,



বন্যা পরিস্থিতির ফের অবনতি

বাঙালী কণ্ঠ নিউজঃ  মৌলভীবাজারের বড়লেখায় বন্যা পরিস্থিতির ফের অবনতি হয়েছে। কয়েকদিন ভারী বৃষ্টিপাত না হওয়ায় বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হচ্ছিলো। তবে গত বৃহস্পতিবার রাতের কয়েক ঘণ্টার ভারী বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে উপজেলায় বন্যা পরিস্থিতির আবারও অবনতি হয়েছে। ফলে আবারও বাড়িঘর রাস্তাঘাট পানিতে নিমজ্জিত হতে থাকে। ফলে জনজীবনে দুর্ভোগ বাড়ছেই কেবল।
সূত্র জানায়, অকাল বন্যায় হাকালুকি হাওর সংলগ্ন বর্ণি, তালিমপুর, সুজানগর ও দাসেরবাজার ইউনিয়নসহ আশপাশের এলাকার অন্তত ৬টি ইউনিয়নের প্রায় দেড়লাখ মানুষ গত ২ মাস ধরে পানিবন্দী হয়ে পড়েন। বন্যার অবনতি ঘটায় উপজেলার তালিমপুর, বর্ণি, সুজানগর, উত্তর শাহবাজপুর, দাসেরবাজারসহ বিভিন্ন ইউনিয়নে ১৪টি আশ্রয় কেন্দ্র খোলা হয়। এসব আশ্রয় কেন্দ্রে বাড়িঘর তলিয়ে যাওয়া দুর্গত ২৫৩ পরিবার আশ্রয় নেয়।
এদিকে গত কয়েক দিন তেমন ভারী বৃষ্টিপাত না হওয়ায় বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছিলো। রাস্তাঘাট ও বাড়িঘর থেকে পানি নামতে শুরু করায় অনেকেই বাড়ি ফিরতে শুরু করেছিলেন। কিন্তু গত বৃহস্পতিবার রাতের কয়েক ঘণ্টার ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে উপজেলায় বন্যা পরিস্থিতির আবারও অবনতি হয়েছে। পানি বৃদ্ধিও পাশাপাশি অনেকের ঘরে পানি ঢুকে পড়েছে। এছাড়া অধিকাংশ গ্রামীণ সড়ক আবারও পানিতে তলিয়ে গেছে।
সরেজমিনে তালিমপুর ইউপি’র হাল্লা, ইসলামপুর, খুটাউরা, বাড্ডা, নুুনুয়া, পাবিজুরি, শ্রীরামপুর, মুর্শিবাদকুরা, পশ্চিম গগড়া, পূর্ব গগড়া, বড়ময়দান, গাগড়াকান্দি, তেলিমেলি, গোপালপুর, হাউদপুর; সুজানগর ইউনিয়নের দশঘরি, রাঙ্গিনগর, ঝগড়ি, বাড্ডা, পাটনা, ভোলারকান্দি, উত্তর বাঘমারা, বাঘেরকোণা, চরকোণা, পশ্চিম সালদিগা; বর্ণি ইউপি’র পাকশাইল, সৎপুর, কাজিরবন্দ, নোয়াগাঁও, উজিরপুর, মুন্সিনগর এবং দাসেরবাজার ইউপি’র চাঁনপুর, অহিরকুঞ্জি, উত্তর বাগিরপার, দক্ষিণ বাগিরপার, পানিশাইল, ধর্মদেহী, চুলারকুড়ি, কোদালী, ধলিরপাড়, নেরাকান্দি, মাইজমজুড়ি ও মালিশ্রী গ্রামের রাস্তাঘাট ঢলের পানিতে নিমজ্জিত থাকতে দেখা গেছে। এছাড়া ঘরে পানি ঢুকে পড়ায় অনেকেই আবারও উঁচু এলাকায় আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে আশ্রয় নিচ্ছেন।
তালিমপুর ইউপি চেয়ারম্যান বিদ্যুত কান্তি দাস ও সুজানগর ইউপি চেয়ারম্যান নছিব আলী জানান, কয়েক দিন বৃষ্টি না হওয়ায় বন্যা পরিস্থিতি কিছুটা উন্নতি হয়েছিলো। এ কারণে আশ্রয় কেন্দ্রে আশ্রয় নেয়া পরিবারগুলো বাড়ি ফিরতে শুরু করেছিলো। কিন্তু গত বৃহস্পতিবার রাতের ভারী বৃষ্টিপাতে আবার পানি বাড়ছে। তাদের বাড়িফেরা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। এতে মানুষজনের দুর্ভোগ আরও বাড়ছে।

Print Friendly, PDF & Email

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর