,



আক্রান্তদের ক্ষতিপূরণ কেন নয়

বাঙালী কণ্ঠ নিউজঃ  সারাদেশে চিকুনগুনিয়ায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের পর্যাপ্ত ক্ষতিপূরণ কেন দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। চিকুনগুনিয়ার প্রধান বাহক অ্যাডিস মশা ও অন্যান্য মশা নিধনে কেন দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করা হয়েছে। একই সঙ্গে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা হিসেবে যেসব স্থানে আবর্জনা জড়ো করে রাখা হয়েছে তা পরিষ্কার এবং মশা নিয়ন্ত্রণে জনসচেতনতা বাড়ানোর জন্য কেন ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়েছে। এক রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে গতকাল বিচারপতি সৈয়দ মোহাম্মদ দস্তগীর হোসেন ও বিচারপতি মো. আতাউর রহমান খানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রুল জারি করেন। চিকুনগুনিয়া জ্বর রোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য গত ৪ জুলাই হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন আইনজীবী সুজাউদদৌলা আকন্দ। চিকুনগুনিয়া নিয়ে বিভিন্ন দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদন রিটের সঙ্গে যুক্ত করা হয়। গতকাল আবেদনের ওপর শুনানি শেষে আদালত রুল দেন। আদালত ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনসহ দেশের চিকুনগুনিয়ায় উপদ্রুত এলাকার ময়লা ফেলার বাগাড় (ডাম্পিং স্পট) পরিষ্কার করতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, তা জানতে রুল দেন। স্বাস্থ্য সচিব, স্থানীয় সরকার সচিব, ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের মেয়র, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাসহ বিবাদীদের তিন সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে। আদালতে রিটপক্ষে শুনানি করেন আবেদনকারী সুজাউদদৌলা। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অমিত তালুকদার। সুজাউদদৌলা শুনানির সময় আদালতে বলেন, ১৯৫২ সালে আফ্রিকার দেশ তানজানিয়ায় চিকুনগুনিয়ার প্রাদুর্ভাব ঘটে। পরে তা ছড়িয়ে পড়ে। বাংলাদেশে এ রোগ দেখা দেয় ২০০৮ সালে। যার প্রকোপ চলতি বছরের মে মাস থেকে বেশি হয়। আদালত বলেন, সরকার পদক্ষেপ নিচ্ছে। গত শুক্রবার মসজিদে সচেতনতার কথা বলা হয়েছে, মোনাজাত হয়েছে। সুজাউদদৌলা বলেন, উচ্চ আদালত থেকে নির্দেশনা গেলে প্রশাসনের কর্তারা সতর্ক হবেন। খবর অনুযায়ী মশা নিধনে কোটি কোটি টাকা বরাদ্দ রয়েছে। কিন্তু এত টাকা যায় কোথায়। সেটাও দেখা দরকার। আদালত বলেন, অর্থ খরচ হচ্ছে। কিন্তু এখন আক্রান্তদের সহযোগিতাও করা দরকার। তাদেরকে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে না? সুজাউদদৌলা বলেন, এটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। আবেদনে যুক্ত করে দিচ্ছি। আদালত রাষ্ট্রপক্ষের বক্তব্য শুনতে চাইলে অমিত তালুকদার বলেন, রাষ্ট্রের দুজন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেলও চিকুনগুনিয়ায় আক্রান্ত। এ রোগ প্রতিরোধে ব্যাপক হারে সচেতনতা বাড়ানো দরকার। পরে হাইকোর্ট ওই সব রুল জারি করেন।

Print Friendly, PDF & Email

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর