,



বলবয় থেকে জাতীয় ফুটবল দলে জুয়েল

বাঙালী কণ্ঠ ডেস্কঃ বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামের এই মাঠেই বলবয় ছিলেন তিনি। অন্যরা যখন খেলতেন তখন তিনি মাঠের পাশে বল কুড়িয়ে আবার মাঠে পাঠাতেন। সেই থেকেই স্বপ্ন এক দিন এই বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামের মাঠেই তিনিও খেলবেন। ক্লাব ফুটবলে খেলেছেন এবার জাতীয় দলেও খেলার সুযোগ পেয়েছেন, নাম তার মোহাম্মদ জুয়েল। বলবয় থেকে জাতীয় দলে।

মঙ্গলবার জাতীয় দলের নাম ঘোষণার পরও জুয়েল জানতে পারেনি তিনিও আছেন চূড়ান্ত দলে। বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে অনুশীলনের শুরুতে কোচ জেমি ডে জুয়েলকে বললেন তুমি আজ সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলবে। কারণ তুমি নেপালে যাচ্ছ। এই কথা শুনে জুয়েল বললেন, ‘আমি ঘোরের মধ্যে ছিলাম।’

সিলেটের ছেলে হলেও বাফুফে ভবনের পেছনে আরামবাগে জুয়েলের জন্ম। বাবা জহির আলী ফুটবল ভবনের কাছেই ভাতের দোকান করেন। জুয়েল বললেন, ‘কালা ভাই আমার গুরু। উনার কাছে ফুটবল খেলা শিখেছি। বিকেএসপিতে ভর্তি হয়েছিলাম। বিভিন্ন বয়সভিত্তিক জাতীয় দলে খেলেছি। ২০১৫ সালে সিলেটে অনূর্ধ্ব-১৫ সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে চ্যাম্পিয়ন হই।’ আরব আমিরাতে ফুটবল খেলতে গিয়ে ম্যারাডোনার সাক্ষাৎ পেয়েছিলেন জুয়েল।

পরিবারে বড় ভাই আছেন, টুটুল। তিনি বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়নশিপ লিগে ঢাকা সিটি এফসির জার্সি গায়ে খেলছেন। মা মনোয়ারা বেগম, বড় বোন রাজিয়া সুলতানার বিয়ে হয়েছে, ছোট বোন ফারজানা আক্তার ঝুম্পা এইচএসসির প্রথম বর্ষের ছাত্রী। এই পরিবারে খুশির আমেজ, জুয়েল খেলছেন জাতীয় দলে। ২০ বছর বয়সী জুয়েল জানালেন তিনি ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। নিজের পরিবারের কথার সঙ্গে দুঃখের কথাও তুললেন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে গিয়েছিলেন ফুটবল খেলতে। ফ্রান্সের বিপক্ষে খেলায় ব্যথা পেয়ে তার ক্যারিয়ার শেষ হওয়ার পথে। অস্ত্রোপচার করার পরামর্শ থাকলেও ঝুঁকি নিয়ে অনুশীলন করে কাটিয়ে উঠেছেন।

জুয়েল বললেন, ‘সিলেটের হবিগঞ্জে আমাদের বাড়ি। সেখানে গিয়ে একা একা অনুশীলন করতাম। মাঝেমধ্যে কান্না করতাম। কিন্তু হাল ছাড়তাম না। অস্ত্রোপচার ছাড়াই আমি মাঠে ফিরতে পেরেছিলাম। জাতীয় দলে ডাক পেয়েছি ভালো লাগছে তবে এটা ঠিক অর্জন করা সহজ, ধরে রাখা কঠিন।’

Print Friendly, PDF & Email

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর