,



অল্পের জন্য সেঞ্চুরি মিস আফিফের, শান্ত একাদশের সংগ্রহ ২৬৪

বাঙালী কণ্ঠ ডেস্কঃ আফিফ হোসেন ধ্রুব নিজেকে দূর্ভাগা ভাবতেই পারেন। অনেক ভাল খেলেও বিসিবি প্রেসিডেন্টস কাপে একটি নিশ্চিত সেঞ্চুরি হাতছাড়া হলো এ তরুণের।

শনিবার বিকেলে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ একাদশের বিপক্ষে শতরানের একদম দোরগোড়ায় গিয়েও রান আউটের শিকার হয়েছেন এ বাঁ-হাতি মিডল অর্ডার। সিনিয়র পার্টনার মুশফিকুর রহীমের সাথে ভুল বোঝাবুঝিতে ৯৮ রানে রান আউট হয়ে সাজঘরে ফেরেন আফিফ হোসেন ধ্রুব।

মাত্র ৩১ রানে তিন টপ অর্ডার সৌম্য সরকার (৮), পাভেজ হোসেন ইমন (১৯) আর নাজমুল হোসেন শান্ত (৩) ফিরে যাবার পর শক্ত হাতে হাল ধরেন আফিফ হোসে ধ্রুব। অভিজ্ঞ মুশফিকুর রহীমকে নিয়ে বিপর্যয় কাটিয়ে দলকে এগিয়ে দেন অনেকটা পথ। এই জুটির ওপর ভর করেই মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ একাদশের বিপক্ষে নাজমুল হোসেন শান্ত একাদশের স্কোর দাঁড়ায় ২৬৪ রান।

১৪৭ রানের মাথায় জুটি ভাঙ্গে, আফিফ রান আউট হওয়ার মধ্য দিয়ে। সেটা ছিল ৩৯তম (৩৮.৫) ওভারের ঘটনা। ধ্রুব ছিলেন ননস্ট্রাইক প্রান্তে। মুশফিক স্কোয়ার লেগে ঘুরিয়ে সিঙ্গেলস নিতে গিয়ে কয়েক পা এগিয়েছিলেন। আফিফ হোসেন অনেকদুর দৌড়ে গিয়ে আর ফিরতে পারেননি। অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ শর্ট মিড উইকেট থেকে বল ধরে ছুঁড়ে দেন বোলার মেহেদি হাসান মিরাজের কাছে। তাতেই ভাগ্য বিপর্যয় আফিফের।

তিনি যখন উইকেটে যান, তখন দল রীতিমত চাপে; কিন্তু এরমধ্যেও আফিফ খেলেছেন শতভাগ আস্থার সাথে। তেড়েফুড়ে না ব্যাট ছুড়ে আলগা বলের বিপক্ষে রান করার চেষ্টা ছিল। তারপরও প্রথম পঞ্চাশ করতে একটু বেশি বল খেলে ফেলেন।

৬৯ বলে ৬ বাউন্ডারিতে পূর্ণ হয় ফিফটি; কিন্তু পরে রানের গতি বাড়িয়ে ফেলেন। ৬ চারের সাথে এক ছক্কার মিশেলে শেষ ৪৮ রান করেন ৩৮ বলে।

ওদিকে আগের ম্যাচে শতরান করা মুশফিকুর রহীম এদিন আবার হাফ সেঞ্চুরি করেছেন। তবে আজকের পঞ্চাশে ভাগ্য অনুকুলে ছিল মিস্টার ডিপেন্ডেবলের। মাত্র ১ রানেই ফিরে যেতে পারতেন সাজঘরে।

পেসার সুমন খানের দ্রুত গতির বলে অফস্টাম্পের বাইরে ড্রাইভ করতে গিয়ে মাঝব্যাটে আনতে পারেননি। বল ব্যাটের বাইরের কানায় লেগে চলে যায় প্রথম স্লিপে; কিন্তু মেহেদি হাসান মিরাজ তা দু’হাতে ধরেও ফেলে দেন। ১ রানে জীবন পাওয়া মুশফিক শেষ পর্যন্ত করেন ৫২ রান।

তবে সেটা ঠিক মুশফিকের চিরচেনা রূপে নয়। হাফ সেঞ্চুরিতে ছিল একটি মাত্র বাউন্ডারি। ৪৭ থেকে কভার দিয়ে বাউন্ডারি হাঁকিয়ে হাফ সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন। ওিই ৪৭ রানের ৪০ ছিল শুধু সিঙ্গেলস দিয়ে। বাকি ৭ রান করেন দুটি ডাবলস ও একটি তিনের মার দিয়ে। শেষ পর্যন্ত ইবাদত হোসেনের বলে পুল খেলতে গিয়ে কট বিহাইন্ড হয়েছেন ৫২ রানে (৯৩ বলে)।

এর আগে সৌম্য (৮) ফিরে যান পেসার রুবেল হোসেনের এক ফুট দুরের ডেলিভারি তাড়া করে। বল তার ব্যাটের ভিতরে লেগে এসে উইকেটে গিয়ে আঘাত হানে। কয়েকটি ভাল ও চোখ জুড়ানো শটস খেলা পারভেজ হোসেন ইমন আউট হয়েছেন ১৯ রানে। অধিনায়ক শান্তও প্লেইড অন হয়েছেন অফ স্ট্যাস্পের কয়েক ইঞ্চি বাইরের বলকে তাড়া করে।

আফিফ আর মুশফিক শুরুর ধাক্কা সামলে যেখানে থামেন, সেখান থেকে আরও এগিয়ে দেন ইরফান শুক্কুর। তাদের হাত ধরে নাজমুল শান্ত বাহিনীর রান আড়াই শ পেরিয়ে যায়। ইরফান শুক্কুর ৩১ বলে ৪৮ নট আউট থাকেন। প্রথম ম্যাচের অপর হাফ সেঞ্চুরিয়ান তৌহিদ হৃদয় করেন ২৭ রান।

আগের ম্যাচেই মিলেছিল শেরে বাংলার উইকেট ভালো হবার আভাস। আজ উইকেট ছিল আরও ভাল। বল পড়ে মোটামুটি ব্যাটে আসায় ব্যাটসম্যানদের স্ট্রোক খেলা অনেকটাই সহজ হয়ে গেছে। আর তাই চার ও ছক্কার ফুলঝুরিও বেড়েছে অনেক। সে কারণেই টস হেরে প্রথম ব্যাটিং করা নাজমুল হোসেন শান্তর দলের রান ২৬৪।

আসরের শুরু থেকে ভাল বোলিং করা পেসার রুবেল আজও যথারীতি সমীহ জাগিয়েছেন। আসরে প্রথমবারের মত আড়াইশোর বেশি রান ওঠায় রুবেল ৩ উইকেট পেলেও রান দিয়ে ফেলেছেন ৫৩। অপর পেসার ইবাদতের নামের পাশে ২ উইকেট জমা পড়লেও দিয়েছেন ৬০ রান।

Print Friendly, PDF & Email

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর