কিশোরগঞ্জের কটিয়াদি-পাকুন্দিয়ার উপজেলায় জমে উঠেছে আ.লীগের কাণ্ডারি

বাঙালী কণ্ঠ নিউজঃ কিশোরগঞ্জ -একাদশ নির্বাচনকে সামনে রেখে কিশোরগঞ্জ-২,নির্বাচনী এলাকা কটিয়াদি-পাকুন্দিয়া জমে উঠেছে নির্বাচনী প্রচারণা। আওয়ামীলীগের মনোনয়ন পেতে ইতিমধ্যে মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন বেশ কয়েকজন সম্ভাব্য প্রার্থী। এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য বর্তমান সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট সোহরাব উদ্দিন, কিশোরগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট এম এ আফজাল,সাবেক আইজিপি রাষ্ট্রদূত সচিব নূর মোহাম্মদ।

কটিয়াদি-পাকুন্দিয়া’র আওয়ামীলীগের নেতাকর্মী ও বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষের সাথে কথা বলে জানা যায়-

ব্যক্তিইমেজ, কর্মদক্ষতা,জনপ্রিয়তা,হাইকমান্ডের সাথে যোগাযোগে মনোনয়নের ক্ষেত্রে শীর্ষে রয়েছেন সাবেক পুলিশপ্রধান নূর মোহাম্মদ। স্থানীয়দের মতে ছাত্রজীবন থেকে সরকারের চাকরিরত অবস্থায় তার সাধ্যের মধ্যে থেকে এলাকার লোকজনের সহযোগিতা করেছেন। আগামীতে তিনি জনপ্রতিনিধি হয়ে আসলে কটিয়াদি-পাকুন্দিয়া’র উন্নয়নের পাশা-পাশি তারা একজন যোগ্য অবিভাবক পাবেন বলে মত প্রকাশ করেছেন। স্থানীয় আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীরা মনে করছেন কটিয়াদি-পাকুন্দিয়া দীর্ঘদিন যাবত যে নেতৃত্ব শুন্যতায় ভুগছে তা এবার পূরণ হতে যাচ্ছে নূর মোহাম্মদের মাধ্যমে।

মনোনয়ন দৌড়ে রয়েছেন ১৯৮৬ ও ৯৬ জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামীলীগের টিকিট নিয়ে পরাজিতপ্রার্থী জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট এম এ আফজাল। প্রবীণ এই নেতা ইউনিয়ন পর্যায়ে দলীয়সভায় অংশগ্রহণ করে এবারও মনোনয়ন পাওয়ার ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করছেন ।দলীয় নেতা কর্মীদের মতে নির্বাচনের সময় হলেই এম এ আফজালকে এলাকায় দেখা যায়। এছাড়া বছরের পর বছর চলে গেলেও নেতাকর্মীদের খোজ খবর নেন না, তাকে মনোনয়ন দিলে আওয়ামীলীগ কখনও কাংকিত ফল পাবেনা। নেতা কর্মীদের মধ্যে কেউ কেউ মনে করছেন সভনেত্রী শেখ হাসিনা এইবার হয়ত শেষবারের মত তাকে মনোনয়ন দিতেও পারেন।

বিএনপি,জাতীয়পার্টি ঘুরেআসা বর্তমান সাংসদ সোহরাব উদ্দিন আওয়ামীলীগের মনোনয়নে ২০১৪ সালে ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে বিনা ভোটে এম পি নির্বাচিত হয়। নেতাকর্মীদের অভিযোগ সোহরাব উদ্দিনের হস্তক্ষেপে আওয়ামীলীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের সাবেক ও বর্তমান নেতাকর্মীদের নামে মিথ্যা হয়রানি মূলক শতাধিক মামলা হয়েছে কটিয়াদি-পাকুন্দিয়ায়। টি আর,কাবিখা, কাবিটা, সোলার প্রজেক্ট, স্থানীয় নির্বাচনে মনোনয়ন, নিয়োগ বাণিজ্যসহ দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতি করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন সাংসদ ও তার ছেলে । ক্ষমতার অপব্যবহার করে, টাকার বিনিময়ে কোন রকম গঠনতন্ত্র না মেনে ত্যাগী নেতাকর্মীদের বাদদিয়ে উপজেলা, পৌরসভা ও বিভিন্ন ইউনিয়নের ছাত্রলীগ ও যুবলীগের কমিটি করে দিচ্ছেন তিনি ।

ক্ষুব্ধ নেতাকর্মী ও জনসাধারণের ভয়ে সামনে–পেছনে পুলিশের গাড়ী নিয়ে এলাকায় চলাফেরা করেন জনবিচ্ছিন্ন এই সাংসদ। আর এলাকায় বলে বেড়ান মনোনয়নের দোকান তিনি ভালভাবে চিনেন, একাদশ নির্বাচনেও মনোনয়ন পাবেন বলে দাবি করেন তিনি। স্থানীয় নেতাকর্মী ও জনসাধারণের মতে গত সাড়ে ৩ বছরে কটিয়াদি-পাকুন্দিয়ার কোন উন্নয়ন হয়নি, উন্নয়ন যা হয়েছে এম পি ও তার ছেলের। আগামী নির্বাচনে তাকে মনোনয়ন দিলে নৌকার ভরাডুবি হবে এতে কোন সন্দেহ নেই।এভাবেই ক্ষোভ ও দুঃখ প্রকাশ করেন আওয়ামীলীগের নেতাকর্মী ও সাধারণ ভোটাররা ।

এছাড়া পাকুন্দিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম রেনু,জেলা আওয়ামীলীগ সদস্য মইনুজ্জামান অপু মনোনয়নের ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করছেন।

Print Friendly, PDF & Email

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর