,



সিরাজগঞ্জে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ছুটি বাতিল ঘোষণা

বাঙালী কণ্ঠ নিউজঃ  সিরাজগঞ্জে যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকা ও নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হওয়ার মধ্যে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ছুটি বাতিল ঘোষণা করেছেন জেলা প্রশাসক কামরুন নাহার সিদ্দীকা।

সিরাজগঞ্জের বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে বুধবার জেলায় কর্মরত গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন জেলা প্রশাসক কামরুন নাহার সিদ্দিকা।

সভায় জেলা প্রশাসক বলেন, বন্যা পরিস্থিতি এখনও সহনীয় পর্যায়ে রয়েছে। জেলার নদীতীরবর্তী কাজিপুর, সিরাজগঞ্জ সদর, বেলকুচি, শাহজাদপুর ও চৌহালী উপজেলার ৩০টি ইউনিয়নের চরাঞ্চলসমূহের ১৯৪টি গ্রামের ১৪ হাজার ৮১৬টি পরিবারের ৬১ হাজার ১৮৬ জন মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

‘এসব এলাকার আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। কিছু মানুষ বাঁধ ও ঊঁচু স্থানে আশ্রয় নিলেও আশ্রয়কেন্দ্রগুলো এখনো ফাঁকা রয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবেলায় বিভাগওয়ারী কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করে দায়িত্ব বন্টন করে দেওয়া হয়েছে।’

বিশেষ কারণ ছাড়া জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে কর্মরত সরকারি সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীর ছুটি বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে বলেও তিনি জানান।  জেলা প্রশাসক কামরুন নাহার সিদ্দিকা আরো বলেন, চৌহালী উপজেলা রক্ষা বাঁধে বার বার ধস দেখা দেওয়ায় ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। বাঁধ তৈরিতে ঠিকাদারের গাফিলতি ও ক্রটি পরিলক্ষিত হওয়ায় বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে।

সভায় বিভাগওয়ারী শিক্ষা, মৎস্য, পশুসম্পদ, জনস্বাস্থ্য ও কৃষি বিভাগের বর্তমান প্রেক্ষাপটে হালনাগাদ তথ্য না পাওয়ার বিষয়টি গণমাধ্যমকর্মীদের কাছে জানতে পেরে দ্রুত বিষয়টি সমাধানে উদ্যোগ গ্রহণের আশ্বাস দেন জেলা প্রশাসক।

সভায় জেলা ত্রাণ ও পুর্নবাসন কর্মকর্তা আব্দুর রহিম স্বাক্ষরিত পত্রের বরাত দিয়ে জানানো হয়, প্লাবিত এলাকায় শাহজাদপুর ও চৌহালীতে এক হাজার ২১০টি ঘরবাড়ি সম্পূর্ণ এবং পাঁচটি উপজেলায় চার হাজার ২৩৭টি ঘরবাড়ি আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব এলাকায় ইতিমধ্যেই ১০৮ মেট্রিকটন জিআর চাল বিতরণ ও তিন লাখ ৩৫ হাজার নগদ টাকা বিতরণ করা হয়েছে। পাশাপাশি পাঁচ লাখ ৬৫ হাজার টাকা, ১৫৪ মেট্রিকটন চাল এবং প্রয়োজনীয় পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট মজুত রয়েছে।

সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ হাসান ইমাম জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় সিরাজগঞ্জ পয়েন্টে যমুনা নদীর পানি ১৫ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিকাল ৩টায় বিপদসীমার ৬৭ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়।

নদী ভাঙন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কাজিপুর উপজেলার মাছুয়াকান্দি এলাকায় বাঁধ ভেঙে যাওয়ায় সেখানে বালিভর্তি জিও ব্যাগ ফেলে নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চলছে।

এছাড়া চৌহালী উপজেলার এনায়েতপুর ও শাহজাদপুর উপজেলার কৈজুরী এলাকায় নদীতীর ভাঙলেও বরাদ্দ না থাকায় সেখানে ভাঙন রোধে কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি বলে তিনি জানান।

Print Friendly, PDF & Email

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর