,



হোল্ডারদের জার্সিতে ‘ব্ল্যাক লাইভস ম্যাটার

বাঙালী কণ্ঠ ডেস্কঃ ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়েস্ট ইন্ডিজের টেস্ট সিরিজ এমনিতেই ‘স্পেশাল’। চারমাস স্থবির থাকার পর এই সিরিজ দিয়েই ফিরছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট। সেই স্পেশাল সিরিজে বাড়তি মশলাও যোগ হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রে পুলিশি নির্যাতনে জর্জ ফ্লয়েডের মৃত্যুর ঘটনার পর শুরু হওয়া বর্ণবাদ বিরোধী অবস্থানের ঢেউ লাগছে এই সিরিজেও। ওয়েস্ট ইন্ডিজ দল নিজেদের জার্সিতে ‘ব্ল্যাক লাইভস ম্যাটার’ স্লােগানটি খোদাই করেই খেলতে নামছে। এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ক্রিকেট ওয়েস্ট ইন্ডিজ জানিয়েছে, খেলার মাঠে প্রতিবাদ ও সচেতনতা তৈরির প্রয়াস হিসেবে এই উদ্যোগ নিয়েছে তারা। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বর্ণবাদ বিরোধী এমন উদ্যোগে অনুমতি দিয়েছে আইসিসিও।
ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলের এই ইংল্যান্ড সফর শুরুর সংবাদ সম্মেলনে অধিনায়ক জেসন হোল্ডার বলেছিলেন, শুধু মুখের কথায় তাদের প্রতিবাদ থেমে থাকবে না, আরও কিছু তারা করতে চান। সেই ভাবনা থেকেই এসেছে জার্সিতে ‘ব্ল্যাক লাইভস ম্যাটার’ লোগো নিয়ে নামার পদক্ষেপ। আনুষ্ঠানিক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ক্যারিবিয়ান টেস্ট অধিনায়ক জেসন হোল্ডার জানালেন, সময়ের ডাক শুনেই তারা এই উদ্যোগ নিয়েছেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি আমাদের দায়িত্ব হচ্ছে বর্ণবাদ বিরোধী সচেতনতা তৈরি করা। খেলাধুলার ইতিহাসে ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের জন্য এটা গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত। আমরা ইংল্যান্ডে উইজডেন ট্রফি ধরে রাখতে এসেছি কিন্তু এই সময়ে বিশ্বে যা চলছে তা নিয়েও আমরা ভাবিত। ন্যায় বিচার ও সমতার জন্য আমরাও লড়ছি।’
আলিশা হোসনাহর নকশা করা বিশেষ জার্সি পরে ৮ জুলাই থেকে সাউদাম্পটনে স্বাগতিকদের বিপক্ষে নামবে হোল্ডার বাহিনী। দলপতি জানান, কেবল একটা দায়সারা প্রতিবাদ হিসেবেই নয়। সব মানুষের সমতার জন্য তাদের এই লড়াই চলমান থাকবে, ‘হালকা চালে আমরা এই সিদ্ধান্ত নেইনি। আমরা জানি গায়ের রঙ দেখে লোকে মানুষকে বিচার করে, তখন সেটা পীড়াদায়ক হয়। কাজেই আমাদের আবেদন বিশদ প্রেক্ষাপটে। অবশ্যই সব মানুষের সমতা থাকতে হবে, একতাবদ্ধ হতে হবে। মানুষ হিসেবে সেটা অর্জনের আগে আমরা চুপ হতে পারি না। গায়ের রঙ দেখে যাতে কাউকে বিচার করা না হয় তা প্রতিষ্ঠা করতে হবে।’
তবে শুধু প্রতিবাদ জানিয়ে কিংবা আন্দোলন করে বর্ণবাদ থামানো যাবে না বলে মনে করেন ক্যারিবিয়ান অধিনায়ক। বিষয়টির প্রতি আরও বেশি গুরুত্ব দিয়ে ম্যাচ-ফিক্সিং করলে কিংবা ডোপ টেস্টে পজিটিভ হলে যেমন শাস্তি দেওয়া হয়, ঠিক তেমন শাস্তি চান তিনি। স¤প্রতি বিবিসি স্পোর্টসের সঙ্গে আলাপকালে বর্ণবাদকে আরও গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়ার কথা বলেন হোল্ডার, ‘আমার কাছে মনে হয় না বর্ণবাদের শাস্তির সঙ্গে ম্যাচ ফিক্সিং কিংবা ডোপিংয়ের (শাস্তির) কোনো পার্থক্য থাকা উচিত। আমি ক্রীড়াঙ্গনে এসব ইস্যু প্রায়ই দেখি। আমাদের এসব কিছু সমানভাবে দেখা দরকার।’
করোনাভাইরাস মহামারির মধ্যেও যুক্তরাষ্ট্রে পুলিশের নির্মম নির্যাতনে জর্জ ফ্লয়েড নামক এক কৃষ্ণাঙ্গ ব্যক্তির মৃত্যুর ঘটনা তুমুল আলোচিত হয়। বিশ্বজুড়ে চলে প্রতিবাদ। বিশেষ করে বড় ঢেউ লাগে ক্রীড়াঙ্গনে। ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ ফুটবলে দলগুলির জার্সিতে যে ডিজাইনের ‘ব্ল্যাক লাইভস ম্যাটার’ লোগো ব্যবহার করা হচ্ছে। অনেক কৃষ্ণাঙ্গ ক্রীড়াবিদ নিজেদের হেনস্থার কথা জানান। ঘরে ও বাইরে বর্ণ বিদ্বেষের স্বীকার হয়েছেন বলে অনেকবারই অভিযোগ করেছেন ইংলিশ পেসার জোফরা আর্চার। এছাড়া, পাকিস্তানি বংশোদ্ভ‚ত হওয়ায় ভারতীয় সমর্থকদের কাছ থেকে ২০১৪ সালে বর্ণবাদী আচরণ পেয়েছেন বলে অভিযোগ করেছিলেন মঈন আলী। বর্ণবাদ বিরোধী আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানাতে এই সিরিজে ইংলিশ ক্রিকেটাররাও কোনো উদ্যোগ নেবেন বলে আলোচনা চলছে। ক্রিকেটে বরাবরই বর্ণবাদকে কঠোরভাবে দেখে আইসিসি। বর্ণবাদের কারণে দীর্ঘসময় আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিষিদ্ধ ছিল দক্ষিণ আফ্রিকা। আগামী ৮ জুলাই শুরু হবে অনেক মাহাত্মের ৩ ম্যাচের এই টেস্ট সিরিজ।

Print Friendly, PDF & Email

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর