,



হেভিওয়েটের সঙ্গে মনোনয়ন দৌড়ে ‘হালকা-পাতলা’ গিয়াস

বাঙালী কণ্ঠ ডেস্কঃ  ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন। তিনি আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য। চট্টগ্রাম -১ আসন মিরসরাই থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য ও গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত একজন মন্ত্রী।

দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই আসনে কোনো প্রার্থী না থাকায় তিনি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন তালিকায়  হেভিওয়েট প্রার্থী হিসেবে তার নামই ঘুরে-ফিরে আলোচনায় আসছে।তবে এ আসন থেকে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী সাবেক উপজেলাচেয়ারম্যান গিয়াস উদ্দিন। মোশাররফের কাজের সমালোচনা করে  এলাকায় তিনিই জনপ্রিয় বলে দাবি করেছেন।

গিয়াস উদ্দিনের অভিযোগ, উপজেলা নির্বাচনে তাকে ফেল করানোর জন্য মোশাররফ হোসেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আতাউর রহমানকে প্রার্থী করেছিলেন। এতে করে আওয়ামী লীগ ঘরনার কোনো প্রার্থী জয়লাভ না করে বিএনপির প্রার্থী নুরুল আমীন জয়লাভ করেছিলেন। এছাড়া ২০১২সালের উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনে  গিয়াসউদ্দিনকে পদবঞ্চিত করে শুধুমাত্র সদস্য পদে রাখা হয়।

মন্ত্রীর সমালোচনা করে গিয়াস উদ্দিন বলেন, ‘মীরসরাইয়ে থেকে একজন পূর্ণমন্ত্রী হলেও এ এলাকার রাস্তাঘাট, অবকাঠামোগত উন্নয়ন কিছুই হয়নি।করেরহাট অলিনগর দীর্ঘরাস্তা এখনো ঠিক হয়নি। যুগযুগ ধরে এ রাস্তাটা সংস্কারবিহীন পড়ে আছে। ইকোনোমিক জোন যেটি তৈরি করা হচ্ছে, সেখানে সবমন্ত্রীর লোকজনকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।ঠিকাদার থেকে শুরু করে সবকিছু তত্ত্বাবধান করছেন আতাউর রহমান। কাজ বাদ দিয়ে আতাউর রমানের লোকজন লুটপাটে ব্যস্ত বলে জানান গিয়াস উদ্দিন।এছাড়া ইছাখালী  চরে ইকোনোমিক জোনের আশেপাশে রয়েছে মাদকের আড্ডা।করেরহাট স্মাগলিং জোনহিসেবে পরিচিতি পেয়েছে।

এছাড়াও টেকেরহাট রোডের সংস্কার না হওয়ায় দুর্ভোগে  এ এলাকার  হাজারো জনগণ।অজোপাড়া গাঁয়েও ইয়াবা, ফেনসিডিল ঢুকে পড়েছে।

গিয়াস উদ্দিন বলেন, মন্ত্রীর ছত্রছায়ায় থাকা দুই গ্রুপ আতাহার ও জাহাঙ্গীরের মধ্যে দ্বন্দ্ব এখন প্রকট।আর এ দ্বন্দ্বই মীরেরসরাই উপজেলা আওয়ামী লীগকে বিভাজিত করেছে।

আগামী সংসদ নির্বাচনে মীরেরসরাই– ১ আসন থেকে মনোনোয়ন প্রত্যাশী গিয়াস উদ্দিনের জন্ম  ১৯৫৬ সালে। তিনি মীরেরসরাই থেকে এসএসসি ও এইচএসসি শেষ করে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সমাজতত্ব বিভাগ থেকে অনার্স ও মাষ্টার্স শেষ করেছেন।১৯৭৫ সালের পর রাজনীতিতে সক্রীয় হন।১৯৭৪সালে উত্তর জেলা ছাত্রলীগের সদস্য ছিলেন।চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি হন ১৯৮২ সালে। ১৯৯২ সাল থেকে জেলা আওয়ামী লীগের পক্ষে কাজ শুরু করেন। এরপর জেলা আওয়ামী লীগের প্রচার  সম্পাদক, সাংগঠনিক সম্পাদক ও জয়েন্ট সেক্রেটারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।২০০৯ সালেলক্ষাধিক ভোটের ব্যবধানে বিএনপির হাজী আবুল কাশেমকে পরাজিত করে উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন তিনি।

গিয়াস উদ্দিন আরও বলেন, ‘সারাজীবন রাজনীতি করেছি।জিয়াবিরোধী আন্দোলনে জেল খেটেছি।রাজপথে মার খেয়েছি।খালেদা জিয়ার ২০০২ সালে ‘ক্লীন হার্ট’ অপারেশনে গ্রেফতার হয়েছি। এরশাদবিরোধী আন্দোলনে  দুইবার গ্রেফতার হয়েছি।আওয়ামী লীগের জন্য আমার ত্যাগও কম নয়।

গিয়াস উদ্দিন আরও বলেন,  ‘৫ বছর আমি উপেজেলা চেয়ারম্যান ছিলাম।এলাকার মানুষের সুখে-দুঃখে পাশে থেকে এলাকার উন্নয়ন করেছি।এখনো উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে নিজেকে সম্পৃক্ত রেখেছি।’ ঈদের দিন ও পরের দিন কয়েক হাজার মানুষকে নিজ বাড়িতে আপ্যায়নের কথাও জানান তিনি।এছাড়াও ঈদেরআগে ২৮ রোজায় প্রায় দেড় হাজার  ফকির-মিসকিনকে ইফতার করিয়েছেন বলে জানান গিয়াস উদ্দিন।

তিনি বলেন, ‘আমি মন্ত্রীর বিরুদ্ধে লড়ছি না।আমি আমার যোগ্যতায় মনোনয়ন চাইব।আমি কারো প্রতিদ্বন্দ্বী না।তিনি মন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে বলেন, উনি মনোনোয়ন চাইবেন বলে আর কেউ চাইতে পারবেন না, তাতো না।মনোনোয়ন চাওয়ার অধিকার রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে অবশ্যই আমার রয়েছে।উনিহেভিওয়েট হোক তাতে কি, আমি না হয় হালকা পাতলা গিয়াস হয়েই মননোনয়ন চাইব। তবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যাকে মনোনয়ন দেন, সেই সিদ্ধান্ত মাথা পেতে নিব।’

গিয়াস উদ্দিন আরও বলেন, আমি হয়তোবা ব্যক্তি মর্যাদায় হেভিওয়েট না।কিন্তু জনগণের ভালোবাসায় অবশ্যই আমি হেভিওয়েট।কারণ ঈদের পর এলাকার লোকদের সঙ্গে ঈদ সৌজন্যতা বিনিময় করতে গিয়ে দেখেছি আমার প্রতি মানুষের অকুণ্ঠ সমর্থন রয়েছে।

চট্টগ্রাম -১ সংসদীয় আসন হল বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের ২৭৮ নং আসন।

এদিকে  গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন এমপি মিরসরাই আওয়ামী লীগ এর তৃণমূল পর্যায়ের সাংগঠনিক ঐক্য দৃঢ় করার জন্য এবং মিরসরাইয়ের সর্বস্তরের জনগণের কাছে বর্তমান সরকারের আমলে গৃহিত বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড  তুলে ধরতে  উপজেলার ১৬টি ইউনিয়নেইজনসমাবেশ সম্পন্ন করেছেন।

১৯৭০ সাল থেকে বর্তমান পর্যন্ত বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত বর্তমান মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন।এখন তিনি বয়সের ভারে ন্যুব্জ। তাই আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন প্রাপ্তির  ব্যাপারে মন্ত্রিপুত্র ও চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আওয়ামী লীগেরবিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক মাহবুবুর রহমান রুহেলও আলোচনায় রয়েছেন।

ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন ১৯৪৩ সালের ১২ জানুয়ারি উপজেলার ধুমগ্রামে জন্মগ্রহণ করে। তিনি চট্টগ্রাম কলিজিয়েট স্কুল থেক মেট্রিকুলেশন পাশ করেন। ১৯৭২ সালে স্যার আশুতোশ কলেজ থেকে এইচএসসি  এবং ১৯৬৬ সালে লাহোরের ইঞ্জিনিয়ারিং ও কারিগরী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাইনিংইঞ্জিনিয়ারিংয়ে বিএসসি সম্পন্ন করেন।

২০টি বিলাসবহুল মার্সিডিজ বাসের বহর চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজার ও অন্যান্য এলাকায় প্রবর্তন করেন তিনিই। কক্সবাজারে প্রতিষ্ঠা করেন প্রথম হোটেল সায়মন।  পর্যটকদের একমাত্র আবাসিক হোটেল ‘মোটেল সৈকত’ দীর্ঘ ১০ বছর পরিচালনা এবং চট্টগ্রামে  একটি রোপ ফ্যক্টরি ও হার্ডওয়ার ব্যবসা প্রতিষ্ঠাকরেন তিনি।এছাড়া তিনি ‘পেনিনসুলা চিটাগাং’ নামক একটি আন্তর্জাতিক  মানের চার তারকা হোটেলের চেয়ারম্যান।

মোশাররফ হোসেনের পিতামহ ফজলুর রহমান দীর্ঘ ২০ বৎসর যাবৎ মীরসরাই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান  ছিলেন।নিজের মনোনয়ন ও আগামী নির্বাচন প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, আমি অত্যন্ত স্বচ্ছতার সঙ্গে আমার দায়িত্ব পালন করেছি।আমি মন্ত্রী হলেও আমার ভালোবাসার জায়গা ঐ মীরেরসরাইয়েরজনগণ।তারাই আমাকে সংসদ সদস্য বানিয়েছিল।আর আমার বিরুদ্ধে কে কি অভিযোগ করলো, তাতে আমার কিছু আসে যায় না।প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যে সিদ্ধান্ত নিবেন, সেটাই আমি মেনে নিব।আজকের মতো আগামীতেও দল ও দেশের জন্য কাজ করব।তবে মীরেরসরাই উপজেলা আওয়ামী লীগেরদ্বিধাবিভক্তি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এগুলো সাময়িক।সব ঠিক হয়ে যাবে।’

কিন্তু চলতি বছরেই দলীয় কোন্দলে ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে এক যুবলীগ কর্মী খুন হয়েছেন। এছাড়াও মিরসরাইয়ে আধিপত্য বিস্তারকে  কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে।এসময় উভয় পক্ষে কমপক্ষে ১০ জন আহত হয়েছেন। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে এ ঘটনা ঘটে।

Print Friendly, PDF & Email

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর