,



ওএমএস বন্ধ করে দেওয়ায় বিপাকে হাওরের কৃষক

বাঙালী কণ্ঠ নিউজঃ  সুনামগঞ্জে খোলাবাজারে ন্যায্যমূল্যে চাল বিক্রি (ওএমএস) বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ফসলহারা কৃষকরা বিপাকে পড়েছেন। মানবিক বিবেচনায় ওএমএস চালুর দাবিতে জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক অফিস ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে চিঠি লিখে কোনো সদুত্তর পাচ্ছেন না ডিলাররা। জেলা খাদ্য বিভাগ জানিয়েছে, ওএমএস চালু রাখার ব্যাপারে মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে। পাহাড়ি ঢল ও অতিবৃষ্টিতে এ বছর সুনামগঞ্জ জেলার ছোট-বড় ১৪২টি হাওরের ফসল তলিয়ে যায়। এতে নষ্ট হয় প্রায় ২ লাখ ২০ হাজার হেক্টর বোরো ফসলি জমি। হাওরাঞ্চলের কৃষকদের ঘরে ঘরে শুরু হয় খাদ্যাভাব। পেটের তাগিদে এলাকা ছেড়ে শহরে পাড়ি জমান ফসলহারা বহু কৃষক। এমন অবস্থায় খাদ্য সঙ্কট মোকাবেলায় সরকার সারা জেলায় গত ১০ এপ্রিল থেকে ৪২টি পয়েন্টে ১৫ টাকা দরে চাল বিক্রয় কেন্দ্র খোলে (ওএমএস কেন্দ্র)। পরবর্তী সময়ে প্রতিটি ইউনিয়নে একজন করে ডিলার সংখ্যা বাড়িয়ে ১১০-এ উন্নীত করা হয়। প্রতিদিন হতদরিদ্ররা ডিলার পয়েন্টে কম মূল্যে চাল ক্রয়ের সুযোগ পায়। কিন্তু গত ১ জুলাই থেকে সরকারি সিদ্ধান্তে ওএমএসের চাল বিক্রি বন্ধ হয়ে গেছে। চাল বিক্রি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় চরম বিপাকে পড়েছেন ফসলহারা দরিদ্র কৃষকরা। চাল বিক্রি বন্ধ হয়ে যাওয়ার পরও ডিলারের দোকানে প্রতিদিন চাল নিতে লাইনে দাঁড়াচ্ছে শত শত কৃষক পরিবার। চাল না পেয়ে ফিরে যেতে হচ্ছে শূন্য হাতে। জামালগঞ্জ উপজেলার ফেনারবাক ইউনিয়নের কৃষক আবদুল আলী বলেন, চাল বিক্রি বন্ধ হয়ে গেছে জানা ছিল না, চাল কিনতে এসে খালি হাতে ফিরতে হচ্ছে। সদর উপজেলার ওয়েজখালী এলাকার কৃষক হোসেন আহমদ বলেন, ‘আগে ডিলাররার কাছ থাকি কম দামে চাউল কিনতে পারতাম, অখন বাজার থাকি বেশি দামে চাউল কিনতে গিয়া কষ্ট করতে অইরো, সরকার আমরার কথা চিন্তা করলে ওএমএস বন্ধ করত না।’ সুনামগঞ্জ শহরের ওয়েজখালী পয়েন্টের ডিলার রতন কুমার ধর জানান, আমাকে ডিলার পয়েন্টে না পেয়ে হতদরিদ্ররা আমার বাসা ঘেরাও করে। সরকার যে ওএমএস বন্ধ করে দিয়েছে সেই কথাটি আমি ফসলহারা হতদরিদ্রদের বোঝাতে পারছি না। তাহিরপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মো. কামরুজ্জামান বলেন, ফসলহারা কৃষকদের জন্য ওএমএস আবারও চালু করা প্রয়োজন, কারণ বেশি দামের চাল কেনার সামর্থ্য ফসলহারা কৃষকদের নেই। জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক জাকারিয়া মোস্তফা জানান, ওএমএস চালু রাখার জন্য আমরা মন্ত্রণালয়ে চিঠি লিখেছি। কিন্তু এখনও সদুত্তর পাইনি।

Print Friendly, PDF & Email

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর