,



সাঁড়াশি অভিযান নিয়ে ফখরুলের শঙ্কা

দেশব্যাপী শুক্রবার (১০ জুন) থেকে শুরু হওয়া জঙ্গি ও সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সাঁড়াশি অভিযানকে সরকারে ‘কৌশল’ হিসেবে দেখেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

সরকারের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘এটা (সাঁড়াশি অভিযান) হচ্ছে তাদের সেই কৌশল, যেই কৌশল করে তারা জনগণের আন্দোলনকে দমিয়ে রেখেছিল। আজকে এ সাঁড়াশি অভিযানের অজুহাতে তারা আবারও বিরোধী দলের ওপর চড়াও হবে বলে আমরা আশঙ্কা করছি।’

সকালে রাজধানীর আগারগাঁও পঙ্গু হাসপাতালে চিকিৎসাধীন গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার ভেরেণ্ডাবাড়ি বিএনপি সমর্থিত চেয়ারম্যান প্রার্থী আজিজুর রহমানকে দেখতে গিয়ে এ সব কথা বলেন মির্জা ফখরুল।

৪ জুন শেষ ধাপের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ভেরেণ্ডাবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন আজিজুর রহমান। ২ জুন নির্বাচনের আগে প্রতিপক্ষের গুলিতে গুরুতর আহত হন আজিজুর। আহতাবস্থায় তাকে প্রথমে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে ঢাকায় পঙ্গু হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। গত দু’দিন আগে অস্ত্রোপচারের পর আজিজুরের বাম পা কেটে ফেলা হয়েছে।

এ নবনির্বাচিত চেয়ারম্যানকে দেখতে গিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘সাঁড়াশি অভিযানের কথা বলে ইতোমধ্যেই ক্রসফায়ার বা তথাকথিত বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা বেড়ে গেছে। ৯ জন ইতোমধ্যে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছেন।’

আজিজুর রহমানের ওপর হামলা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘সম্ভবত আজিজুর রহমানকে হত্যার উদ্দেশ্যে গুলি করা হয়েছিল। আল্লাহর সহায়, তিনি প্রাণে রক্ষা পেয়েছেন। তিনি বীর মুক্তিযোদ্ধা ও জনপ্রিয় মানুষ। সেজন্য তাকে এভাবে গুলি করার পরও এলাকার জনগণ তাকে বিপুল ভোটে বিজয়ী করেছেন।’

মির্জা ফখরুর আরও বলেন, ‘এ ঘটনা থেকে আমরা সারাদেশের চিত্র পাই যে, দেশে আজ কোথাও কোনো আইনের শাসন নেই। জীবনের নিরাপত্তা নেই। বিশেষ করে ইউপি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সারাদেশে যে সহিংসতা হয়েছে, অতীতে আর কখনও তা ঘটেনি। এটা নজিরবিহীন।’

সরকার সারাদেশে নৈরাজ্য সৃষ্টি করেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এটার একমাত্র উদ্দেশ্য হচ্ছে-ঘোলা পানিতে তারা তাদের যে ক্ষমতা সেটাকে চিরস্থায়ী করে রাখবার জন্য মানুষের অধিকারগুলোকে হরণ করেছে।’

এ অবস্থা থেকে উত্তরণে অতিদ্রুত একটি নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচনের কোনো বিকল্প নেই বলেও মন্তব্য করেন মির্জা ফখরুল।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন- বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আসাদুল হাবিব দুলু, গাইবান্ধা জেলা সহ-সভাপতি মো. হাসান আলী, স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম সম্পাদক আমিনুল ইসলাম প্রমুখ।

Print Friendly, PDF & Email

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর