,



তারা কাঁদে, আমাদের চোখের পানি শুকিয়ে গেছে

বাঙ্গালী কণ্ঠ ডেস্কঃ  ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার রায়পুর ইউনিয়নে বিএনপির নেতাকর্মীদের ওপর পুলিশি নির্যাতনের কথা স্মরণ করতেই কেঁদে ফেললেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। গতকাল শনিবার দুপুরে রায়পুরের ঈদগাহ ময়দানে এক অনুষ্ঠানে তার কান্না দেখে আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। বক্তব্য দেওয়ার সময় এভাবে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়ায় উপস্থিত সবার কাছে ক্ষমাও চান মির্জা ফখরুল।

অশ্রুসিক্ত নয়নে মির্জা ফখরুল বলেন, ‌‘২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি নির্বাচনের পরে আমি এখানে এসে আপনাদের সাথে কথা বলেছিলাম। জেনেছিলাম, আপনারা অনেক কষ্টের মধ্যে দিনযাপন করছেন। আপনারা কেউ ঘরে থাকতে পারেননি। শীতের মধ্যে আপনারা ধানক্ষেতে অথবা বিভিন্ন জায়গায় রাত কাটিয়েছেন। এখনও এ কষ্টের শেষ হয়নি। আপনারা আমাকে ক্ষমা করবেন, আমি মাঝে মাঝে একটু আবেগাপ্লুত হয়ে পড়ি।’

গত বছর অাগস্টে ঢাকায় এক আলোচনা সভায় দলীয় নেতাকর্মীদের অবস্থা বর্ণনার এক পর্যায়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন বিএনপি মহাসচিব।

সে সময় তিনি বলেছিলেন, ‘প্রতিদিন গাড়িতে আসি, যানজটে গাড়ি থামলে দেখি সব ইয়াং ছেলে-পেলে ছুটে আসে। বলে, ‘স্যার আমি তো বিএনপি করতাম লক্ষ্মীপুরে। এতো মামলার ভারে পালিয়ে চলে এসেছি ঢাকায়, এখন এখানে হকারি করছি।’

‘রিকশা চালায় আমাদের ছেলেরা,’ বলেই কেঁদে ফেলেন ফখরুল।

ওই সভায়ও ‘আবেগ ধরে রাখতে’ না পারার জন্য দুঃখপ্রকাশ করেছিলেন সাবেক অধ্যাপক মির্জা ফখরুল।

এ প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘তারা (বিএনপি) বসে বসে প্রেস ব্রিফিং করে আর কান্নাকাটি করে। আমাদের তো হাজার হাজার কর্মীকে তারা হত্যা করে রক্তস্রোত বইয়ে দিয়েছিল। আমাদের কাঁদতে কাঁদতে চোখের পানি শুকিয়ে গেছে।’

আজ রোববার সকালে খুলনায় আওয়ামী লীগের বিভাগীয় প্রতিনিধি সভায় যোগ দেওয়ার আগে যশোরের রাজারহাটে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নে জবাবে এসব কথা বলেন তিনি।

এ সময় রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘রামপালে বিদ্যুৎকেন্দ্র একেবারেই নির্মাণ করা যাবে না বলে ইউনেস্কোর যে নিষেধাজ্ঞা ছিল, সেটা আমরা অতিক্রম করেছি। এখন বিদ্যুৎকেন্দ্র করা যাবে। তবে ইউনেস্কোর ছোট ছোট কিছু শর্ত আছে। দেশ, জনগণ ও পরিবেশের স্বার্থে এগুলো আমরা সংশোধন করে নেব।’

তিনি বলেন, ‘এ ব্যাপারে যা সত্য, দিবালোকের মতো পরিষ্কার, সেটাই আমরা বলেছি। মিথ্যাচারের ভাঙা রেকর্ড বাজানো বিএনপির পুরোনো অভ্যাস।’

যশোরে ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে ছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহীন চাকলাদার, পুলিশ সুপার (এসপি) আনিসুর রহমান, সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় এবং স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা।

Print Friendly, PDF & Email

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর