,



মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তনে যে কোনো ত্যাগ স্বীকারে প্রস্তুত

বাঙালী কণ্ঠ নিউজঃ  উন্নয়নে বাংলাদেশ এখন সারাবিশ্বের সামনে বিষ্ময়’ অভিমত ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ৪২ বছর আগে সুখী, সমৃদ্ধ ও স্বনির্ভর বাংলাদেশ বিনির্মাণের যে মশাল বঙ্গবন্ধু জ্বালিয়ে রেখে গিয়েছেন; তার সুযোগ্য উত্তরসূরীরা আজও নিষ্ঠার সঙ্গে তা বহন করে চলেছে। ১৬ কোটি মানুষের আস্থা ও সমর্থনের প্রতীকে পরিণত হয়েছে আওয়ামী লীগ সরকার। এরই ধারাবাহিকতায় নিশ্চিতভাবে বাংলাদেশ ২০৪১ সালের আগেই উন্নত, সমৃদ্ধ বাংলাদেশে পরিণত হবে। আর দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করতে যেকোনো ত্যাগ স্বীকার করতে আমি প্রস্তুত। স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে গতকাল বুধবার জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রীর জন্য নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্বে একাধিক এমপির প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। নিজের সন্তানদের ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তোলা ও অটিজম নিয়ে কাজ করার কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। বলেন, দেশের উন্নয়নমুলক অনেক কাজেই আমাদের ছেলেমেয়েরা সাহায্য করছে। ছোট বোনের মেয়ে টিউলিপ এই নিয়ে দু’বার লন্ডনে এমপি নির্বাচিত হয়েছে।
সংসদ নেতা শেখ হাসিনা দৃঢ়তার সঙ্গে জানান, ক্ষমতায় থেকেও তিনি কিংবা তাঁর পরিবার কখনও কোনো সুবিধা নেননি। বলেন, আমরা ছেলে-মেয়েদের লেখাপড়া শিখিয়েছি। আমি ও আমার বোনের ৫টি ছেলে মেয়ে। তাদেরকে একটা বলে দিয়েছি- লেখাপড়া শিখেছ ওইটুকুই তোমাদের সম্পদ। তারাও প্রতিটি কাজে আমাদের সহায়তা করছে। কখনো বিরক্ত করে না, এই ব্যবসা দিতে হবে, সেই ব্যবসা দিতে হবে। এটা করতে হবে, ওটা করতে হবে। এই ধরনের বিরক্ত কখনোই তারা করেনি। তিনি আরো বলেন, ক্ষমতা আমার কাছে ব্যক্তিগত আকাঙ্ক্ষা পূরণের জন্য নয়। মানুষের কল্যাণের জন্য যে কোনো অবস্থা মোকাবিলা করতে প্রস্তত। আমি প্রেসিডেন্টের মেয়ে ছিলাম, মন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রীর মেয়ে ছিলাম, নিজেও তিন বারের প্রধানমন্ত্রী। নিজের ভাগ্য কী করে গড়ব, সেই চিন্তা কখনও করিনি।
শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশ আজ সারাবিশ্বের কাছে উন্নয়নের বিস্ময়ে পরিণত হয়েছে। একটি সুখী, সমৃদ্ধ ও স্বনির্ভর বাংলাদেশ বিনির্মাণের যে মশাল বঙ্গবন্ধু জ্বালিয়ে রেখে গিয়েছিলেন ৪২ বছর আগে, তার সুযোগ্য উত্তরসূরীরা আজও নিষ্ঠার সঙ্গে তা বহন করে চলেছেন। উন্নয়ন, অগ্রগতি ও সমতাভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠায় লাল সবুজের নিশানা নিয়ে, আওয়ামী লীগ বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সিঁড়ি বেয়ে বাংলাদেশকে সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। আজকের ১৬ কোটি জনগণের আস্থা ও সমর্থনের প্রতীকে পরিণত হয়েছে আওয়ামী লীগ সরকার। এরই ধারাবাহিকতায় নিশ্চিতভাবে বাংলাদেশ ২০৪১ সালের আগেই উন্নত, সমৃদ্ধ বাংলাদেশে পরিণত হবে। আর দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করতে যেকোনো ত্যাগ স্বীকার করতে আমি প্রস্তুত।
এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ ঃ প্রধানমন্ত্রী বলেন, রূপকল্প ২০২১ বাস্তবায়নের লক্ষ্য পূরণের দিকে দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশের মানুষের আয় বেড়েছে, সাক্ষরতার হার বৃদ্ধি পেয়েছে। জীবনযাত্রার মান উন্নত হয়েছে। বাংলাদেশ আজ নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতুর মতো দীর্ঘতম সেতু নির্মাণ করার সাহস নিতে পেরেছে। একটি মানুষও গৃহহীন না থাকার প্রত্যয়ে আশ্রায়ণ প্রকল্প ও একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্প দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফোটাচ্ছে। ঘরে ঘরে বিদ্যুতের আলো জ্বালিয়ে আমাদের সরকার প্রতিটি নাগরিকের মনে আকাক্সক্ষার প্রদীপ জ্বালিয়ে তুলছে। নারীর ক্ষমতায়নে বিশ্বে প্রশংসিত বাংলাদেশ। তিনি বলেন, ২০০৮ সালের ১২ ডিসেম্বর জাতীয় নির্বাচনের প্রাক্কালে আওয়ামী লীগ সরকার ঘোষণা করে রূপকল্প-২০২১, যার মূল উপজীব্য ছিল ডিজিটাল বাংলাদেশ। ডিজিটাল বাংলাদেশের স্বপ্নদ্রষ্টা আন্তর্জাতিকমহলে সমাদৃত প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ সজীব ওয়াজেদ জয়। তারুণ্যের মেধা ও শক্তিকে ইতিবাচক কাজে লাগানোর এক অনবদ্য ও বাস্তবায়ন শুরু হয়। ঘোষিত সময়ের আগেই বাংলাদেশ নিম্ন আয়ের দেশের তালিকা থেকে বের হয়ে এসেছে। বিশ্বব্যাংকের মধ্যম আয়ের দেশের তালিকায় স্থান পায় বাংলাদেশ। অর্থনীতিবিদগণ একে দেশের ধারাবাহিক অর্থনৈতিক উন্নয়নে সাফল্যের অনন্য স্বীকৃতি হিসেবে অভিহিত করেছেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশকে বিবেচনা করা হতো উন্নয়নের টেস্ট কেস হিসেবে, আর আজ বাংলাদেশ সারাবিশ্বের কাছে উন্নয়নের বিস্ময়ে পরিণত হয়েছে। বাংলাদেশ আজ উন্নয়নের রোলমডেল হিসেবে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলার আধুনিক রূপই হচ্ছে আজকের ডিজিটাল বাংলদেশ। রূপকল্প ২০২১-এর অধীনে ঘোষিত সময়ের আগেই একটি সুখী, সমৃদ্ধ, স্বনির্ভর বাংলাদেশ বিনির্মাণের মধ্য দিয়ে বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়ার স্বপ্ন পূরণের জন্য আওয়ামী লীগ আজও নিরলস পরিশ্রম করে যাচ্ছে। যে মশাল বঙ্গবন্ধু জ্বালিয়ে রেখে গিয়েছিলেন ৪২ বছর আগে, তার সুযোগ্য উত্তরসূরীরা আজও নিষ্ঠার সঙ্গে তা বহন করে চলেছেন।
শেখ হাসিনা আরও বলেন, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের আদর্শ মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় সমৃদ্ধ উন্নত বাংলাদেশ। বাংলার কৃষ্টি, বাংলার ঐতিহ্য, বাংলার রক্ত দিয়ে লেখা আমাদের বাংলা জাতীয়তাবাদ। আর সেই কারণে আওয়ামী লীগ সরকার উন্নয়নের মহাসড়কে অর্থনৈতিক মুক্তির লক্ষ্য জনগণকে এগিয়ে চলার শক্তি যোগাচ্ছে। উন্নয়ন, অগ্রগতি ও সমতাভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠায় লাল সবুজের নিশানা নিয়ে, আওয়ামী লীগ বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সিঁড়ি বেয়ে বাংলাদেশকে সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। আজকের ১৬ কোটি জনগণের আস্থা ও সমর্থনের প্রতীকে পরিণত হয়েছে আওয়ামী লীগ সরকার। এরই ধারাবাহিকতায় নিশ্চিতভাবে বাঙলাদেশ ২০৪১ সালের আগেই উন্নত, সমৃদ্ধ বাংলাদেশে পরিণত হবে। তিনি বলেন, আত্ম-সম্মানবোধ নিয়ে আমাদেরকে বায়ান্নো ও একাত্তরে অর্জিত গৌরবের পথ ধরে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাবে। আর এটি সম্ভব হতে পারছে, আওয়ামী লীগের দূরদর্শী রাষ্ট্র পরিচালনায়। জনগণকে সরকারের কাজে সম্পৃক্ত করে উন্নয়নের পথে এগিয়ে যেতে স্বচ্ছতা, জবাবদিহীত ও জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতায় আওয়ামী লীগ সরকার বন্ধপরিকর। আর এই এগিয়ে যাওয়া হবে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সিঁড়ি বেয়ে, আমাদের এগিয়ে যাওয়ার কাক্সিক্ষত উন্নত সোনার বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে।

মানবাধিকার সুরক্ষা ও উন্নয়ন ঃ সরকার দলীয় সদস্য কামাল আহমেদ মজুমদারের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, মানবাধিকার কমিশনকে শক্তিশালীকরণের মাধ্যমে দেশের মানবাধিকার সুরক্ষা ও উন্নয়নে সরকার দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। বর্তমান সরকার ২০০৯ সালে ক্ষমতায় আসার পরই জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন প্রণয়নের মাধ্যমে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সদস্য সংখ্যা বৃদ্ধিসহ পুনর্গঠন করে। তিনি জানান, ২০১০ সালের জুন মাসে জাতিসংঘের প্যারিস প্রিন্সিপ্যালের আলোকে সকল শ্রেণীর মানুষের প্রতিনিধিত্বমূলক অংশগ্রহণের ভিত্তিতে একজন চেয়ারম্যান ও ৬ জন সদস্য নিয়ে কমিশন গঠনপূর্বক নতুন উদ্যোমে কার্যক্রম শুরু করা হয়। কমিশন স্বাধীন এবং নিরপেক্ষভাবে তাদের কাজ করে যাচ্ছে। ইতোমধ্যে দেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি উন্নয়নে যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে, যা রাষ্ট্রের ভাবমূর্তি উজ্জল করেছে। সরকার ইতোমধ্যে কমিশনকে ৪৮ জন জনবল প্রদান করা হয়েছে। কমিশনকে আরও শক্তিশালী করতে বাজেট ও যানবাহনসহ বরাদ্দ দ্বিগুণ করা হয়েছে।
সাবমেরিন ক্রয়ে বহির্বিশ্বে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া নয় ঃ স্বতন্ত্র সদস্য ডা. রুস্তম আলী ফরাজীর প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, চীন থেকে সাবমেরিন ক্রয়ের চ‚ক্তি হয়েছিল, যার আওতায় সাবমেরিন দুটি গত বছরের ২৫ ডিসেম্বর বাংলাদেশে আগমন করে এবং এ বছরের ২৫ মার্চ আমি সাবমেরিন দুটি বানৌজা নবযাত্রা ও বানৌজা অগ্রযাত্রা নামে কমিশনিং করি, যা বর্তমানে আমাদের নৌবহরে যুক্ত আছে। তিনি বলেন, সাবমেরিন দু’টি বাংলাদেশ নৌবাহিনীতে যুক্ত হওয়ায় আমাদের প্রতিরক্ষাব্যবস্থা পূর্বের তুলনায় অনেক শক্তিশালী হয়েছে, যা জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে বাংলাদেশের অবস্থানকে উন্নত করেছে। সাবমেরিন দু’টি যে কোন বহিশত্রুর আক্রমণ প্রতিরোধ, গভীর সমুদ্রে বাণিজ্যিক জাহাজসমূহের নিরাপত্তা প্রদান করা, গুরুত্বপূর্ণ অপরাশেনাল তথ্য সংগ্রহসহ দেশে সার্বভৌমত্ব রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে। আমি বিশ্বাস করি, চীন হতে সাবমেরিন ক্রয় বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থকেন্দ্রিক একটি সিদ্ধান্ত এবং এর ফলে রাজনৈতিক ক্ষেত্রে বহির্বিশ্বে কোন নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া হবে না।

Print Friendly, PDF & Email

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর