,



অবশেষে শেষ আটে রিয়াল

বাঙালী কণ্ঠ ডেস্কঃ হ্যাটট্রিক শিরোপা। এরপরই যেন চ্যাম্পিয়ন্স লিগের নক আউট পর্বটা রীতিমতো দুর্গমই হয়ে দাঁড়িয়েছিল রিয়াল মাদ্রিদের জন্য। আতালান্তার বিপক্ষে শেষ ষোলর প্রথম দেখায় ১-০ গোলের জয়ও তাই স্বস্তি দিচ্ছিল না কোচ জিনেদিন জিদানকে। তবে দ্বিতীয় রাউন্ডের ফিরতি লেগে ইতালীয় প্রতিপক্ষকে ৩-১ গোলে হারিয়ে অবশেষে শেষ আটে উঠে গেছে রিয়াল। টানা দুই মৌসুমে নকআউটে মুখ থুবড়ে পড়ার পর শেষ আটের টিকিট পেল দলটি। কোচ জিদানের অস্বস্তি থাকবেই বা না কেন? সিরি’আয় এখন পর্যন্ত দ্বিতীয় সর্বোচ্চ গোল করা দলটিই যে আতালান্তা! তবে জয়ের পর জিনেদিন জিদানের দিকে সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্ন গেল, ‘দুটি প্রতিযোগিতাতেই (লা লিগা ও চ্যাম্পিয়ন্স লিগ) চ্যাম্পিয়ন হতে পারে রিয়াল?’ স্পেনের সফলতম ক্লাবের কোচ দেরি না করেই জবাব দিলেন, ‘কেন নয়?’
পরশু রাতে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শেষ ষোলর বাধা অতিক্রম করেছে জিদানের দল। দুই লেগ মিলিয়ে ইতালিয়ান ক্লাব আতালান্তাকে তারা হারিয়েছে ৪-১ গোলে। আগের দুই মৌসুমে ইউরোপের সেরা ক্লাব আসরের এই পর্যায় থেকে বিদায় নিয়েছিল তারা। অবশেষে সেই খরা কাটিয়ে আতালান্তাকে বাড়ি পাঠানোর পর দ্বিতীয় দফায় রিয়ালের কোচের দায়িত্বে থাকা জিদান বলেছেন, ‘আমরা সেটা করারই (চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ও লা লিগা জেতা) চেষ্টা করব। কেন করব না? আমরা সেজন্যই এখানে আছি। এটা অনেক কঠিন একটা কাজ। কিন্তু আমরা আমাদের সবকিছু উজাড় করে দিব।’ ২৭ রাউন্ড শেষে ৬৩ পয়েন্ট নিয়ে লা লিগার এক নম্বরে রয়েছে রিয়ালের শহর প্রতিদ্ব›দ্বী অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ। বার্সেলোনা ৫৯ পয়েন্ট নিয়ে আছে দ্বিতীয় স্থানে। চিরপ্রতিদ্ব›দ্বীদের চেয়ে ২ পয়েন্টে পিছিয়ে তিনে আছে লস বøাঙ্কোসরা।
২০১৬ সালের জানুয়ারি থেকে ২০১৮ সালের মে পর্যন্ত প্রথম দফায় রিয়ালকে কোচিং করান জিদান। বিশ্বকাপজয়ী সাবেক এই তারকার অধীনে দলটি তখন জিতেছিল নয়টি শিরোপা। এর মধ্যে ২০১৬-১৭ মৌসুমে তারা পূর্ণ করেছিল চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ও লা লিগার ‘ডাবল’। সে সময় টানা তিনটি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জিতেছিল রিয়াল। এই কীর্তি নেই আর কোনো ক্লাবের। কিন্তু গত দুবার আয়াক্স আমস্টারডাম ও ম্যানচেস্টার সিটির কাছে হেরে নকআউটের প্রথম ধাপে শেষ হয় তাদের অভিযান। এবার শেষ আটের টিকিট পাওয়ার আনন্দ তাই যেন একটু বেশি জিদানের, ‘আমরা দুটি প্রতিযোগিতাতে ভালোভাবে টিকে আছি।’
অন্যদিকে পেপ গার্দিওলা নিশ্চয়ই শুনে থাকবেন, ‘আক্রমণ আপনাকে ম্যাচ জেতায়, আর রক্ষণ জেতায় শিরোপা’। তাহলে দশ বছর পর প্রথম চ্যাম্পিয়ন্স লিগ শিরোপার স্বপ্নটাও ভালোভাবেই উঁকি দেবে ম্যানচেস্টার সিটি কোচের মনে। ম্যাচ শেষে সিটির কোচ তার মনের কথা প্রকাশ করেছেন এভাবে, ‘আমরা পোর্তোর বিপক্ষে মাত্র এক গোল খেয়েছি। এটা অভাবনীয়। কোনভাবেই রুবেন এবং জনের গুরুত্বপূর্ণ অবদান উপেক্ষা করার সুযোগ নেই। সবচেয়ে বড় কথা আমরা বলকে নিয়ন্ত্রণ করেছি। প্রতিপক্ষ যতই অগ্রসর হয়েছে, আমরা ততই জমাট রক্ষণ বেঁধেছি।’ তবে সিটি শিরোপা জিতবে কিনা তা অনেক পরের আলোচনা। আপাতত বরুসিয়া মনশেনগøাডবাখের বিপক্ষে ২-০ গোলের দারুণ এক জয় নিয়ে ইতিহাস ছুঁয়েই শেষ আটে উঠে গেছে তার দল।
চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ইতিহাসে টানা ম্যাচে গোল হজম না করার রেকর্ডটা দশ ম্যাচের। ২০০৬ সালে এ কীর্তিটা গড়েছিল আর্সেন ওয়েঙ্গারের আর্সেনাল। এরপর সাত ম্যাচ গোল হজম না করার কীর্তি এসি মিলানের। পরশু রাতে মিলানকেই ছুঁয়েছে গার্দিওলার শিষ্যরা। দারুণ রক্ষণাত্মক নৈপুণ্যের কারণে মিলানের পাশে বসেছে সিটি, পাশাপাশি গড়েছে আরও কিছু রেকর্ডও। চ্যাম্পিয়ন্স লিগে প্রথম আট ম্যাচে দলটি হজম করেছে একটি মাত্র গোল। চ্যাম্পিয়ন্স লিগে শেষ ২০ বছরে এমন কীর্তি নেই আর কারো। সর্বশেষ কীর্তিটার বয়সও প্রায় ২৬ বছর।
১৯৯৫-৯৬ মৌসুমে সর্বশেষ দল হিসেবে নিজেদের প্রথম আট ম্যাচে সর্বনিম্ন গোলের কীর্তি গড়েছিল আয়াক্স। চলতি মৌসুমে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ১০০ গোল করার কীর্তি দেখাল ম্যান সিটি। আগের সাত মৌসুমেও এই স্বাদ নিয়েছে তারা। ইংল্যান্ডের শীর্ষ স্তরের ক্লাবগুলোর মধ্যে তাদের চেয়ে এগিয়ে আছে কেবল ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। টানা নয় মৌসুম (২০০৪-০৫ থেকে ২০১২-১৩) ১০০ ছুঁয়েছিল তারা। অন্যদিকে ২০০৮-০৯ মৌসুমে বার্সেলোনার কোচ হন গার্দিওলা। সেই থেকে এখন পর্যন্ত বিভিন্ন ক্লাবের হয়ে মোট ১২ মৌসুম তিনি দায়িত্ব সামলাচ্ছেন। প্রতিবারই তার শিষ্যরা গোলের সেঞ্চুরি পূরণ করার নজির গড়ল। এমন সব কীর্তির দিনে টানা চতুর্থবারের মতো ইউরোপীয় শ্রেষ্ঠত্বের মঞ্চে কোয়ার্টার-ফাইনালে ওঠার স্বাদ নেয় সিটি।
এক নজরে ফল
রিয়াল মাদ্রিদ ৩-১ আতালান্তা
(দুই লেগে ৪-১ অগ্রগামীতা)
ম্যানসিটি ২-০ ম’গøাবাখ
(দুই লেগে ৪-০ অগ্রগামীতা)

 

Print Friendly, PDF & Email

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর