,



কোম্পানিগঞ্জের ঘটনায় জড়িতদের ছাড় নয়: ওবায়দুল কাদের

বাঙালী কণ্ঠ ডেস্কঃ কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জের ঘটনায় যারা জড়িত তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এ ঘটনায় কাউকে ছাড় দেওয়ার প্রশ্নই ওঠে না।

বুধবার (১০ মার্চ) বিকেলে তাঁর সরকারি বাসভবনে নিয়মিত ব্রিফিংকালে এ সব কথা বলেন।

কোম্পানীগঞ্জে বিশৃঙ্খলার সঙ্গে যারাই জড়িত থাকুক, তাদের পরিচয় না দেখে আইনের আওতায় আনা হবে বলে জানান ওবায়দুল কাদের।

সাংবাদিকের রক্তের দাগ মুছতে না মুছতেই আবারও রক্ত ঝরলো নোয়াখালীর বসুরহাটে। মঙ্গলবার (৯ মার্চ) রাতে আওয়ামী লীগের দুইপক্ষের সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা গেছেন আলাউদ্দিন (৩২) নামে এক সিএনজি চালক। এই সংঘর্ষে সর্বমোট গুলিবিদ্ধ হয়েছেন ১৩ জন।

জানা গেছে, গুলিবিদ্ধ ১৩ জনের মধ্যে কোম্পানিগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক হৃদয়কে মুমূর্ষ অবস্থায় ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কোম্পানিগঞ্জের সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা মিজানুর রহমান বাদল এবং আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের ছোট ভাই বসুরহাট পৌরসভার মেয়র আব্দুল কাদের মির্জার সমর্থকদের এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। মঙ্গলবার বিকেল পাঁচটার দিকে কয়েক দফায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া হয়। এরই জের ধরে রাত সাড়ে নয়টা থেকে পৌনে ১০টার মধ্যে উপজেলার রূপালী চত্বরে উভয়পক্ষ পুনরায় সংঘর্ষ ও গোলাগুলির ঘটনা ঘটায়। এ সময় ১৩ জন গুলিবিদ্ধ। এরমধ্যে আলাউদ্দিন নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।

স্থানীয়রা বলেন, দুইপক্ষের ককটেল বিস্ফোরণ ও গুলির শব্দে গোটা বসুরহাট শহর প্রকম্পিত হয়ে ওঠে। মুহূর্মুহ গুলির শব্দে পুরো পৌরসভায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

এদিকে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে বুধবার ভোর ছয়টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত ১৪৪ ধারা জারি করেছে উপজেলা প্রশাসন।

সংঘর্ষের ঘটনাটি অত্যন্ত নিন্দনীয় এবং সাংগঠনিক শৃঙ্খলা পরিপন্থি উল্লেখ করে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘এরইমধ্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, পুলিশের আইজিপি, RAB এর ডিজি, চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি ও জেলা পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে কথা হয়েছে। আইন সবার জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য, যারা এ ঘটনায় জড়িত তাদের অনেককে গ্রেফতার করা হয়েছে। বাকিদের গ্রেফতার করতে অভিযান চলছে।’

শেখ হাসিনা সরকারের উন্নয়ন ও অর্জনকে কারো অপকর্মের জন্য ম্লান হতে দিতে পারি না জানিয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘এ দুঃখজনক ঘটনার বিচার কাজ তদন্ত করে রিপোর্ট গঠনের জন্য নোয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, রিপোর্ট এলে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।’

বেশ কিছুদিন থেকে কোম্পানীগঞ্জের বসুরহাট এলাকায় জনজীবন অস্থিরতা বিরাজ করছিল, সরকার এখন কঠোরভাবে ব্যবস্থা গ্রহণ শুরু করছে। তাই আশা করা হচ্ছে, শীঘ্রই জনজীবনে স্বস্তি ফিরে আসবে।

ওবায়দুল কাদের কোম্পানীগঞ্জের জনগণকে পরিস্থিতি মোকাবিলায় ধৈর্য ধারণ এবং সরকারকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান।

বিএনপি মহাসচিব বলেছেন প্রধানমন্ত্রী ক্ষিপ্ত হয়ে নাকি ৭ই মার্চের আওয়ামী লীগের আলোচনা সভায় মিথ্যাচার করেছেন।এ প্রসঙ্গে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী মিথ্যাচার করেননি বরং জাতির সামনে ইতিহাসের প্রমাণিত সত্য তুলে ধরেছেন।’

তিনি বলেন, ‘বিএনপি কখনো সত্য শুনতে চায় না,তাই ঐতিহাসিক সত্য প্রকাশে বিএনপির গাত্রদাহ শুরু হয়েছে।’

জিয়াউর রহমান নাকি ঘোষণা না দিলে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হতো না, বিএনপি মহাসচিবের এমন অসত্য প্রলাপে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘তার এই বক্তব্যও স্বাধীনতার ইতিহাস বিকৃতির শামিল। এ ধরনের মিথ্যাচার বিএনপির রাজনৈতিক সংস্কৃতির অংশ।’

বিএনপি জিয়াকে স্বাধীনতার ঘোষক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার প্রাণান্ত অপপ্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছে উল্লেখ করে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘স্বাধীনতার ঘোষণা আর ঘোষণা পাঠ করা এক কথা নয়। পাঠক কখনো ঘোষক হতে পারে না। জিয়াউর রহমান বঙ্গবন্ধুর পক্ষে ঘোষণা পাঠকারীদের মধ্যে একজন।’

Print Friendly, PDF & Email

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর