,



হাওরঞ্চলে কমছে পানি বাড়ছে দুর্ভোগ

দুভোর্গ পিছু ছাড়ছে না হাওরঞ্চলের মানুষের। একের পর এক মড়ক নামছে তাদের ওপর। খেয়ে না খেয়ে কাটছে দিনের পর দিন। গেল দু-দিন বৃষ্টি না থাকায় হাওরঞ্চলে কিছুটা বন্যার উন্নতি হলেও দুর্ভোগের সংখ্যা বাড়ছে।

অনেকের ঘর-বাড়ি তলিয়ে গেছে পানিতে। কেউ কেউ থাকছেন অন্যের বাড়িতে কেউবা আছেন চালে সঙ্গে ভেলা চড়ে। সম্প্রতি সময়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে ১ জুলাই থেকে ওএমএসের চাল বিক্রি বন্ধ করে দিয়েছেনর জেলার ভারপ্রাপ্ত খাদ্য কর্তকর্তারা।

হারঞ্চলে মানুষের বিষয়টি তুলে ধরে ওএমএসের চালু করতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে চিঠি পাঠালেও এখোনো ফলপ্রসূ হয়নি।

বিষয়টি কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক এসএম জাকির হোসাইন  দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়ার নজরে আনলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিলেও এখনো বাস্তবায়ন হয়নি। এদিকে পর্যাপ্ত ত্রাণ পাচ্ছে না জেলার তিনটি উপজেলার ক্ষতিগ্রস্থ মানুষেরা।

কুলাউড়া, জুড়ীর ও বড়লেখা  উপজেলার ২ লাখ ৬৫ হাজার ৩০০ মানুষ চরম দুর্ভোগে জীবনযাপন করছে। জেলা প্রশাসকের পক্ষ থেকে ত্রাণ দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে সংশ্লিষ্টদেল। ত্রাণ পাচ্ছেন না এমন অভিযোগ করে কোন কোন সরকার দলীয় জনপ্রতিনিধি সরকার বিরুধী বক্তব্যও রাখছেন বিভিন্ন গণমাধ্যমে।

স্মরণকালের ভয়াবহ প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে পড়া মানুষের এই দুঃসময়ে সরকারি অপ্রতুল ত্রাণের পাশাপাশি প্রবাসী বাংলাদেশীরা বাড়িয়েছেন সাহায্যের হাত। তারপরও শতভাগ ক্ষতিগ্রস্থ মানুষের কাছে পৌঁছায়নি শতভাগ সরকারি কিংবা বেসরকারি ত্রাণ।

মৌলভীবাজার জেলার জেলার ৩৩ টি ইউনিয়নের ২ লাখ ৬৫ হাজার ৩০০ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ৩৩টি আশ্রয়কেন্দ্রে  ৫১৯ টি পরিবার আশ্রয় নিয়েছে। এ ছাড়া বন্যাকবলিত ২৭৭টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কার্যক্রম বন্ধ আছে। দ্বিতীয়বারের মতো বন্যায় আউশ ও রোপা আমনের ৯৫৫ হেক্টর জমি ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।

অন্যদিকে পানি নিষ্কাশনের গতিপথে মানব সৃষ্ট ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার মরণ বাঁধ বুড়িকিয়ারী। স্থানীয় দুই প্রভাবশালী ব্যক্তির মালিকানাধীন ইটভাটা রক্ষায় এ বাঁধ অপসারণ না করায় প্রতিবছর ভর মৌসুমে কুলাউড়া-জুড়ী-বড়লেখা উপজেলা ও সিলেট জেলার ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার একাংশের কয়েক লাখ কৃষিজীবী মানুষের পাকা বোরো ধান জলাবদ্ধতার কারণে পানির নিচে তলিয়ে যায়।

এ বাঁধের কারণে শুষ্ক মওসুমে পর্যাপ্ত পানির অভাব ও বর্ষা মওসুমে থাকে জলাবদ্ধতার সমস্যা। কুশিয়ারা নদী খনন করতে হবে ও হাকালুকি হাওরের জল নিষ্কাশন নিশ্চিত করার জন্য অপরিকল্পিত বুড়িকিয়ারি বাঁধ অপসারণ করা প্রয়োজন।

জুড়ি, কুশিয়ারা, মনু, ধলাই, কালনী নদী খনন করে হাওরের বোরো ফসল কৃষকদের ঘরে তোলা নিশ্চিত করবে। এই মরণ বাঁধ অপসারণ করে হাকালুকির কৃষক, কৃষি ও হাওর বাঁচানোর দাবি কৃষকদের দীর্ঘদিনের।

এ নিয়ে দীর্ঘদিন থেকে হাওর পাড়ের কৃষকরা দুর্ভোগ পোহালেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ রয়েছে উদাসীন। মৌলভীবাজারজেরা প্রশাসক তোফায়েল বলেন, আমি প্রধান মন্ত্রী বরাবর লিখিত আবেদন করেছি। বিষেশজ্ঞ দল পরিদর্শন করলে স্থানীয় একটি সমাধান আশাকরা যায়।

Print Friendly, PDF & Email

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর