,



এবার বোরোর আশাতীত ফলনের সম্ভাবনা

বাঙালী কণ্ঠ ডেস্কঃ প্রতি বছর সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চলের বোরো কাটা নিয়ে কৃষককে যে দুশ্চিন্তার মধ্যে থাকতে হয়, এবার তা হচ্ছে না। কারণ, কোনো ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ হওয়ার আগেই হাওরাঞ্চলের আগাম জাতের বোরো কাটা শুরু হয়েছে।

সারা দেশে যে পরিমাণ বোরো উৎপাদন হয়, এর একটি উল্লেখযোগ্য অংশ হাওরাঞ্চল থেকে আসে। তাই কোনো কারণে হাওরাঞ্চলের বোরো উৎপাদন মার খেলে তার প্রভাব পড়ে সামগ্রিক ধান উৎপাদনের ওপর। শুধু যে ধান-চালের দামের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে তা-ই নয়, ভেঙে যায় কৃষকের মেরুদণ্ডও।

তবে এবারের চিত্র ভিন্ন। শুধু হাওরাঞ্চলের অবস্থা ভালো তা-ই নয়, সারা দেশেও আবাদের অবস্থা ভালো। দেশের বিভিন্ন জায়গায় খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, বোরো খেতে ফ্লাওয়ারিং শুরু হয়েছে। ধানের চেহারাও বেশ ভালো। রোগ-বালাইয়েরও উৎপাত নেই। কৃষক ও মাঠ পর্যায়ের কৃষি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বড় ধরনের কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে দেশে এবার বোরোর বাম্পার ফলন হবে। শুধু তাই নয়, গত বারের চেয়ে অন্তত ৫ লাখ টন চাল বেশি উৎপাদন হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।

লক্ষ্যমাত্রার বেশি জমিতে এবার বোরো উৎপাদন

চলতি মৌসুমে ৪৮ লাখ ৮৩ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে। যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৮৩ হাজার হেক্টর বেশি। সেই সঙ্গে উৎপাদন বাড়াতে হাইব্রিড জাতের ধানের আবাদে জোর দিয়েছে সরকার। কৃষি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গত বছরের তুলনায় প্রায় ৩ লাখ হেক্টর জমিতে হাইব্রিডের আবাদ বেড়েছে। গড়ে হেক্টর প্রতি ১ টন করে বেশি ফলন হলেও কমপক্ষে ৩ লাখ টন উৎপাদন বাড়বে।

 

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের হিসাবে, গত বোরো মৌসুমে চালের উৎপাদন হয়েছে ২ কোটি ২ লাখ ৫০ হাজার টন। এ বছর বোরোতে ২ কোটি ৫ লাখ টন চাল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। তবে এই লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।

কৃষি মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, করোনা মহামারির মধ্যেই গত বছর পাহাড়ি ঢলে চার দফা বন্যায় আমনের উৎপাদন ক্ষতির মুখে পড়ে। অন্তত ১ লাখ হেক্টর জমিতে আমন আবাদ করা যায়নি। এর প্রভাব পড়ে চালের বাজারে। সুযোগ নেয় অসাধু ব্যবসায়ীরাও। তারা দফায় দফায় চালের দাম বাড়িয়ে দেয়।

৪৭/৪৮ টাকায় উঠে যায় মোটা চাল ইরি/স্বর্ণার দাম। সরু চাল মিনিকেট/নাজিরশাইলের কেজি ৭০/৭২ টাকায় উঠে যায়। এছাড়া করোনা মহামারির কারণে স্বল্প আয়ের মানুষ, কর্মহীন শ্রমজীবীদের সাহায্যার্থে সরকার বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ খাদ্যশস্য সহায়তা দেয়। ফলে সরকারের গুদামে মজুত খাদ্যশস্যের পরিমাণে কয়েক বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে আসে। এসব কিছু বিবেচনায় সরকার এবার বোরো আবাদে জোর দেয়।

সম্প্রতি সচিবালয়ে এক অনুষ্ঠানে কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, গত মৌসুমে বন্যার কারণে ধান-চালের দাম কিছুটা বেশি ছিল। তাই বছরের শুরুতেই আমরা বোরোর উৎপাদন বাড়ানোর পরিকল্পনা করেছিলাম। এ জন্য কৃষকদের মধ্যে বিনা মূল্যে বীজসহ প্রায় ৭৩ কোটি টাকার বিভিন্ন কৃষি উপকরণ প্রণোদনা হিসেবে দেওয়া হয়েছে।

রায়গঞ্জ (সিরাজগঞ্জ) সংবাদদাতা দীপক কুমার কর জানান, রায়গঞ্জে এবার বোরো ধানের বাম্পার ফলনের আশা করছেন কৃষক। ইতোমধ্যেই উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় আগাম বোরেখেতে ফ্লাওয়ারিং শুরু হয়েছে। দামাল হাওয়ায় দোল খাচ্ছে গাঢ় সবুজ ধানে ভরা মাঠের পর মাঠ।

উপজেলার চান্দাইকোনা ইউনিয়নের সিমলা গ্রামের বর্গাচাষি আব্দুস সাত্তার বলেন, তিনি সাড়ে তিন বিঘা জমিতে করেছেন ব্রি-ধান ২৮-এর আবাদ। ধানে ফুল বের হয়েছে। ধানের চেহারাও ভালো। এবার অনেক ভালো ফলন হবে। ধামাইনগর ইউনিয়নের কৃষ্ণপুর গ্রামের কৃষক নাজমুল হক বলেন, ১৮ বিঘা জমিতে তিনি করেছেন কয়েক রকম ধানের আবাদ। অন্য বছরের তুলনায় এবার সার, ওষুধ সবই কম লেগেছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে রক্ষা পেলে এবার বাম্পার ফলন হবে বলে তিনি জানান।

Print Friendly, PDF & Email

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর