বাবার মানত পূরণে রমিজুলের ৭ বিয়ে, সব স্ত্রী থাকেন একসঙ্গে

রমিজুল ইসলাম (৩৮)। কুষ্টিয়া সদর উপজেলার পাটিকাবাড়ী ইউনিয়নের মিয়া পাড়া গ্রামের বাসিন্দা তিনি। এই যুবক একই ছাদের নিচে রীতিমতো সাত স্ত্রীকে নিয়ে সুখে সংসার করছেন। রমিজুলের দাবি, ‘বাবার মানত পূরণ করার জন্যই আমি সাতটি বিয়ে করেছি।’

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ১৯৯৯ সালে ১৩ বছর বয়সে রমিজুল পারিবারিকভাবে প্রথম বিয়ে করেন রুবিনাকে। বিয়ের পর ২০০৮ সালে তিনি কর্মসংস্থানের জন্য লিবিয়ায় পাড়ি জমান। পরে তিনি কিশোরগঞ্জের মেয়ে হেলেনাকে বিয়ে করেন। এরপর প্রথম স্ত্রী ও সন্তানদেরকেও তিনি লিবায়ায় নিয়ে যান। যুদ্ধ বিধ্বস্ত লিবিয়া থাকার অনুপযোগী হয়ে পড়লে ২০২১ সালে রমিজুল দেশে ফেরেন। দেশে ফিরে বিয়ে করেন নুরুন্নাহারকে। এরপর গত তিন মাসে বিয়ে করেছেন তিন জনকে। সর্বশেষ বিয়ে করেন মিতাকে। বর্তমান স্ত্রীদের সঙ্গে প্রথম আলাপ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বা কর্মক্ষেত্রে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে পারিবারিকভাবে বিয়ে হলেও পরের ছয়টি বিয়ে সম্পর্ক করে করেন রমিজুল। বর্তমানে স্ত্রীদের নিয়ে সুখে-শান্তিতে সংসার করছেন। রমিজুলের বাবা, সন্তান ও সাত স্ত্রী মিলেমিশে একই বাড়িতে থাকছেন। রমিজুল তার বাবা-মার একমাত্র সন্তান।

রমিজুলের স্ত্রীরা হলেন- কুষ্টিয়া সদর উপজেলার হালসা গ্রামের রুবিনা খাতুন (৩৫), একই উপজেলার গোস্বামী দুর্গাপুর এলাকার মিতা আক্তার (২৫), কিশোরগঞ্জের হেলেনা খাতুন (৩০), রাজশাহীর চাপাই এলাকার নুরুন নাহার (২৫), চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার শ্রীরামপুর এলাকার স্বপ্না (৩০), একই উপজেলার ডম্বলপুর গ্রামের বানু আক্তার (৩৫) ও কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার পোড়াদহ এলাকার রিতা আক্তার (২০)।

সাত বিয়ে করা রমিজুল ইসলাম জানান, তার স্ত্রীদের মধ্যে কোনো ঝগড়া-বিবাদ নেই। সাত স্ত্রী ও ৫ সন্তান নিয়ে সুখের সংসার তার। প্রত্যেক স্ত্রীই তার যত্ন নেন এবং তাকে খুব ভালোবাসেন।

রমিজুলের স্ত্রীরা জানান, তারা পরস্পর বোনের মতো বসবাস করেন, একসঙ্গে থাকেন। কেউ কাউকে হিংসা করেন না। তারা জেনে শুনে রমিজুলকে বিয়ে করেছেন। তাই তাদের মন খারাপ হয় না। তাদের স্বামী এমন কিছু করেন না, যে তাদের মন খারাপ হবে।

রমিজুল বলেন, ‌‘আমার ঘরে একাধিক স্ত্রী আছেন এটা মেনেই অন্যরা আমাকে বিয়ে করেছেন। স্ত্রীদের নিয়ে কোনো সমস্যা হয়নি। আমার পারিবারিক কোনো ঝামেলা নেই। সবাই বোনের মতো থাকেন।’

এটা আইন সম্মত কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘মুসলিম নাগরিক হিসেবে কোরআনের আইন অনুযায়ী সাতটা স্ত্রী রাখার বিধান নেই। আমি বাবা-মায়ের একমাত্র সন্তান। আমার জন্মের পর বাবা মানত করেছিলেন সাতটি বউ বিয়ে করার জন্য। সেই মানত পূরণ করার জন্যই আমি সাতটি বিয়ে করেছি।’ তবে তার সাতটি বিয়ের রেজিস্ট্রেশনের কোনো তথ্য যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

পটিকাবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের ৫ নম্বর ওয়ার্ড মেম্বর মতিউর রহমান বলেন, তিনি কখনো রমিজুলের স্ত্রীদের কোনো অভিযোগ শোনেননি। কেউ কখনো অভিযোগও করেননি। তারা অনেক সুখে আছেন।

এ বিষয়ে কুষ্টিয়া আলিয়া মাদরাসার সাবেক উপাধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুল হালিম শরিফ বলেন, পবিত্র কোরআনে পরিষ্কারভাবে বলা আছে যে, একজন সচ্ছল পুরুষ একসঙ্গে সর্বোচ্চ চারজন স্ত্রী রাখতে পারবেন। এর বেশি স্ত্রী রাখা হারাম।

Print Friendly, PDF & Email

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর