তাসকিনে জিতল বাংলাদেশ

নিষেধাজ্ঞা থেকে ফিরেই জাতীয় দলে জায়গা করে নেয়া তাসকিন আহমেদের তাণ্ডবে জয় পেল বাংলাদেশ। তিন ম্যাচ সিরিজের প্রথম ওয়ানডে আফগানিস্তানের বিপক্ষে ৭ রানে জিতেছে মাশরাফি বিন মুর্তজার দল। যদিও এক সময় শঙ্কা দেখা দিয়েছিল টাইগারদের জয় নিয়ে। কারণ ম্যাচ ছিল প্রায় আফগানদের হাতের মুঠোয়। কিন্তু সাকিব আল হাসানের দারুণ একটি ওভার আর শেষ দিকে তাসকিনের দুর্দান্ত বোলিংয়ে জয়টা বাংলাদেশরই হাতে আসে।
রোববার মিরপুর শের ই বাংলা ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস জিতে প্রথমে ব্যাটিং করার সিদ্ধান্ত নেন টাইগার দলপতি মাশরাফি বিন মর্তুজা। নির্ধারিত ৫০ ওভারে সব উইকেট হারিয়ে ২৬৫ রান সংগ্রহ করে বাংলাদেশ।
এ রান তাড়া করতে নেমে প্রথম দিকে চাপে পরলেও শেষের দিকে নিজেদের গুছিয়ে নেয়  আফগানিস্তান। শুরুতেই আফগানদের দুটি উইকেট ছিনিয়ে নেয় স্বাগতিকরা।
আফগান ব্যাটসম্যান মোহাম্মদ শাহজাদকে ফেরান মাশরাফি বিন মুর্তজা। তার বলে ব্যাটের কানা ছুঁয়ে জমা পড়ে মুশফিকুর রহিমের গ্লাভসে। তিনি ২১ বলে করেন ৩১ রান। এর আগে শূন্য রানে জীবন পেয়েছিলেন শাহজাদ। তাসকিন আহমেদের বলে জীবন পান তিনি। স্লিপে ক্যাচ দিয়েছিলেন শাহজাদ। তবে সেই ক্যাচ তালুতে পুরতে ব্যর্থ হন ইমরুল কায়েস।
পরের ওভারেই আফগান শিবিরে আঘাত হানেন অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান।  তার বলে এলবিডব্লিউ হয়ে ফিরেন আফগানিস্তানের উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান শাবির নুরি (২৪ বলে ৯)।
এরপর তৃতীয় উইকেটে ১৪৪ রানের এই জুটিটাই শঙ্কা জাগিয়ে দেয় বাংলাদেশের। রহমত শাহ ও হাশমতুল্লাহ শাহিদি মিলে গড়েন শতরানের জুটি। রুবেল হোসেনকে ছক্কা হাঁকিয়ে অর্ধশতক করেন রহমত।
নিজের শেষ ওভারে হাশমতুল্লাহ শাহিদিকে ফেরান তাইজুল ইসলাম। সৌম্য সরকারের ক্যাচে পরিণত হওয়ার আগে ১১০ বলে ৭২ রান করেন তিনি। এরপর সাকিব আল হাসানের বলে স্টাম্পড হয়ে ফিরেন রহমত শাহ (৯৩ বলে ৭১ রান)। ভাঙে ১৪৪ রানের এই জুটি।
এমন অবস্থায় বাংলাদেশের পক্ষে জ্বলে উঠেন তাসকিন। নিজের শেষ ২ ওভারে এই ফাস্ট বোলার নেন ৪ উইকেট! আর দেন মাত্র ৫ রান।
তার বলে মোহাম্মদ নাবী সাব্বির রহমানের হাতে ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফিরেন। করেন ৩০ রান। এরপর আসগরকে ফিরান ১০ রানে। ৮ রানে দৌলৎ জাদরানের উইকেট নেন। মিরওয়াইস আশরাফকেও সাজঘরে ফিরান তাসকিন।
এর আগে ব্যাটিংয়ে নেমে প্রথমেই ধাক্কা খায় বাংলাদেশ। খেলার প্রথম ওভারের পঞ্চম বলেই আফগান বোলার দৌলত জাদরানের বলে পুল করতে গিয়ে মিডউইকেট অঞ্চলে শাবির নূরের তালুবন্দি হন ওপেনার সৌম্য সরকার। ফিরে যান খালি হাতেই। শুরুর এ ধাক্কা সামাল দেন ওপেনার তামিম ইকবাল ও ওয়ানডাউনে নামা ইমরুল কায়েস। তাদের জুটিতে আসে ৮৩ রান। তবে ইমরুল কায়েস দলীয় ৮৪ রানের মাথায় ব্যক্তিগত ৩৭ রানে সাজঘরে ফেরেন। ১৯তম ওভারের প্রথম বলে মোহাম্মদ নবীর স্পিনে থাই প্যাডে লেগে বোল্ড আউট হন ইমরুল। তৃতীয় উইকেটে মাহমুদুল্লাহ রিয়াদকে সঙ্গে নিয়ে ৭৯ রানের জুটি গড়েন তামিম।
৯৮ বলে ৯টি চারে ৮০ রান করে দেশের প্রথম ব্যাটসম্যান হিসেবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ৯ হাজার রানের মাইলফলক অতিক্রম করেন তামিম। এরপর মিরওয়াইজ আশরাফের বলে আউট হন তিনি।
তামিম ফিরে যাওয়ার পর হাল ধরেন মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ। ৫টি চার ও ২টি ছক্কায় ৬২ রানে মোহাম্মদ নবীর বলে আউট হন তিনি। এর আগে নিজের ১৫তম অর্ধশতক তুলে নেন রিয়াদ।
এরপর মুশফিক ও সাব্বির দ্রুতই সাজঘরে ফিরে গেলে চাপে পড়ে স্বাগতিকরা। বোল্ড হয়ে ফিরেন মুশফিক, আর এলবিডব্লিউ হন সাব্বির। মুশফিক মাত্র ৬ রান করেন। এরপর মাত্র ২ রানে প্যাভিলিয়নে ফেরেন সাব্বির।
এরপর বাংলাদেশকে আড়াইশর পথে রাখেন বিশ্বের অন্যতম সেরা অলরাউন্ডার সাকিব। ক্যাচ হওয়ার আগে ৪০ বলে তিনটি চারে ৪৮ রান করেন তিনি।
সাকিব আউট হলে রানের গতিও কমে যায় বাংলাদেশের। শেষ দিকে ৯ বলে ১১ রান করেন তাইজুল ইসলাম। তিনি শেষ ব্যাটসম্যান হিসেবেই আউট হন।
আফগানিস্তানের হয়ে ৭৩ রানে ৪ উইকেট নেন পেসার দৌলত। আর দুটি করে উইকেট নেন রশিদ ও নবি।

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর