,



মিঠামইনে ওয়ারেন্টের আসামিকে হাতকড়ার বদলে ফুল দিয়ে ওসির সাধুবাদ

রফিকুল ইসলামঃ এ কথা শুনে যে কারোর চোখ কপালে উঠবে। মানুষ যা দেখে আসছে, পুলিশ অপরাধীদের পাকড়াও করে। ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি হলে তো ঘাম ঝরে। এ নিয়ে চোর-পুলিশের দৌড়ের গল্পও চাউর রয়েছে।

কিন্তু এ-কী কান্ড! কিশোরগঞ্জের মিঠামইন থানার ওসি মো. জাকির রব্বানীর।ওয়ারেন্টের আসামিকে হাতকড়া পড়ানোর কথা যেখানে, সেখানে কি না হাতে তুলে দিল ফুল! জানানো হলো সাধুবাদও !!

হতবাক না হওয়ার উপায় কি? ফুলের প্রতি ভালোবাসা চিরন্তন। কার না প্রীতি রয়েছে তাতে। অতি পুরাতন কথাই তো আছে– ‘ফুল যে ভালোবাসে না, সে মানুষ খুন করতে পারে।’

ফুল ভালোবাসার প্রতীক। ওসির কী পিরিত রয়েছে ওই আসামির সাথে? ঘটনাটি জানাজানি হলে দেখতে উৎসুক্য জনতার ভিড় জমে থানায়-পথে-ঘাটে। জানতে আগ্রহের শেষ নেই।

এ নিয়ে মুঠোফোনে কথা হয় অফিসার ইন চার্জ (ওসি) মো. রব্বানীর সাথে। এতে ফাস হয়ে যায় সব গোমর। বেরিয়ে আসে ভেতরের খবর।

ওসি জাকির রব্বানী আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে স্বেচ্ছায় পুলিশের কাছে ধরা দেয়া ও বিচারিক কাজে সহযোগিতা করায় ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির জাগ্রত বিবেককে অভিনন্দিত করতেই হাতকড়া না পড়িয়ে উল্টো ভালোবাসার প্রতীক ফুল দিয়ে বরণের মাধ্যমে কোর্টে চালান করা হয়েছে অভিপ্রায় ব্যক্ত করে বলেন, অপরাধ জগতের জন্য এ এক অনুকরণীয় ও অনুসরণীয় আত্মোপলব্ধির দৃষ্টান্ত।

তিনি বলেন, ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি গোপদিঘী ইউনিয়নের শরীফপুর গ্রামের নূরুল ইসলামের ছেলে মো. সোলাইমান (২৮। সে নারায়ণগঞ্জ কোর্টে দায়ের করা মামলার ওয়ারেন্টের আসামি।

এদিকে যেসব ওয়ারেন্টওয়ালা পলাতক আসামি পুলিশের ভয়ে ধুক ধুক মনে আত্মগোপনে থেকে অশান্তির আগুনে পুড়ছেন, তারাও যেন অনুশোচনাবোধ থেকে থানায় অথবা বিজ্ঞ আদালতে আত্মসমর্পণের মাধ্যমে আইনি পক্রিয়ায় এগোনোর নৈতিক উদাত্ত আহ্বান জানান ওসি রব্বানী।

তিনি আরো জানান, শনিবার (১৩ মার্চ) ডিউটি অফিসার এএসআই মনিরুজ্জামানের কাছে লোকটি থানায় এসে যখন নাম-পরিচয় দিয়ে বলেন আমি ওয়ারেন্টের আসামি, এসেছি স্বেচ্ছায় ধরা দিতে; তখন সত্যি অবিশ্বাস্য ঠেকে। হতবাক হয় সে, এ-ও কী হয়!

ওসি রব্বানী বলেন, ওয়ারেন্টভুক্ত একজন আসামিকে ধরতে অর্থাৎ অভীষ্টসিদ্ধির জন্য বহুবিধ উদ্যোগ ও চেষ্টা এবং ব্যয় ও শ্রম-ঘাম ঝরানো শুধু নয়, জীবনের ঝুঁকিও নিতে হয়। ওকে ধরতে বহুবার বাড়িতে হানাও দেয়া হয়েছে। সে কি না সামনে দাঁড়ানো!

তিনি আরো জানান, আগন্তুক ঘটনা খুলে বললে আমিও হতবাক হই এবং ওয়ারেন্ট রেজিস্টার তলব করে সত্যতা খুঁজে পেয়ে উদ্দীপনামূলক পদক্ষেপ নিই।

ওসি জাকির রব্বানী সোলাইমানকে সাধুবাদ জানিয়ে অপরাধ জগতের বাসিন্দাদের উদ্দেশ্যে আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, ‘মানুষ ফিরুক মানুষের জগতে…’

Print Friendly, PDF & Email

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর