১৩ লাখ টাকার ইয়াবা উদ্ধারের ঘটনায় এএসআই গ্রেফতার

১৩ লাখ টাকার ইয়াবা উদ্ধারের ঘটনায় পুলিশের এএসআই (সহকারী উপ-পরিদর্শক) আজহার আলীকে গ্রেফতার করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর (নারকোটিক্স)।

শনিবার রাজধানীর মৌচাক থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। তবে অজ্ঞাত কারণে দীর্ঘ সময় এ অভিযানের খবর চেপে রাখে নারকোটিক্স। এমনকি পুলিশের পক্ষ থেকেও ঘটনা ধামাচাপার চেষ্টা করা হয়।

এ সংক্রান্ত মামলার এজাহারে বলা হয়, ২৭ অক্টোবর আসাদগেট এলাকায় মাদকের একটি বড় চালান ডেলিভারি হতে যাচ্ছে বলে গোপন সূত্রে খবর পায় নারকোটিক্স। রেইডিং টিমের সদস্যরা শুক্রবার সকালে আসাদগেট থেকে চানুচিং চাকমা নামের এক নারীকে সন্দেহভাজন মাদক ব্যবসায়ী হিসাবে আটক করে। পরে তার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী মাদকের চালান উদ্ধারে পাশের হানিফ পরিবহণের কাউন্টারে অভিযান চালায় নারকোটিক্স।

এজাহারে আরও বলা হয়, অভিযান টিমের সদস্যরা হানিফ কাউন্টারে একটি কালো ব্যাগের খোঁজে তল্লাশি শুরু করেন। তারা সেখানকার কিন্তু ব্যাগ না পেয়ে এ বিষয়ে কাউন্টারের কর্মচারীদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এছাড়া সিসি ক্যামেরার ফুটেজে এক নারীর কাছ থেকে এক ব্যক্তিকে ব্যাগ নিতে দেখা যায়। ওই নারী কালো ব্যাগটি হস্তান্তর করে চলে যান। পরে ব্যাগ নিয়ে বেরিয়ে যাওয়া ব্যক্তির খোঁজ শুরু করে নারকোটিক্স।

সংশ্লিষ্টরা জানান, সিসি ফুটেজে এক ব্যক্তিকে কালো ব্যাগ নিয়ে মোহাম্মদপুরের আওরঙ্গজেব রোডের ৭/১ নম্বর হোল্ডিংয়ের বাড়িতে ঢুকতে দেখা যায়। এ কারণে নারকোটিক্সের সদস্যরা ওই বাড়িতে ঢুকে পড়েন। এ সময় ৬ তলা ভবনের ছাদে গিয়ে বেশ কয়েকজন পুলিশ সদস্যকে তারা দায়িত্ব পালনরত অবস্থায় পান। এদের মধ্যে পুলিশের বিশেষ শাখার (প্রটেকশন) এসআই জহির উদ্দিন, এসপিবিএন-২ এর এএসআই খোকন মিয়া ও কনস্টেবল লুৎফর রহমানকে ব্যাগ হাতে সন্দেহভাজন ব্যক্তির ছবি দেখানো হয়। তারা ছবির ব্যক্তিকে এএসআই আজহার আলী হিসাবে শনাক্ত করেন।

এজাহারে বলা হয়, দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যরা নারকোটিক্সকে জানান, আজহার আলী দেশের বাড়ি যাবেন বলে ছাদে একটি ব্যাগ রেখে গেছেন। তাদের দেখানো কালো একটি ট্রাভেল ব্যাগ উদ্ধার করা হয়। পরে ভবনের নিরাপত্তারক্ষী ও পুলিশ সদস্যের উপস্থিতিতে ব্যাগ খোলা হয়। এ সময় ব্যাগের ভেতর লুকানো অবস্থায় ৪ হাজার ৬শ পিস ইয়াবা পাওয়া যায়। বর্তমানে এর বাজার মূল্য ১৩ লাখ ৮০ হাজার টাকা।

সূত্র বলছে, এএসআই আজহার সরকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় দায়িত্বরত ছিলেন। এ কারণে তার মাদক সংশ্লিষ্টতার খবরে পুলিশের কয়েকটি শাখায় হইচই পড়ে। এ নিয়ে একাধিক গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরাও সক্রিয় হয়ে ওঠেন।

ফলে অভিযান সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা নাটকীয় পরিস্থিতির মুখোমুখি হন। কিন্তু মাদক উদ্ধারের ঘটনায় এএসআই আজহারকে গ্রেফতারের সিদ্ধান্তে অটল থাকে নারকোটিক্স। পরে নারকোটিক্সের মিরপুর সার্কেলের পরিদর্শক সাইফুল ইসলাম ভূঁইয়া বাদী হয়ে মোহাম্মদপুর থানায় মামলা করেন। পরদিন শনিবার রাজধানীর মৌচাক এলাকা থেকে আজহারকে গ্রেফতার করে নারকোটিক্স। বিকালে তাকে আদালতে তোলা হলে ঘটনা প্রকাশ হয়ে পড়ে।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক আজিজুল ইসলাম সোমবার রাতে যুগান্তরকে বলেন, মাদক উদ্ধারের ঘটনায় মোহাম্মদপুর থানায় একটি মামলা হয়েছে বলে শুনেছি। তবে পুলিশের এএসআই বা এমন কেউ গ্রেফতার হয়েছে কি না তা জানি না। এ বিষয়ে মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তারা ভালো বলতে পারবেন।

Print Friendly, PDF & Email

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর