,



হাওরপাড়ে চরম গো-খাদ্য সংকট

বাঙালী কণ্ঠ নিউজঃ  প্রথম দফায় চৈত্রের আকস্মিক বন্যায় তলিয়ে গিয়েছিল খাদ্য। আর এখন তলিয়ে গেছে বসত ঘর। ৩য় দফার বন্যায় খাদ্য আর বাসস্থান হারিয়ে মানুষের মতো চরম অসহায় গবাদি পশুগুলোও। এবছর চরম গো খাদ্য সংকটে পড়েছেন হাওর পাড়ের কৃষক। গেল ক’দিন থেকে এ সংকট তীব্র হচ্ছে। হাওর তীরের কৃষক গৃহপালিত পশু নিয়ে পড়েছেন বিপাকে। বোরো ধান আর মাছ হারিয়ে যেমন তাদের নিজেদের খাদ্য নেই। তেমনি উপোস থাকছে তাদের গরু, মহিষ ও ছাগল। আর হাঁস, মোরগও। কুলাউড়া, বড়লেখা, জুড়ী, রাজনগর ও সদর উপজেলায় দেখা দিয়েছে গো-খাদ্যের চরম সংকট। যার কারণে কৃষক বাধ্য হয়ে বিক্রির করছেন তাদের গৃহপালিত গরু, মহিষ ও ছাগল। তবে জেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয় ও স্থানীয় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক সূত্রে জানা যায় চলমান বন্যায় এমন খাদ্য সংকটে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় থেকে এখন পর্যন্ত মেলেনি কোনো বরাদ্দ। গো খাদ্য সংকট আর অভাবের তাড়নায় নিজেদের সংসার চালাতে এখন লোকসান দিয়েই বিক্রি করছেন গবাদী পশু। শেষ সম্বল এই গৃহপালিত পশুগুলো বিক্রি করে বন্যা পরবর্তী ক্ষেতের জমি চাষ নিয়ে তাদের দুশ্চিন্তার শেষ নেই। গতকাল সরজমিন হাকালুকি হাওর পাড়ের পশ্চিম জুড়ী, শিমুলতলা, বাছিরপুর, বেলাগাঁও, শাহ্‌পুর, সাঈপুর, মিরশংকর, মদনগৌরী, খাগটেকা, খালনিগড়, খালের মুখ, বনগাঁও, চালবন, হরিরামপুর, উত্তর ভবানীপুর, গ্রামগুলো ঘুরে দেখা গেল এমন দৃশ্য। প্রতিটি গ্রামে পানি বন্দি মানুষ ও গবাদি পশুর বসতঘর। শিমুলতলা গ্রামের বৃদ্ধ মহিউদ্দিন (৭২) চোট্ট ডিঙ্গি নৌকা দিয়ে পদ্ম ও শালুক পাতা সংগ্রহ করছেন। তার ৬টি গরু বানের পানির কারণে বন্দিদশায়। বাড়ি থেকে বের করা যাচ্ছে না। গোয়াল ঘরেও পানি। তাই পদ্ম আর শালুক পাতা খেয়ে যেমন ওরা বেঁচে আছে। আর আমরাও নানা কষ্টে ওগুলো সংগ্রহ করছি। তিনি জানালেন প্রতিদিন ৩-৪ ঘণ্টা নৌকায় ঘুরে ওই পাতা সংগ্রহ করেন। তারমতো একই দুর্ভোগের কথা জানালেন নৌকায় গো-খাদ্য (ভেট পাতা) সংগ্রহকারী কবির, রমিজ ও সেলিম মিয়া। একই গ্রামের বৃদ্ধা রাফিয়া বেগম একটি ডুবন্ত করছ ও আম গাছ থেকে পাতা সংগ্রহ করছিলেন তার ৪টি ছাগলের জন্য। জানালেন বন্যার কারণে খাদ্য না থাকায় তার হৃষ্ট-পুষ্ট ছাগল এখন জীর্ণ-শীর্ণ। গৌড়করণ গ্রামের কৃষক কালাম মিয়ার ১০ একর জমি ছিল। জমির সব ধান তলিয়ে গেছে। ধান তুলতে না পারায় কোনো খড় পাননি। তার পাঁচটি গরু। এখন চারদিকে পানি থাকায় এই গরু নিয়ে বিপাকে পড়েছেন তিনি। মহেশগৌরী গ্রামের কৃষক কয়েছ মিয়া বলেন- আমাদের খাদ্য নেই গরুগুলোরও খাদ্য নেই। তার ১১টি গরুর মধ্যে বিক্রি করেছেন ৬টি। ৫ টি আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে পাঠিয়েছেন আপৎকালীন সময়ের জন্য। মীরশংকর গ্রামের কৃষক তজিম মিয়া ও সাদিপুর গ্রামের কৃষক কলিম আহমদ জানালেন তাদের সবক’টি গরু লোকসান দিয়েই বিক্রি করেছেন। হাওরে থই থই পানি।  আশপাশে রাখার মতো কোনা জায়গা নেই। মীরশংকর গ্রামের সফিক মিয়া বলেন, টাকা-পয়সা নাই। নিজে খাইতে পারছি না আর গো-খাদ্য কিনব কিভাবে। ওদের আর না খাইয়ে রাখতে চাই না।
পোষা প্রাণিগুলোর এমন কষ্ট সহ্য হয় না তাই বিক্রি করে দিয়েছি। অন্য মালিকের ঘরে গিয়ে যাতে তারা শান্তিতে থাকে।

Print Friendly, PDF & Email

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর