,



ভিয়েতনাম থেকে ৪১ হাজার টন চাল আসছে ১০ জুলাই

ভিয়েতনাম থেকে ৪৩ হাজার টন সরকারি চাল পৌঁছাবে আগামী সপ্তাহে। ভিয়েতনামের হোচিমিন বন্দর থেকে একটি জাহাজে ২০ হাজার টন চাল বোঝাই করে চট্টগ্রাম বন্দরের উদ্দেশে রওনা দিয়েছে। আরেকটি জাহাজে চাল বোঝাই করা হচ্ছে। দুটি জাহাজই ১১ জুলাইয়ের মধ্যে চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে পৌঁছবে। এরপর জাহাজ থেকে নামিয়ে সরকারি গুদামে নেওয়া হবে।

চালের বাজার স্থিতিশীল করতে সরকারি উদ্যোগে ভিয়েতনাম থেকে আমদানি হচ্ছে আড়াই লাখ টন চাল। প্রথম দফায় চারটি জাহাজে আসছে এক লাখ টন চাল। ৪৩ হাজার টন এরই অংশ।

জানতে চাইলে বিদেশি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের নিয়োজিত জাহাজটির শিপিং এজেন্ট ইউনি শিপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবুল হোসেন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘‘প্রথম দফায় চারটি জাহাজে এক লাখ টন চাল আসার অনুমতি পেয়েছি। এর মধ্যে ২০ হাজার টন নিয়ে ‘ভিসাই ভিসিটি ০৫’ জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে পৌঁছবে ১০ জুলাই, আর ২১ হাজার ৩০০ টন বোঝাই হচ্ছে ‘বিএমসি কাটারিন’ জাহাজে, সেটি পৌঁছবে ১১ জুলাই। এরপর বাকি দুটি জাহাজেও চাল বোঝাই হবে হোচিমিন সিটি পোর্টে। ”

তিনি বলেন, দুটি জাহাজই সরাসরি বন্দর জেটিতে ভিড়তে পারবে না। জাহাজের গভীরতা বা ড্রাফট বেশি থাকায় বহির্নোঙরে ছোট জাহাজে কিছু চাল নামিয়ে হালকা করে (লাইটারিং) করে এরপর সরকারি চাল খালাসে নিয়োজিত সাইলো জেটিতে নেওয়া হবে। জানা যায়, চালের মজুদ আশঙ্কাজনকভাবে কমে আসায় সরকারের সঙ্গে সরকারের (জি টু জি) চুক্তির ভিত্তিতে চাল আমদানির উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এর মধ্যে ভিয়েতনাম থেকে ৯০৮ কোটি ৮৫ লাখ টাকায় আড়াই লাখ টন চাল আমদানি করা হচ্ছে। সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি গত ১৪ জুন সরকারি পর্যায়ে এই চাল আমদানির অনুমতি দেয়। ভিয়েতনামের রাষ্ট্রায়ত্ত কম্পানি ‘ভিনাফুড টু’ এই চালের ৬০ শতাংশ চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে এবং বাকি ৪০ শতাংশ মোংলা বন্দর দিয়ে সরবরাহ করবে। ৪৩০ মার্কিন ডলার দরে ২ লাখ টন আতপ চাল আমদানিতে ৭১৩ কোটি ৮০ লাখ টাকা খরচ হবে। এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে এসব চাল সরকারি গুদামে তুলে মজুদ নিশ্চিত করা হবে।

গুদামে তোলার পর কী করা হবে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম পরিবহন সংরক্ষণ ও চলাচল নিয়ন্ত্রক জহিরুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমরা প্রথমে গুদামে রাখব। এরপর খাদ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনা এবং চাহিদামতো বিভিন্ন স্থানে পৌঁছে যাবে। আর সরকারি বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প, সামাজিক নিরাপত্তা প্রকল্পে এসব চাল দেওয়া হবে। ’

জানা গেছে, চালের বাম্পার ফলন হওয়ায় বিগত বেশ কয়েক বছর সরকারিভাবে চাল আমদানি সম্পূর্ণ বন্ধ ছিল। সীমিত পরিসরে কিছু চালও রপ্তানি করা হয়েছিল। কৃষকদের কথা ভেবে সরকার চাল আমদানির ওপর সম্পূরক শুল্ক আরোপ করেছিল। এতে বেসরকারি চাল আমদানিও নিরুৎসাহিত হয়েছিল কিন্তু গত অর্থবছরে ধীরে ধীরে সরকারি গুদামে চালের মজুদ শেষ হয়ে এলেও খাদ্য মন্ত্রণালয় কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। এতে চালের দাম বাড়তে থাকে। উদ্বেগজনক অবস্থায় পৌঁছার পর সরকার রমজানের শেষ দিকে এসে সরকারিভাবে চাল আমদানির উদ্যোগ নেয়। থাইল্যান্ড থেকে সরকারিভাবে চাল আমদানি করতে ৫ জুলাই খাদ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ও খাদ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের নেতৃত্বে ব্যাংকক গেছে একটি প্রতিনিধিদল। সরকারিভাবে আলোচনা শেষে আগামী ৮ জুলাই তারা দেশে ফিরবে।

সরকারি চাল এলে বাজারে কেমন প্রভাব হবে জানতে চাইলে চাক্তাই চাল ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি জামাল হোসেন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘অবশ্যই বাজারে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। কারণ যারা বেশি মুনাফার জন্য মজুদ করে রেখেছে তারা চাল ছেড়ে দিতে বাধ্য হবে, আর এতে দাম কমবে। তবে খুচরা পর্যায়ে দাম কমানোর জন্য বাজার অবশ্যই তদারকি দরকার। ’

আর বেসরকারি আমদানি উৎসাহিত করতে শূন্য মার্জিন বা বিনা জমায় চাল আমদানির সুযোগ দেয় সরকার। একই সঙ্গে শুল্ক হার ২৮ শতাংশ থেকে ১০ শতাংশে কমানোর ঘোষণা দেওয়া হয়। এই অবস্থায় বিদেশ থেকে চাল আমদানি শুরু করেছে বেসরকারি আমদানিকারকরা। ইতিমধ্যে চট্টগ্রামের কয়েক বড় ব্যবসায়ী মিয়ানমার থেকে এনেছেন, নতুন করে আমদানির ঋণপত্র খোলা শুরু করেছেন। একই সঙ্গে ভারত ও থাইল্যান্ড থেকে আমদানির প্রক্রিয়া শুরু করছেন।

খাদ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, ২০১৭ সালের ৩ জুলাই পর্যন্ত খাদ্যশস্যের সরকারি গুদামে মোট মজুদ আছে ৩ লাখ ৩৭ হাজার মেট্রিক টন। এর মধ্যে চাল ১ লাখ ৫০ হাজার মেট্রিক টন এবং গম ১ লাখ ৮৭ হাজার মেট্রিক টন। আর ১ জুলাই থেকে ৩ জুলাই পর্যন্ত মোট চাল আমদানি হয়েছে ৮৫০ টন।

Print Friendly, PDF & Email

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর