,



ঢাবির ভর্তির আবেদন শুরু, মানতে হবে যেসব নির্দেশনা

বাঙালী কণ্ঠ ডেস্কঃ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষে স্নাতক শ্রেণীতে ভর্তির আবেদন প্রক্রিয়া সোমবার থেকে শুরু হয়েছে। আগামী ৩১ মার্চ রাত ১১টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত আবেদন প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে।

অনলাইনে আবেদন শেষে রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী, অগ্রণী, জনতা বা রূপালী ব্যাংকের যেকোনো শাখার পাশাপাশি যে কোনো মোবাইল পেমেন্ট সার্ভিস (বিকাশ, নগদ, রকেট ইত্যাদি), ডেবিট ও ক্রেডিট কার্ড ইত্যাদি ব্যবহার করে অনলাইনেই টাকা জমা দেয়া যাবে। পহেলা এপ্রিল রাত ১২ টা পর্যন্ত টাকা জমা দেয়া যাবে।

পহেলা মে বিকেল ৩টা থেকে সংশ্লিষ্ট ইউনিটের পরীক্ষা শুরুর ৩০ মিনিট পূর্বে প্রবেশপত্র ডাউনলোড করা যাবে।

সোমবার বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ভর্তি কার্যালয়ে অনলাইন ভর্তি আবেদন-প্রক্রিয়ার উদ্বোধন করেন উপাচার্য মো. আখতারুজ্জামান ৷ বিগত বছরগুলোতে আবেদন ফি ৪৫০ টাকা থাকলেও এবারের আবেদন ফি ৬৫০টাকা করা হয়েছে৷

প্রতিবছর ভর্তি পরীক্ষা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও ঢাকার অন্যান্য কলেজগুলোর হলেও এবারে করোনা পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্যবিধি মানার জন্য ৮টি বিভাগীয় শহরে অনুষ্ঠিত হবে। শিক্ষার্থীকে আবেদনের সময় ৮ টি বিভাগীয় শহরের যেকোন একটিকে তার ভর্তি কেন্দ্র হিসেবে নির্বাচন করতে হবে।

বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এবারের ক ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা ২১শে মে, খ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা ২২মে, গ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা ২৭শে মে, ঘ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা ২৮শে মে এবং চ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা (এমসিকিউ) ৫ই জুন অনুষ্ঠিত হবে। প্রতিটি পরীক্ষা সকাল ১১টা থেকে বেলা সাড়ে ১২টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে। প্রতিবছর সকাল দশটায় পরিক্ষা শুরু হলেও এবারে বিভাগীয় শহরে পরীক্ষা হওয়ার তা সকাল ১১টায় অনুষ্ঠিত হবে।

এবার ক, খ, গ ও ঘ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় ৬০ নম্বরের বহুনির্বাচনি ৪৫ মিনিটে এবং ৪০ নম্বরের লিখিত পরীক্ষা নেয়া হবে ৪৫ মিনিটে। চ ইউনিটের ক্ষেত্রে ৪০ নম্বরের বহুনির্বাচনি পরিক্ষা ৩০ মিনিটে এবং বহুনির্বাচনি পরিক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে পরবর্তীতে মেধাক্রম অনুযায়ী ১৫০০ জন ৬০ নম্বরের অঙ্কন পরীক্ষা ৬০ মিনিটে দিতে হবে।

বাড়েছে আসনসংখ্যা:

ক-ইউনিটভুক্ত নতুন বিভাগ আবহাওয়া বিজ্ঞানে ১৫ জন শিক্ষার্থী ভর্তি করা হবে। পাঁচটি ইউনিটের অধীনে এবার মোট আসনসংখ্যা পূর্বের ৭১১৮ হতে বৃদ্ধি পেয়ে ৭১৩৩ হবে৷

এবার বিজ্ঞান অনুষদভুক্ত ‘ক’ ইউনিটে ১ হাজার ৮০৫, কলা অনুষদভুক্ত ‘খ’ ইউনিটে ২ হাজার ৩৭৮, ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদভুক্ত ‘গ’ ইউনিটে ১ হাজার ২৫০, সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদভুক্ত ‘ঘ’ ইউনিটে ১ হাজার ৫৬০ এবং চারুকলা অনুষদভুক্ত ‘চ’ ইউনিটে ১৩৫টি আসন রয়েছে

আবেদনের যোগ্যতা:

অটোপাসের কারণে বিপুল পরিমাণ শিক্ষার্থী পাস করায় ভালো ফলাফল করায় এবারের ভর্তি পরীক্ষার যোগ্যতা কিছুটা বাড়ানো হয়েছে।

‘ক’ ইউনিটের জন্য মাধ্যমিক ও সমমান এবং উচ্চ মাধ্যমিক ও সমমান পরীক্ষায় প্রাপ্ত জিপিএ-দ্বয়ের যোগফল ন্যূনতম ৮.৫ (আলাদাভাবে জিপিএ ৩.৫), ‘খ’ ইউনিটের জন্য জিপিএ-দ্বয়ের যোগফল ন্যূনতম ৮.০ (আলাদাভাবে ৩.০), ‘গ’ ইউনিটের জন্য জিপিএ-দ্বয়ের যোগফল ন্যূনতম ৮.০ (আলাদাভাবে ৩.৫), ‘ঘ’ ইউনিটের জন্য মানবিক শাখার ক্ষেত্রে জিপিএ-দ্বয়ের যোগফল ন্যূনতম ৮.০ (আলাদাভাবে ৩.০) ও বিজ্ঞান শাখার ক্ষেত্রে জিপিএ-দ্বয়ের যোগফল ন্যূনতম ৮.৫ (আলাদাভাবে ৩.৫) এবং ‘চ’ ইউনিটের জন্য জিপিএ-দ্বয়ের যোগফল ন্যূনতম ৭.০ (আলাদাভাবে জিপিএ ৩.০) নির্ধারণ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। প্রতিটি ইউনিটের ক্ষেত্রেই জিপিএ গণনা করা হবে চতুর্থ বিষয়সহ।

মানবণ্টন:

ক, খ, গ ও ঘ এই চার ইউনিট দুটি অংশে এমসিকিউ ৬০ ও লিখিত ৪০ মোট ১০০ নম্বরের পরীক্ষা দিবে। চ-ইউনিটের শিক্ষার্থীরা এমসিকিউ ৪০ নম্বরের পরীক্ষা দিবে। এর ফলাফলের ভিত্তিতে পরবর্তীতে মেধাক্রম অনুযায়ী ১৫০০ জন ৬০ নম্বরের অঙ্কন পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করবে।

ভর্তি পরীক্ষায় প্রাপ্ত নম্বরের সাথে উচ্চমাধ্যমিকের প্রাপ্ত জিপিএর উপর ১০ ও মাধ্যমিকের প্রাপ্ত জিপিএর উপর ১০, মােট ২০ নম্বর যােগ করে মেধাতালিকা তৈরি করা হবে। পরীক্ষার সময় ক, খ, গ ও ঘ ইউনিটের জন্য ১ ঘণ্টা ৩০ মিনিট (এমসিকিউ ৪৫ ও লিখিত ৪৫ মিনিট) এবং চ ইউনিটের এমসিকিউ ও লিখিত পরীক্ষার জন্য যথাক্রমে ৩० ও ৬০ মিনিট।

আবেদনকারীদের জন্য সাধারণ তথ্য:

১. ভর্তির আবেদনের জন্য শিক্ষার্থীর উচ্চমাধ্যমিক এবং মাধ্যমিকের তথ্য, বর্তমান ঠিকানা ও মোবাইল নম্বর, পিতা ও মাতার জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর (ঐচ্ছিক)- এর প্রয়োজন পড়বে।

২. শিক্ষার্থীকে ৮ টি বিভাগীয় শহরের যেকোন ১ টি কে তার ভর্তি কেন্দ্র হিসেবে নির্বাচন করতে হবে।

৩. স্ক্যান করা একটি ছবির (Format: jpg, Size: 30 – 200KB, Width: 360-540px, Height: 540-720px) প্রয়োজন পড়বে।

৪. এসএমএস করার জন্য শিক্ষার্থীর কাজে টেলিটক, রবি, এয়ারটেল অথবা বাংলালিংক অপারেটর এর একটি মোবাইল নম্বর থাকতে হবে।

৫. ভর্তির আবেদন ফি তাৎক্ষনিক অনলাইনে (VISA /Mastercard/ American Express ডেবিট অথবা ক্রেডিট কার্ড, মোবাইল ব্যাংকিং , ইন্টারনেট ব্যাংকিং) বা চারটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকে (সোনালী, জনতা, অগ্রণী ও রূপালী) নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে জমা প্রদান করা যাবে।

Print Friendly, PDF & Email

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর