ঢাকা , শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬, ২৬ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মালয়েশিয়ায় বেসরকারি খাতে ৬৮ হাজারের বেশি প্রতিবন্ধী চাকরিপ্রার্থী নিয়োগ ভিসা নীতিমালার খসড়া পরিমার্জন ও চূড়ান্তকরণে মন্ত্রিসভা কমিটি গঠন রাঙামাটির সব প্রাথমিক বিদ্যালয় বন্ধ বৃহস্পতিবার রোহিঙ্গাদের ফেরাতে আন্তর্জাতিক চাপ বাড়ানোর তাগিদ প্রধানমন্ত্রীর বিনা খরচে কর্মী পাঠানোর ঘোষণা, বাস্তবায়নে কতটা আশার আলো চাকরিজীবীদের জন্য দুই দফায় মিলবে যে ছুটি প্রধানমন্ত্রীকে ঢাকার বাইরে রাত না কাটানোর পরামর্শ অলির সশস্ত্র বাহিনীর আধুনিকায়নে ৩ বাহিনীর জন্য বড় পরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।  তিনি বলেন, বৃহত্তর বগুড়াতে মনুষ্যবিহীন আকাশযান (ড্রোন) কারখানা স্থাপনের কার্যক্রম গ্রহণ করেছে সরকার। উন্নত ও শক্তিশালী আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, অত্যাধুনিক নজরদারী প্রযুক্তি সংযোজনের মাধ্যমে সামারিক বাহিনীর উন্নয়ন ও সক্ষমতা বৃদ্ধি জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনায় ‘ফাস্ট ট্র্যাক’ প্রক্রিয়ায় কাজ বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। বুধবার (৮ জুলাই) জাতীয় সংসদে এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন এমপির প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ সংসদে সভাপতিত্ব করেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, সেনাবাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধিতে আগামী ১০ বছরে ৮৬ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন। পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে সেনাবাহিনী আরও প্রযুক্তিনির্ভর, বহুমাত্রিক, আত্মনির্ভর ও যুদ্ধোপযোগী বাহিনীতে পরিণত হবে।  জাতীয় প্রতিরক্ষা, সীমান্ত সুরক্ষা এবং সার্বভৌমত্ব রক্ষায় কার্যকর ভূমিকা পালন করবে। নৌবাহিনীর জন্য আধুনিক ফ্রিগেট, করভেট, অফশোর প্যাট্রোল ভেসেল শ্রেণির যুদ্ধজাহাজ এবং সাবমেরিন সংযোজন করা হবে। প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, সামরিক শিল্পাঞ্চল (ডিআইজি) স্থাপনের পরিকল্পনা সরকারের বিবেচনাধীন রয়েছে। জাতীয় প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বৃদ্ধি, বৈদেশিক নির্ভরতা হ্রাস এবং দীর্ঘমেয়াদী প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের দেশীয় প্রতিরক্ষা শিল্পের বিকাশ, প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন এবং গবেষণা কার্যক্রম সম্প্রসারণের বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। অধিকতর উন্নত সামরিক প্রযুক্তি, ড্রোন প্রযুক্তি, সেন্সর ব্যবস্থা, ইলেকট্রনিক্স এবং প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম উৎপাদনে সক্ষমতা বৃদ্ধির পরিকল্পনা গ্রহণের কার্যক্রম চলমান রয়েছে জানিয়ে তারেক রহমান বলেছেন, বন্ধুপ্রতীম দেশগুলোর সঙ্গে প্রযুক্তি হস্তান্তর মাধ্যমে প্রতিরক্ষা শিল্পের উন্নয়নের কার্যক্রমও চলছে। নেত্রকোনা-৫ আসনের জামায়াতে ইসলামীন সংসদ সদস্য (এমপি) মাছুম মোস্তফার প্রশ্নে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সার্বভৌমত্ব, ভূখণ্ডগত অখণ্ডতা এবং জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিতে সেনাবাহিনীর সক্ষমতা উন্নয়ন ও আধুনিকায়ন অগ্রাধিকার পাচ্ছে। তিন বছর এবং সাত বছর মেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে সেনাবাহিনীর সামগ্রিক যুদ্ধ সক্ষমতা বহুগুণে বৃদ্ধি পাবে। কৃষি থেকে শিল্পে রুপান্তর বাংলাদেশের অর্থনৈতিক বিবর্তন এআই অভিনেত্রীকে নিয়ে সিনেমা নির্মাণের ঘোষণা

ওলামা লীগ আওয়ামী লীগের বিষফোঁড়া

সরকার বৈশাখী বোনাস চালু করলেও বর্ষবরণের অনুষ্ঠান নিষিদ্ধের দাবি করে বাঙালি সংস্কৃতির বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে ওলামা লীগ। তাদের দাবি, ভারতপন্থী তকমা ফেরাতেই তারা আওয়ামী লীগের হয়ে কাজ করছে। আলোচনা-সমালোচনার পরিপ্রেক্ষিতে সম্প্রতি আওয়ামী লীগের দু’জন দায়িত্বশীল নেতা প্রকাশ্যে বলেছেন, ওলামা লীগ আওয়ামী লীগের কেউ নয়। তাদের সঙ্গে আওয়ামী লীগের কোনো সম্পর্ক নেই। কিন্তু ওলামা লীগের নেতারা আওয়ামী লীগের সঙ্গে সম্পৃক্ততা দাবি করেই যাচ্ছেন। সংগঠনটির বক্তৃতা-বিবৃতি, মানববন্ধন ও সমাবেশে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতাদের প্রায়ই দেখা যাওয়ায় সাধারণ মানুষ মনে করছে ওলামা লীগ আওয়ামী লীগেরই অঙ্গ বা সহযোগী সংগঠন। অনুসন্ধান ও পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, উদার, গণতান্ত্রিক ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার রাজনৈতিক দল ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের বিষফোঁড়া ওলামা লীগ। একাধিক ইস্যুতে আওয়ামী লীগের আদর্শবিরোধী অবস্থান নিয়েছে সংগঠনটি। যেখানে প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা এবারই প্রথম বৈশাখী বোনাস চালু করেছেন, সেখানে ৯ এপ্রিল সংগঠনটি বর্ষবরণের অনুষ্ঠান নিষিদ্ধের দাবি করেছে। এমনকি বৈশাখী বোনাস বাতিল করে তা ঈদে মিলাদুন্নবীতে দেয়ার দাবি করে সংগঠনটি। এর আগে সরকারের প্রণীত নারীনীতি ও শিক্ষানীতির প্রকাশ্য বিরোধিতা করে সংগঠনটি। ‘জাতীয় শিক্ষানীতি’কে ‘ইসলামবিদ্বেষী’ অ্যাখ্যা দিয়ে এটি সংশোধনের দাবি জানায় তারা। একটি অনুষ্ঠানে ওলামা লীগের নেতারা বলেন, ‘শিক্ষামন্ত্রী আওয়ামী লীগের কাঁধে চড়ে তার নাস্তিক্যবাদী শিক্ষা দর্শন ৯৮ ভাগ মুসলমানের ওপর চাপিয়ে দিচ্ছে।’ বর্তমানে প্রক্রিয়াধীন ‘অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যর্পণ আইন’ বাতিল করার দাবিও জানায় সংগঠনটি।
সংগঠনটির এসব কর্মকাণ্ডের ভিত্তিতে ১১ এপ্রিল ‘জঙ্গিবাদ ও সাম্প্রদায়িকতা প্রতিরোধ মোর্চা’র একটি সমাবেশ থেকে ওলামা লীগের সঙ্গে আওয়ামী লীগের আদৌ কোনো সম্পর্ক আছে কিনা তা স্পষ্ট করার আহ্বান জানানো হয়। পাশাপাশি বিভিন্ন মহলের সমালোচনার পরিপ্রেক্ষিতে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ ১৩ এপ্রিল বিভিন্ন গণমাধ্যমকে বলেন, ‘ওলামা লীগের সঙ্গে আওয়ামী লীগের কোনো সম্পর্ক নেই।’ পরদিন দলটির প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ একটি অনুষ্ঠানে বলেন, ‘ওলামা লীগ আওয়ামী লীগের কেউ নয়।’ কিন্তু ওলামা লীগের সক্রিয় দুই অংশের নেতারাই দাবি করছেন, তারা আওয়ামী লীগের হয়ে কাজ করছেন। মিটিং-মিছিল, জনসভা, সমাবেশসহ আন্দোলনেও আওয়ামী লীগের সঙ্গে শরিক ছিলেন। এর এক অংশের সাধারণ সম্পাদক শেখ আবু হাসান শরীয়তপুরী যুগান্তরকে বলেন, তারা আওয়ামী লীগ আদর্শে বিশ্বাসী। বিভিন্ন সময় আওয়ামী লীগের কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন। আওয়ামী লীগের সঙ্গে আন্দোলন করেছেন। আওয়ামী লীগের একজন উপদেষ্টা, প্রচার সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ, দফতর সম্পাদক ড. আবদুস সোবহান গোলাপ এবং ধর্মবিষয়ক সম্পাদক আবু আবদুল্লার সঙ্গে তাদের একাধিক বিষয়ে যোগাযোগ রয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন। এছাড়া তারা প্রধানমন্ত্রীর ইফতার অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ পেয়ে অংশও নেন বলে উল্লেখ করেন ওলামা লীগের একাংশের এই নেতা। হেফাজতের ধ্বংসযজ্ঞের সময় আওয়ামী লীগের ওই উপদেষ্টার বাসায় বৈঠকে তিনি উপস্থিত ছিলেন বলে দাবি করেন।
শরীয়তপুরীর সরবরাহ করা কিছু ছবিতে ২০০৬ সালে তাকে ও তার সংগঠনের নেতাদের প্রয়াত আওয়ামী লীগ নেতা জিল্লুর রহমান এবং আবদুল জলিলের পেছনে দণ্ডায়মান দেখতে পাওয়া যায়। বৃহস্পতিবার একটি ইংরেজি দৈনিকে ছাপানো ছবিতে দেখা যায়, আওয়ামী লীগের একজন দায়িত্বশীল নেতা ওলামা লীগের শরীয়তপুরী অংশের মানববন্ধনে অংশ নিয়েছেন।
এসব বিষয়ে জানতে চাইলে মাহবুবউল আলম হানিফ, ড. হাছান মাহমুদ, সাংগঠনিক সম্পাদক আফম বাহাউদ্দিন নাছিম, ধর্মবিষয়ক সম্পাদক আবু আবদুল্লাহ, দফতর সম্পাদক ড. আবদুস সোবহান গোলাপ এক বাক্যে বলেন, ওলামা লীগের সঙ্গে আওয়ামী লীগের কোনো সম্পর্ক নেই। মাহবুবউল আলম হানিফ যুগান্তরকে বলেন, ঐতিহ্যবাহী ও এ দেশের প্রাচীন রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের সঙ্গে ওলামী লীগ নামের কোনো সংগঠনের সঙ্গে কোনো ধরনের সম্পর্ক নেই। ড. হাছান মাহমুদও একই কথা বলেন। আফম বাহাউদ্দিন নাছিম যুগান্তরকে বলেন, আওয়ামী লীগ আপাদমস্তক অসাম্প্রদায়িক দল। ওলামা লীগ নামে যে সংগঠন আওয়ামী লীগের সঙ্গে সম্পৃক্ততা দাবি করছে, তারা আওয়ামী লীগের আদর্শে বিশ্বাসী নয়। এটি আওয়ামী লীগ স্বীকৃত কোনো সংগঠনও নয়। কেউ কোথাও থেকে আওয়ামী লীগের সঙ্গে সম্পর্ক আছে দাবি করলেই সেটা সত্যি হয়ে যায় না। আর ধর্মবিষয়ক সম্পাদক আবু আবদুল্লাহ যুগান্তরকে বলেন, একসময় শেখ আবু হাসান শরীয়তপুরী তার কাছে এসেছিলেন। তিনি শরিয়তপুরীর কথা শোনেন কিন্তু এরপর আর কখনও তিনি তাদের সাক্ষাৎ দেননি। বুদ্ধি-পরামর্শ দেয়ার প্রশ্নই আসে না। ওলামা লীগের সঙ্গে কোনো ধরনের সম্পর্ক নেই বলে জানান তিনি। আর দফতর সম্পাদক ড. আবদুস সোবহান গোলাপ ওলামা লীগের এমন দাবিকে ফালতু কথা বলে উড়িয়ে দেন। উল্লিখিত নেতারা বলেন, যে সংগঠন আওয়ামী লীগের কেউ নয়, তাদের নিয়ে তাদের মাথাব্যথাও নেই। তাই তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ারও কিছু নেই। ওলামা লীগের আরেকাংশের সভাপতি ইসমাইল হোসেন বিন হেলালী এক-এগারোর প্রেক্ষাপটে আওয়ামী লীগের কর্মসূচিতে সক্রিয় থাকার দাবি করেন।
তিনি ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এবং দুর্যোগ ও ত্রাণ ব্যবস্থাপনামন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়ার নাম উল্লেখ করে তাকে এ বিষয়ে জিজ্ঞেস করতে বলেন। এ বিষয়ে মন্তব্যের জন্য ফোন করলে মায়া বলেন, তিনি ফোনে কোনো বক্তব্য দেবেন না। তবে তিনি ওলামা লীগের সঙ্গে সস্পর্কের কথা অস্বীকার করেন। ওলামা লীগের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ড বিভিন্ন মহলে সমালোচনার জন্ম দেয়। একাধিক সংগঠন সমাবেশ করে ওলামা লীগের বক্তব্যের প্রতিবাদের পাশাপাশি আওয়ামী লীগকে এ নিয়ে অবস্থান স্পষ্ট করার আহ্বান জানায়। এক কলাম লেখক লেখেন, ‘আওয়ামী লীগ কি ওলামা লীগের অসহযোগী সংগঠন’? তাছাড়া ওলামা লীগের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও তদবিরসহ নানা অভিযোগ রয়েছে। এদিকে ওলামা লীগের ইতিহাস ঘেঁটে দেখা যায়, স্বাধীনতা-পূর্ববর্তী সময়েই ওলামা-মাশায়েখদের সংগঠিত করতে ‘আওয়ামী ওলামা পার্টি’ নামের একটি সংগঠন জন্ম নেয়, যা মুক্তিযুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে সরকারকে ইসলামী ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠাসহ বিভিন্ন কাজে সহযোগিতা করে। কিন্তু পরবর্তীকালে এটি নিষ্ক্রিয় হয়ে যায়। তবে ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগের আন্দোলনের সময় ওলামা লীগ নামে পুনঃপ্রতিষ্ঠা হয় বলে আবু হাসান শরীয়তপুরী দাবি করেন। বিভিন্ন সময়ে এই সংগঠনের সঙ্গে মাওলানা হাবিবুল্লাহ কাঁচপুরী, মাওলানা ইসমাইল হোসেন নামের বেশ কিছু ব্যক্তির সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

Bangal Kantha

মালয়েশিয়ায় বেসরকারি খাতে ৬৮ হাজারের বেশি প্রতিবন্ধী চাকরিপ্রার্থী নিয়োগ

ওলামা লীগ আওয়ামী লীগের বিষফোঁড়া

আপডেট টাইম : ০৫:০৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৭ এপ্রিল ২০১৬
সরকার বৈশাখী বোনাস চালু করলেও বর্ষবরণের অনুষ্ঠান নিষিদ্ধের দাবি করে বাঙালি সংস্কৃতির বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে ওলামা লীগ। তাদের দাবি, ভারতপন্থী তকমা ফেরাতেই তারা আওয়ামী লীগের হয়ে কাজ করছে। আলোচনা-সমালোচনার পরিপ্রেক্ষিতে সম্প্রতি আওয়ামী লীগের দু’জন দায়িত্বশীল নেতা প্রকাশ্যে বলেছেন, ওলামা লীগ আওয়ামী লীগের কেউ নয়। তাদের সঙ্গে আওয়ামী লীগের কোনো সম্পর্ক নেই। কিন্তু ওলামা লীগের নেতারা আওয়ামী লীগের সঙ্গে সম্পৃক্ততা দাবি করেই যাচ্ছেন। সংগঠনটির বক্তৃতা-বিবৃতি, মানববন্ধন ও সমাবেশে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতাদের প্রায়ই দেখা যাওয়ায় সাধারণ মানুষ মনে করছে ওলামা লীগ আওয়ামী লীগেরই অঙ্গ বা সহযোগী সংগঠন। অনুসন্ধান ও পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, উদার, গণতান্ত্রিক ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার রাজনৈতিক দল ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের বিষফোঁড়া ওলামা লীগ। একাধিক ইস্যুতে আওয়ামী লীগের আদর্শবিরোধী অবস্থান নিয়েছে সংগঠনটি। যেখানে প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা এবারই প্রথম বৈশাখী বোনাস চালু করেছেন, সেখানে ৯ এপ্রিল সংগঠনটি বর্ষবরণের অনুষ্ঠান নিষিদ্ধের দাবি করেছে। এমনকি বৈশাখী বোনাস বাতিল করে তা ঈদে মিলাদুন্নবীতে দেয়ার দাবি করে সংগঠনটি। এর আগে সরকারের প্রণীত নারীনীতি ও শিক্ষানীতির প্রকাশ্য বিরোধিতা করে সংগঠনটি। ‘জাতীয় শিক্ষানীতি’কে ‘ইসলামবিদ্বেষী’ অ্যাখ্যা দিয়ে এটি সংশোধনের দাবি জানায় তারা। একটি অনুষ্ঠানে ওলামা লীগের নেতারা বলেন, ‘শিক্ষামন্ত্রী আওয়ামী লীগের কাঁধে চড়ে তার নাস্তিক্যবাদী শিক্ষা দর্শন ৯৮ ভাগ মুসলমানের ওপর চাপিয়ে দিচ্ছে।’ বর্তমানে প্রক্রিয়াধীন ‘অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যর্পণ আইন’ বাতিল করার দাবিও জানায় সংগঠনটি।
সংগঠনটির এসব কর্মকাণ্ডের ভিত্তিতে ১১ এপ্রিল ‘জঙ্গিবাদ ও সাম্প্রদায়িকতা প্রতিরোধ মোর্চা’র একটি সমাবেশ থেকে ওলামা লীগের সঙ্গে আওয়ামী লীগের আদৌ কোনো সম্পর্ক আছে কিনা তা স্পষ্ট করার আহ্বান জানানো হয়। পাশাপাশি বিভিন্ন মহলের সমালোচনার পরিপ্রেক্ষিতে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ ১৩ এপ্রিল বিভিন্ন গণমাধ্যমকে বলেন, ‘ওলামা লীগের সঙ্গে আওয়ামী লীগের কোনো সম্পর্ক নেই।’ পরদিন দলটির প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ একটি অনুষ্ঠানে বলেন, ‘ওলামা লীগ আওয়ামী লীগের কেউ নয়।’ কিন্তু ওলামা লীগের সক্রিয় দুই অংশের নেতারাই দাবি করছেন, তারা আওয়ামী লীগের হয়ে কাজ করছেন। মিটিং-মিছিল, জনসভা, সমাবেশসহ আন্দোলনেও আওয়ামী লীগের সঙ্গে শরিক ছিলেন। এর এক অংশের সাধারণ সম্পাদক শেখ আবু হাসান শরীয়তপুরী যুগান্তরকে বলেন, তারা আওয়ামী লীগ আদর্শে বিশ্বাসী। বিভিন্ন সময় আওয়ামী লীগের কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন। আওয়ামী লীগের সঙ্গে আন্দোলন করেছেন। আওয়ামী লীগের একজন উপদেষ্টা, প্রচার সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ, দফতর সম্পাদক ড. আবদুস সোবহান গোলাপ এবং ধর্মবিষয়ক সম্পাদক আবু আবদুল্লার সঙ্গে তাদের একাধিক বিষয়ে যোগাযোগ রয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন। এছাড়া তারা প্রধানমন্ত্রীর ইফতার অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ পেয়ে অংশও নেন বলে উল্লেখ করেন ওলামা লীগের একাংশের এই নেতা। হেফাজতের ধ্বংসযজ্ঞের সময় আওয়ামী লীগের ওই উপদেষ্টার বাসায় বৈঠকে তিনি উপস্থিত ছিলেন বলে দাবি করেন।
শরীয়তপুরীর সরবরাহ করা কিছু ছবিতে ২০০৬ সালে তাকে ও তার সংগঠনের নেতাদের প্রয়াত আওয়ামী লীগ নেতা জিল্লুর রহমান এবং আবদুল জলিলের পেছনে দণ্ডায়মান দেখতে পাওয়া যায়। বৃহস্পতিবার একটি ইংরেজি দৈনিকে ছাপানো ছবিতে দেখা যায়, আওয়ামী লীগের একজন দায়িত্বশীল নেতা ওলামা লীগের শরীয়তপুরী অংশের মানববন্ধনে অংশ নিয়েছেন।
এসব বিষয়ে জানতে চাইলে মাহবুবউল আলম হানিফ, ড. হাছান মাহমুদ, সাংগঠনিক সম্পাদক আফম বাহাউদ্দিন নাছিম, ধর্মবিষয়ক সম্পাদক আবু আবদুল্লাহ, দফতর সম্পাদক ড. আবদুস সোবহান গোলাপ এক বাক্যে বলেন, ওলামা লীগের সঙ্গে আওয়ামী লীগের কোনো সম্পর্ক নেই। মাহবুবউল আলম হানিফ যুগান্তরকে বলেন, ঐতিহ্যবাহী ও এ দেশের প্রাচীন রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের সঙ্গে ওলামী লীগ নামের কোনো সংগঠনের সঙ্গে কোনো ধরনের সম্পর্ক নেই। ড. হাছান মাহমুদও একই কথা বলেন। আফম বাহাউদ্দিন নাছিম যুগান্তরকে বলেন, আওয়ামী লীগ আপাদমস্তক অসাম্প্রদায়িক দল। ওলামা লীগ নামে যে সংগঠন আওয়ামী লীগের সঙ্গে সম্পৃক্ততা দাবি করছে, তারা আওয়ামী লীগের আদর্শে বিশ্বাসী নয়। এটি আওয়ামী লীগ স্বীকৃত কোনো সংগঠনও নয়। কেউ কোথাও থেকে আওয়ামী লীগের সঙ্গে সম্পর্ক আছে দাবি করলেই সেটা সত্যি হয়ে যায় না। আর ধর্মবিষয়ক সম্পাদক আবু আবদুল্লাহ যুগান্তরকে বলেন, একসময় শেখ আবু হাসান শরীয়তপুরী তার কাছে এসেছিলেন। তিনি শরিয়তপুরীর কথা শোনেন কিন্তু এরপর আর কখনও তিনি তাদের সাক্ষাৎ দেননি। বুদ্ধি-পরামর্শ দেয়ার প্রশ্নই আসে না। ওলামা লীগের সঙ্গে কোনো ধরনের সম্পর্ক নেই বলে জানান তিনি। আর দফতর সম্পাদক ড. আবদুস সোবহান গোলাপ ওলামা লীগের এমন দাবিকে ফালতু কথা বলে উড়িয়ে দেন। উল্লিখিত নেতারা বলেন, যে সংগঠন আওয়ামী লীগের কেউ নয়, তাদের নিয়ে তাদের মাথাব্যথাও নেই। তাই তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ারও কিছু নেই। ওলামা লীগের আরেকাংশের সভাপতি ইসমাইল হোসেন বিন হেলালী এক-এগারোর প্রেক্ষাপটে আওয়ামী লীগের কর্মসূচিতে সক্রিয় থাকার দাবি করেন।
তিনি ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এবং দুর্যোগ ও ত্রাণ ব্যবস্থাপনামন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়ার নাম উল্লেখ করে তাকে এ বিষয়ে জিজ্ঞেস করতে বলেন। এ বিষয়ে মন্তব্যের জন্য ফোন করলে মায়া বলেন, তিনি ফোনে কোনো বক্তব্য দেবেন না। তবে তিনি ওলামা লীগের সঙ্গে সস্পর্কের কথা অস্বীকার করেন। ওলামা লীগের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ড বিভিন্ন মহলে সমালোচনার জন্ম দেয়। একাধিক সংগঠন সমাবেশ করে ওলামা লীগের বক্তব্যের প্রতিবাদের পাশাপাশি আওয়ামী লীগকে এ নিয়ে অবস্থান স্পষ্ট করার আহ্বান জানায়। এক কলাম লেখক লেখেন, ‘আওয়ামী লীগ কি ওলামা লীগের অসহযোগী সংগঠন’? তাছাড়া ওলামা লীগের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও তদবিরসহ নানা অভিযোগ রয়েছে। এদিকে ওলামা লীগের ইতিহাস ঘেঁটে দেখা যায়, স্বাধীনতা-পূর্ববর্তী সময়েই ওলামা-মাশায়েখদের সংগঠিত করতে ‘আওয়ামী ওলামা পার্টি’ নামের একটি সংগঠন জন্ম নেয়, যা মুক্তিযুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে সরকারকে ইসলামী ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠাসহ বিভিন্ন কাজে সহযোগিতা করে। কিন্তু পরবর্তীকালে এটি নিষ্ক্রিয় হয়ে যায়। তবে ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগের আন্দোলনের সময় ওলামা লীগ নামে পুনঃপ্রতিষ্ঠা হয় বলে আবু হাসান শরীয়তপুরী দাবি করেন। বিভিন্ন সময়ে এই সংগঠনের সঙ্গে মাওলানা হাবিবুল্লাহ কাঁচপুরী, মাওলানা ইসমাইল হোসেন নামের বেশ কিছু ব্যক্তির সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়।