,



জবানবন্দিতে যা বললেন ফরহাদ মজহার

বাঙালী কণ্ঠ ডেস্কঃ  অপহরণের বিষয়ে বিস্তারিত বর্ণনা দিয়ে ঢাকার  মহানগর হাকিম মো. আহসান হাবিবের আদালতে ভিকটিম  হিসাবে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি প্রদান করেছেন ফরহাদ মজহার।

আদালতের সূত্রে জানা গেছে, ফরহাদ মজহার তার দেয়া জবানবন্দিতে বলেন, সোমবার ভোরে বাসা থেকে বের হওয়ার পরপরই একদল দুর্বৃত্ত তাকে ধরে চোখ বেঁধে একটি সাদা মাইক্রোতে তুলে নিয়ে যায়।

বাসা থেকে ওষুধ কেনার জন্য তিনি বের হন। তাকে কেউ ফোন করেননি। বাসা থেকে বের হওয়ার পরই তাকে জোর করে অপহরণ করা হয় বলে জবানবন্দিতে উল্লেখ্য করেন তিনি। নিখোঁজের পর উদ্ধার হওয়া পর্যন্ত- পুরো বিষয়টি জবানবন্দি হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে।

ডিবি কার্যালয়ে জিজ্ঞাসাবাদে ফরহাদ মজহার চোখ বেঁধে মাইক্রোবাসে নিয়ে তুলে নিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন বলে জানান ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) যুগ্ম কমিশনার আব্দুল বাতেন। আব্দুল বাতেন বলেন, ফরহাদ মজহার বলেছেন, মাইক্রোবাসে তোলার পর তিনি আর কিছু জানেন না। তিনি আরো জানান, তুলে নেয়ার পর ফরহাদ মজহারের ব্যবহৃত নম্বর থেকেই তার স্ত্রীকে ফোন করা হয়। ফোনে ফরহাদ মজহার জানান, যারা তাকে নিয়ে গেছে তারা ৩৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ চেয়েছে।

তার জবানবন্দি রের্কড করার আবেদন সহ মঙ্গলবার বেলা পৌনে ৩টায় তাকে ঢাকার সিএমএম  আদালতে  হাজির করে। সিএমএম-এর নির্দেশে ঢাকার  মহানগর হাকিম মো. আহসান হাবিবের আদালতে ১৬৪ ধারায় বিধান মতে ফরহাদ মজহারের জবানবন্দি লিপিবদ্ধ করা হয় করেন। ফরহাদ মজহার আদালতে নিজ জিম্মায় যাবার জন্য  আইনজীবীদের মাধ্যমে আবেদন করেন। জবানবন্দি গ্রহন শেষে ঢাকার  মহানগর হাকিম মো. আহসান হাবিবের আদালতে এবিষয়ে শুনানি শেষে আদালত ১০ হাজার টাকার মুচলেকায় তার আবেদন মঞ্জুর করেন।

উল্লেখ্য, ফরহাদ মজহারের নিখোঁজের ঘটনায় গত ৩ জুলাই  সোমবার রাতে স্ত্রী ফরিদা আক্তার বাদী হয়ে আদাবর থানায় একটি অপহরণ মামলা দায়ের করেন। মামলা নং- ০৪। এর আগে, তিনি থানায় একটি জিডি করেন। জিডি নং- ১০১।

গত ৩জুলাই সোমবার ভোরে শ্যামলীর রিং রোড ১ নং হক গার্ডেনের বাসা থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হন ফরহাদ মজহার। পরবর্তীতে তিনি স্ত্রীকে মোবাইলে ফোনে জানান, কে বা কারা তাকে ধরে নিয়ে যাচ্ছেন। তাকে মেরেও ফেলা হতে পারে। সন্ধ্যা পর্যন্ত ৬ বার ফোন করে ৩৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়।

নিখোঁজ হওয়ার সংবাদ ছড়িয়ে পড়লে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাৎক্ষণিক উদ্যোগ নিয়ে মোবাইল ট্রাকিং করে তার অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত হয়ে ১৯ ঘণ্টা পর যশোরের অভয়নগরের একটি যাত্রীবাহী বাস থেকে তাকে উদ্ধার করে।

উদ্ধারের পর মঙ্গলবার সকালে তাকে নেয়া হয় আদাবর থানায়। সেখান থেকে তেজগাঁওয়ের ডিসি কার্যালয়ে নেয়ার পর জিজ্ঞাসাবাদ করতে পরে তাকে নেয়া হয় মিন্টো রোডে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) কার্যালয়ে।

Print Friendly, PDF & Email

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর