রাত পোহালেই গাজীপুর সিটির ভোট, প্রস্তুত ইসি

রাত পোহালেই বৃহস্পতিবার ভোটগ্রহণ শুরু হবে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের। রাজধানীর একেবারে কাছের এই সিটি করপোরেশনের নির্বাচন নিয়ে গোটা দেশবাসীর আগ্রহের কমতি নেই। কেমন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে, ভোটাররা স্বতস্ফূর্ত ভোট দিতে পাবেন কি না এমন নানা প্রশ্নের জবাব মিলবে এই সিটি নির্বাচনে। সেই দিকেই তাকিয়ে আছেন নির্বাচন পর্যবেক্ষকরা।

গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপি অংশ না নিলেও এই ভোট নিয়ে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যাচ্ছে স্থানীয়দের মধ্যে। আয়তনের দিক দিয়ে দেশের সবচেয়ে বড় সিটি করপোরেশন গঠনের পর এটি হচ্ছে তৃতীয় নির্বাচন। প্রায় ১২ লাখ ভোটার বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত একটানা ভোট দিবেন। ভোট নেওয়া হবে ইভিএম মেশিনে। ইতিমধ্যে ভোটগ্রহণের সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে নির্বাচন কমিশন। কেন্দ্রে কেন্দ্রে পৌঁছে গেছে নির্বাচনী সরঞ্জাম।

এদিকে, রিটার্নিং কর্মকর্তার অফিস সূত্র জানা গেছে, এবারই প্রথম গাজীপুর সিটি করপোরেশনের সব কেন্দ্রের ভোট হবে ইভিএম পদ্ধতিতে। বুধবার (২৪ মে) মহানগরীর ৫টি ভেন্যু হতে ইভিএম মেশিনসহ নির্বাচনী সরঞ্জাম ৪৮০টি কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে।

মোট আট জন প্রার্থী মেয়র পদে নির্বাচন করছেন। তাদের মধ্যে থেকে কে হচ্ছেন গাজীপুর সিটি করপোরেশনের আগামী দিনের নগরপিতা তা জানা যাবে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর পর ভোট গণনা শেষে।

গাজীপুর সিটি করপোরেশন মোট ভোটার

আয়তনে দেশের সবচেয়ে বড় গাজীপুর সিটি করপোরেশন গঠিত হয়েছিল সাবেক দুটি পৌরসভা ও ছয়টি ইউনিয়ন পরিষদ নিয়ে। এর আয়তন ৩২৯ দশমিক ৯০ বর্গকিলোমিটার। গত সিটি নির্বাচনের আগে এখানকার ভোটার সংখ্যা ছিল ১১ লাখ ৩৮ হাজার ২০৪, এবার তা বেড়ে হয়েছে ১১ লাখ ৭৯ হাজার ৪৭৬। নতুন ভোটার হয়েছেন ৪১ হাজার ২৭২ জন।

ঝুঁকিপূর্ণ যত কেন্দ্র

গাজীপুর সিটি নির্বাচনে ভোট গ্রহণ করা হবে ৪৮০ কেন্দ্রে। এর মধ্যে ৩৫১টি কেন্দ্রই ঝুঁকিপূর্ণ। এসকল ভোট কেন্দ্রে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকবেন একজন এসআই বা এসআইয়ের নেতৃত্বে ৩ কনস্টেবল থাকবে। এ ছাড়া, অস্ত্রসহ ২ জন আনসার সদস্য, লাঠি হাতে আরও ১০ জন আনসার সদস্য মোতায়েন থাকবে।

নিরাপত্তায় থাকছে পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবি

গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিয়োগ করা হয়েছে পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবি, আনসারসহ নিরাপত্তা বাহিনীর প্রায় ১০ হাজার সদস্যকে।

জিএমপির উপ-কমিশনার (এসবি) আবুল বাশার মো. আতিকুর রহমান জানান, পাঁচ হাজার পুলিশ সদস্য, ৯৬০ জন আনসার ব্যাটালিয়ন, চার হাজার ৮০০ গ্রাম পুলিশ, ৫৭টি ওয়ার্ডে একজন করে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে আনসার সদস্য নিয়োজিত থাকবে। এ ছাড়া, ১৯ জন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, ২০ প্লাটুন বিজিবি ও র‌্যাব সদস্য মোতায়েন থাকবে।

নিরাপত্তার চাদরে গাজীপুর

গাজীপুর সিটি নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা ফরিদুল ইসলাম জানিয়েছেন, জেলা প্রশাসনসহ সব বাহিনী মিলে সিটি নির্বাচনকে সফল করার জন্য কাজ করছে। সিটি নির্বাচনে পাঁচ স্তরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন করে গাজীপুরকে নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে দেওয়া হয়েছে।

নির্বাচন নিয়ে যা ভাবছেন তরুণ ভোটাররা

গাজীপুর সিটির ২৯ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা সাদিয়া বলেন, তিনি এবারই প্রথম ভোটার হয়েছেন। সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, প্রতীক দেখে নয়, প্রার্থীর যোগ্যতা দেখে ভোট দেবেন তিনি। তিনি বলেন, ‘আমি যেহেতু তরুণী, তাই যারা তরুণ-তরুণীদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করবেন, তাদেরই ভোট দেব। তরুণ ভোটারদের বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখছেন মেয়র পদপ্রার্থীরা। তারা সবাই নির্বাচিত হলে তরুণদের জন্য কাজ করার আশ্বাস দিচ্ছেন।’

ভোটকেন্দ্রের তথ্য বিনিময় হবে ‘হোয়াটসঅ্যাপে’

গাজীপুর সিটি করপোরেশনের নির্বাচনের ভোটকেন্দ্রের তথ্য এবার মেসেজিং অ্যাপ ‘হোয়াটসঅ্যাপে’র মাধ্যমে বিনিময় করা হবে বলে জানিয়েছেন রিটার্নিং কর্মকর্তা। রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. ফরিদুল ইসলাম ঢাকাপ্রকাশ-কে বলেন, কেন্দ্রগুলোর সঙ্গে তাৎক্ষণিক যোগাযোগ রক্ষা করতে এবার ‘হোয়াটসঅ্যাপ’ ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে।

এর মাধ্যমে রিটার্নিং অফিস থেকে নির্বাচন কমিশনের বিভিন্ন নির্দেশনা ও নোটিশসহ যাবতীয় তথ্য এবং কেন্দ্রের কর্মকর্তাদের বিভিন্ন তথ্য বিনিময় করা হবে। কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসারদের মধ্যে যাদের মোবাইল ফোনে হোয়াটসঅ্যাপ নেই, তাদের অ্যাপটি ডাউনলোড করে নিতে বলা হয়েছে এবং রিটার্নিং কার্যালয়ের মোবাইল ফোন নম্বরে থাকা হোয়াটসঅ্যাপের সঙ্গে নিজেদের নম্বর যুক্ত করে নিতে বলা হয়েছে।

মেয়র পদে লড়ছেন যারা

এবারের নির্বাচনে মেয়র পদে আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ও জাকের পার্টিসহ পাঁচটি রাজনৈতিক দলের মনোনীত প্রার্থী এবং তিনজন স্বতন্ত্র প্রার্থী সহ মোট আটজন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তবে সবার দৃষ্টি এখন প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র প্রার্থী অ্যাডভোকেট আজমত উল্লা খানের দিকে। মূলত নির্বাচনে লড়াই হবে আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা প্রতীকের প্রার্থীর সঙ্গে অন্য মেয়র প্রার্থীদের।

নৌকা প্রতীকের প্রার্থী অ্যাড. আজমত উল্লা খান গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি। তিনি সাবেক টঙ্গী পৌরসভার মেয়র ও চেয়ারম্যান হিসেবে তিনি তিনবার নির্বাচিত হয়েছিলেন।

তার সঙ্গে টেবিল ঘড়ি প্রতীক নিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন গাজীপুর সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলমের মা জায়েদা খাতুন।

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর