ও জেলা পরিষদে নতুন করে প্রশাসক নিয়োগ দেয়।

ইউনিয়ন পরিষদের সর্বশেষ নির্বাচনের প্রথম ধাপে ২০২১ সালের ২১ জুন ভোট গ্রহণ হয়। পঞ্চম ধাপে নির্বাচন হয় ২০২২ সালের ৫ জানুয়ারি। প্রথম ধাপে অনুষ্ঠিত হওয়া ইউনিয়ন পরিষদের ক্ষণগণনা এরই মধ্যে শুরু হয়ে গেছে।

সূত্র আরও জানায়, গত ১৭ ফেব্রুয়ারি সব জেলা প্রশাসকের (ডিসি) কাছে চিঠি পাঠিয়েছে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়। তাতে দেশের সব ইউনিয়ন পরিষদে বর্তমানে কারা দায়িত্ব পালন করছেন, তা একটি ছকে তৈরি করে পাঠাতে বলা হয়েছে। কতটি ইউনিয়ন পরিষদে বর্তমানে চেয়ারম্যান দায়িত্ব পালন করছেন, কতটি ইউনিয়ন পরিষদে বর্তমানে প্যানেল চেয়ারম্যান দায়িত্ব পালন করছেন, কতটি ইউনিয়ন পরিষদে বর্তমানে প্রশাসক দায়িত্ব পালন করছেন— সে তথ্য পাঠাতে বলা হয়েছে ওই চিঠিতে।

অন্যদিকে, ২০২০ সালের ২৮ ডিসেম্বর প্রথম ধাপে ২৫টি পৌরসভায় ভোট হয়। পরে কয়েক ধাপে বাকিগুলোতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। সে হিসাবে পৌরসভার পাঁচ বছর মেয়াদ এরই মধ্যে শেষ হয়ে গেছে। আর ২০২২ সালের ১৭ অক্টোবর দেশে জেলা পরিষদ নির্বাচন হয়েছে। সেদিন ৬৪টি জেলার মধ্যে তিন পার্বত্য জেলা বাদে ৬১ জেলায় নির্বাচন হওয়ার কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত ভোটগ্রহণ হয় ৫৭ জেলায়।