,



এনআইডি নিয়ে নির্ভাবনায় ইসি

বাঙালী কণ্ঠ ডেস্কঃ জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) সেবা কার্যক্রম স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে স্থানান্তর নিয়ে নির্ভাবনায় নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ইসির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মতে, এখন পর্যন্ত এনআইডি সেবা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখতে কমিশনে কোনো আলোচনাসভা পর্যন্ত করেনি। সরকারের সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে বৈঠকও করেনি। যদিও এ নিয়ে ক্ষোভ বিরাজ করছে তাদের মধ্যে। ইসির অফিসার অ্যাসোসিয়েশন যেভাবে এনআইডি নিজেদের পক্ষে রাখার জন্য সোচ্চার, ঠিক উলটো অবস্থানে বর্তমান কমিশন। যদিও একাধিক নির্বাচন কমিশনার বলেছেন, সরকার চাইলে এনআইডি নিতে পারে, আমাদের করার কী আছে?

এদিকে, জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) সেবা কার্যক্রম নির্বাচন কমিশনের কাছ থেকে স্থানান্তরে একটি কারিগরি কমিটি গঠন করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগ। মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগের অতিরিক্ত সচিবকে (প্রশাসন ও অর্থ অনুবিভাগ) আহ্বায়ক করে গঠিত ৯ সদস্যের ঐ কমিটিতে ইসির এনআইডি অনুবিভাগের মহাপরিচালককেও রাখা হয়েছে। সম্প্রতি সুরক্ষা সেবা বিভাগের উপসচিব তরফদার মাহমুদুর রহমানের জারি করা অফিস আদেশে এ কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির কার্যপরিধি নির্ধারণ করে দিয়ে বলা হয়েছে, জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন কার্যক্রম নির্বাচন কমিশনের পরিবর্তে সুরক্ষা সেবা বিভাগে আনয়নের লক্ষ্যে কারিগরি বিষয় যাচাইপূর্বক স্থানান্তরের পদ্ধতি/প্রক্রিয়া সম্পর্কে সুপারিশ প্রণয়ন; স্থানান্তরযোগ্য অবকাঠামো/জনবল চিহ্নিত করে স্থানান্তরের পদ্ধতি সম্পর্কে সুপারিশ প্রণয়ন; এতত্সংক্রান্ত আনুষঙ্গিক বিষয়াদি; নির্বাচন কমিশন থেকে জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন কার্যক্রম সুরক্ষাসেবা বিভাগে হস্তান্তরের জন্য একটি সুপরিকল্পিত রোডম্যাপ প্রণয়ন এবং কমিটি প্রয়োজনে সদস্য কো-অপ্ট করতে পারবে।

গত ১৭ মে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে এনআইডি সরিয়ে নেওয়ার জন্য মতামত দেওয়া হলে ২৪ মে ইসিকে এনআইডি ছেড়ে দেওয়ার কার্যক্রম হাতে নিতে বলে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। এরপর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চাপের মুখে শুধু একবারই নির্বাচন কমিশন যুক্তি তুলে ধরে এনআইডি নিজেদের কাছে রাখার পক্ষে মতামত তুলে ধরে চিঠি দেয়। পরে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ গত ২০ জুন ইসিকে একটি চিঠি দেয়।

 

এতে বলা হয়, সরকার এনআইডি কার্যক্রম আইনানুগভাবে নির্বাচন কমিশন থেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগে হস্তান্তরের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। তাই সিদ্ধান্তটি বাস্তবায়নের জন্য নির্দেশনা দেয় মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। সেই নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে ২৩ জুন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদা গণমাধ্যমকে বলেন, এনআইডি অনুবিভাগ অনেক বড় প্রতিষ্ঠান। কীভাবে নেবে-না নেবে, এ বিষয়ে অবশ্যই আলোচনা হবে। এটা তো টেবিল-চেয়ার না যে উঠিয়ে নিয়ে গেলাম। এনআইডি সেবা চলে গেলে আমাদের কার্যক্রমে অসুবিধা হবে। তিনি বলেন, ‘তারা নিতে চায়, আমরা দেবো না—এ রকমও বলা যায় না। সেই রকম অবস্থানে আমরা নেই।

Print Friendly, PDF & Email

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর