ইসলামবিরোধী কোনো আইন সরকার যাতে বাস্তবায়ন না করে এবং সন্ত্রাস ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়ে দেশ পরিচালনা করার দাবি জানিয়েছেন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী।
প্রধানমন্ত্রীর সহকারী রাজনৈতিক সচিব মো. রাশেদ খাঁন শুক্রবার তাঁর সাথে সৌজন্য সাক্ষাতের সময় সরকারের কাছে এ দাবি জানান হেফাজতে আমির। একই সঙ্গে বর্তমান সরকারকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
দুপুরে জুমার আগে চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির আল-জামিয়াতুল ইসলামিয়া আজিজুল উলুম বাবুনগর মাদ্রাসায় হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির দেশের খ্যাতনামা প্রবীণ আলেমেদ্বীন আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন মো. রাশেদ খান।
সাক্ষাৎ শেষে গণমাধ্যমকর্মীদের তিনি বলেন, ইসলামকে পুঁজি করে ইসলামী লেবাস ধারণ করে যারা প্রকৃতপক্ষে ইসলামের ক্ষতি করছে, হেফাজতে ইসলামের শ্রদ্ধেয় আমির সেসব বিষয় মানুষের সামনে তুলে ধরেছেন। এতে বিভ্রান্ত হওয়া অনেক মানুষ সচেতন হয়েছেন। এ জন্য হেফাজতে ইসলামের আমিরকে তিনি ধন্যবাদ জানান।
তিনি বলেন, নির্বাচনের আগে ‘জান্নাতের টিকিট বিক্রি’র নামে মানুষকে যেভাবে বিভ্রান্ত করা হয়েছিল, হেফাজতে ইসলামের আমির সে বিষয়ে মানুষকে সচেতন করেছেন। এ জন্য বিএনপির পক্ষ থেকেও তাঁকে ধন্যবাদ জানানো হচ্ছে। ইসলামী মূল্যবোধের চর্চা, প্রচার ও প্রসারে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ এখনো অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
জামায়াতে ইসলামীর সমালোচনা করে রাশেদ খান বলেন, যারা ইসলামের কথা বলছেন, বিশেষ করে জামায়াতে ইসলামী – ইসলামী মূল্যবোধ কীভাবে প্রচার করতে হয়, তা হেফাজতে ইসলামের কাছ থেকে শেখা উচিত। তাঁর দাবি, জামায়াত ইসলামী মূল্যবোধ থেকে ‘যোজন যোজন দূরে সরে গেছে’। একদিকে ইসলামের কথা বলা, অন্যদিকে কার্যক্রম ও বক্তব্যে ভিন্ন অবস্থান নেওয়া – এটি দ্বিচারিতা বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলামী ইসলামী রাজনীতি করার দাবি করছে এবং শরিয়া আইন বাস্তবায়নের কথা বলছে। কিন্তু ইসলামী মূল্যবোধের কথা বলে ইসলামের বুকে ছুরি মারা যাবে না। মাঠে তাদের বিভিন্ন বক্তব্যে জাতি বিভ্রান্ত হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন রাশেদ খান।
বর্তমান সরকারের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, হেফাজতে ইসলামের আমির সরকারকে সহযোগিতা করার কথা বলেছেন। তাহলে সাত মাসের সরকারের বিরুদ্ধে লংমার্চ কেন – এই প্রশ্ন তিনি করেছেন। যারা একসঙ্গে আন্দোলন-সংগ্রাম করে ফ্যাসিবাদকে হটিয়েছেন, তাদের এখন ঐক্যবদ্ধ থেকে রাষ্ট্র পুনর্গঠনে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি।
রাশেদ খান অভিযোগ করেন, রাষ্ট্র পুনর্গঠনে মনোযোগ না দিয়ে জামায়াতে ইসলামী কীভাবে ক্ষমতায় যাওয়া যায়, সেই চেষ্টা করছে। ইসলামকে পুঁজি করে মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা চলছে বলেও দাবি করেন তিনি। তাঁর ভাষ্য, জামায়াতের ‘মুখে একটা, অন্তরে আরেকটা’ এবং তাদের আচরণে মুনাফেকি রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, জামায়াত মুখে সরকারকে সহযোগিতা করার কথা বললেও আওয়ামী লীগকে ফিরিয়ে এনে ১৯৯৬ সালের মতো আন্দোলন করার চেষ্টা করছে – এমন সন্দেহ ও সংশয় সবার মধ্যে রয়েছে। আওয়ামী লীগ ও জামায়াতের ভাষার মধ্যে বর্তমানে কোনো পার্থক্য নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
আওয়ামী লীগকে ফিরিয়ে আনার কোনো উদ্যোগ হলে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে রাজপথে থাকার কথা জানিয়ে রাশেদ খাঁন বলেন, ডিসেম্বর বিজয়ের মাস। আওয়ামী লীগকে ব্যাকআপ করার চেষ্টা হলে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে রাজপথে থাকবে বিএনপি।
এর আগে তিনি হেফাজতে ইসলামের আমির আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করে দোয়া নিয়েছেন। বাবুনগরী প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জন্য দোয়া করেছেন এবং বিএনপি ও দেশের মানুষকে ইসলামী মূল্যবোধের ওপর বিশ্বাস রাখার আহ্বান জানিয়েছেন।
সাতটি ইসলামিক দলের নতুন জোট গঠনকে কেন্দ্র করে তাঁর এ সাক্ষাৎ নয় বলেও জানান রাশেদ খান। তিনি বলেন, সাতটি ইসলামিক দলের নতুন জোট গঠনের বিষয়টি তিনি গণমাধ্যমে শুনেছেন। দোয়া নিতে তিনি যেমন এসেছেন, তেমনি সাতটি ইসলামিক দলের নেতারাও হেফাজতে ইসলামের আমিরের কাছে এসেছেন।
এ সময় চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মাহবুবের রহমান শামীম, ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাঈদ মোহাম্মদ ইব্রাহিম, ফটিকছড়ি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রবিউল আলম খান, জেলা কৃষক দলের সদস্যসচিব নাজিম উদ্দীন শাহীন, হেফাজতের নায়েবে আমির মাওলানা আইয়ুব বাবুনগরীসহ বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দরা উপস্থিত ছিলেন।

বাঙ্গালী কণ্ঠ ডেস্ক 





















