,



অনেক স্বাধীনতার এক নিগৃহীত স্বাধীনতা

নারী মুক্তি বা নারী স্বাধীনতার নামেই বেশী নিগৃহীত হচ্ছে অশিক্ষিত ও স্বল্প-শিক্ষিতনারী ………….
নারী স্বাধীনতা মূলত ও মোটামুটি দুই ধরনের হতে পারে।
১. নিজের চিন্তা চেতনাকে সে যত খারাপই হোক সেটাকে যথেচ্ছভাবে চরিতার্থ করার স্বাধীনতা। সমাজ- সংসার, লজ্জা-ভয়, মানবিক দায়িত্ববোধ কোন কিছুকেই পরোয়া না করে, সেগুলোকে বিন্দুমাত্র মূল্য বা গুরুত্ব না দিয়ে উম্মাদের মত যেখানে সেখানে যথেচ্ছ বিচরণ ও কোন কিছু করার স্বাধীনতা।
২. দ্বিতীয় ধরণের স্বাধীনতা হলো নিজের সম্ভ্রম, শ্লীলতা ও মর্যাদাকে পূর্ণরূপে অক্ষত রেখে নারী হিসেবে তার প্রাপ্য ও নির্ধারিত অধিকারসমূহের স্বীকৃতি।
আমাদের দেশের মেয়েদের যথেষ্ট শালীন ও সংযত হয়েই রাস্তা ঘাটে চলাফেরা।
কিন্তু বর্তমান সাংস্কৃতিক আগ্রাসন এমন একটা পর্যায়ে পৌছেছে যার প্রভাবে অতি আধুনিকতার নাম করে নিজের অজান্তেই তারা নিজেদেরকে ব্যবহার সামগ্রীতে পরিনত করছে।
আর এর পুর্নাঙ্গ সুযোগটা ব্যবহার করছে পুজিবাদীরা।
উন্নতি, গ্ল্যামার আর অর্থবিত্তের আশা-ভরসা দেখিয়ে এদেশের অশিক্ষিত ও স্বল্প-শিক্ষিতনারীদের ব্রেইন ওয়াশ করে চলছে ক্রমাগত।
সেই অশিক্ষিত ও স্বল্প-শিক্ষিতনারী আদো বুঝে উঠতেই পারছে না অর্থ, খ্যাতি আর গ্ল্যামার এর আড়ালে তাদেরকে পণ্যে রুপান্তরিত করা হচ্ছে, সেই সব পুজিবাদী সুবিধাভোগী শয়তানদের ভোগ বিলাশ আর অর্থ উপার্জনের জন্য।
সেই অশিক্ষিত ও স্বল্প-শিক্ষিতনারীরা কে কত নিজকে প্রদর্শন করতে পারে, পুরুষদের কাছে নিজেকে আরো কতো বেশি আকর্ষনীয় করতে পারে সে প্রতি্যোগীতায় নিরন্তর নীরলস ব্যস্ত স্বেচ্ছায় বা অনিচ্ছায়।
নিত্য নতুন ছোট ছোট ড্রেস আর খোলামেলা ভাবে শরীর প্রদর্শন করা যেনো এখনকার হালের ফ্যাশন।
ভদ্রতার মুখোশ পড়িয়ে উপস্থাপন করার-ই নামান্তর।

ভদ্রতার মুখোশে সেই সব নগ্নতা আর যৌনতা আড়ালেই থাকে বলে খানিক রঙ্গিনও লাগে।
কিন্তু পর্দার অন্তরালে কি হয় বা কি ঘটে তার কতটুক জানি আমরা? আপন সম্ভ্রম বাচিয়ে কতটুকু যোগ্য সম্মান নিয়ে বেঁচে থাকতে পারছেন অশিক্ষিত ও স্বল্প-শিক্ষিতনারী?
অশিক্ষিত ও স্বল্প-শিক্ষিত নারী নিগ্রহের যে ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে তার বীজ প্রোথিত কিন্তু পুঁজিবাদেই।
অর্থ-বিত্ত, আরাম–আয়েশ, খ্যাতি যশ সর্বোপরি ক্রমাগত ভোগ করার যে মানসিকতা সেটা বেড়ে উঠছে নারীমুক্তি, নারী স্বাধীনতার ছদ্মাবরণে।
অশিক্ষিত ও স্বল্প-শিক্ষিতনারীকে পণ্যের মতো ব্যবহারের জন্য আধুনিকতার নামে উজ্জল–উচ্ছল মোড়ক দিয়ে পুঁজিবাদের তত্বে লালন হচ্ছে। লালন হচ্ছে তাদেরই ভোগ্য পন্য হিসাবে ব্যবহারের জন্য।
উচ্ছাভিলাসী অশিক্ষিত ও স্বল্প-শিক্ষিতনারী জগতের রঙ্গীন আলোর ছটায় তারা বুদ হয়ে থাকে সারাক্ষন।
সেই সুযোগে সেই সব আত্মভোলা উচ্চাবিলাসী নারীদের নানাভাবে জিম্মি করে পুজিবাদের সেবকদাসেরা ছবি তুলে নিজে তৃপ্ত হয়, অন্যকেও সুরসুরি দেয় আর সেই সাথে সমাজকে করে উছশৃঙ্খল।
সেই সব উচ্ছাভিলাসী অশিক্ষিত ও স্বল্প-শিক্ষিত নারীদেরকে তাদের ক্যারিয়ার গড়ার স্বপ্নের ফানুস দেখায়, তাদেরই স্বার্থে । কেউ আবার পারমানেন্ট ভোগ্য পন্য হিসাবে ব্যবহারের জন্য তাদের দায় দায়িত্বও অনেকাংশ নিয়ে নেয়।
সেই সব কেউকেটাদের মধ্যে আমাদের তথাকথিত নামীদামী সুশীল সংস্কৃতিবানদের আধিক্যও নেহাত কম নয়। একটু চিন্তা করলে এর মধ্যে অনেককেই পাবেন, তাতে বিচলিত ও আতন্কিতও হতে পারেন।
বর্তমান বাংলাদেশে বিশেষ করে রাজধানী ঢাকায় মিশ্র সংস্কৃতি জেঁকে বসেছে অশিক্ষিত ও স্বল্প-শিক্ষিত নারীদের মাঝে।
ইদানিং কালে অতি আধুনিকতার নামে হট ড্যান্স শো, ডিজে পার্টি, ফ্যাশনতে অবাধে চলছে অশিক্ষিত ও স্বল্প-শিক্ষিত নারীদের বিচরণ।
বিভিন্ন সোস্যল মিডিয়াতে, মোবাইল ও মেলাগুলোতে বিভিন্ন ব্যানারে স্টলে মডেল করা হচ্ছে। তাদের শরীরকে পুজি করা হচ্ছে বিজ্ঞাপনে।
নারীর ভীড়ে পন্য কোথায় যেন হারিয়ে যায়। কোন প্রতিষ্ঠানের বা কোন পন্যের বিজ্ঞাপণ করতে এসে নারী নিজেই পন্য হয়ে যায়।
স্বাধীনতা আর নিজের অধিকার রক্ষা করতে এসে উল্টা নিজেরাই নিজেদেরকে প্যাকেটজাত পন্যে রূপান্তরিত করে ফেলে।
ফ্যাশন বিষয়টি আগে আমাদের দেশে অনেকটা সেলিব্রিটিকেন্দ্রিক থাকলেও এখন এর পরিধির পাশাপাশি এর নগ্নতার বিস্তারও লাভ করেছে অনেক।
বিদেশী সংস্কৃতির প্রভাবেই দেশের ফ্যাশন জগতে ঢুকে পড়েছে নগ্নতা ও অশ্লীলতা।ভারতীয় ছবির নায়িকা পাওলী দাম, ঋতুপর্ণা ও ক্যাটরিনা কাইফদের মত অনেককেই আনা হচ্ছে।

বিভিন্ন সোস্যল মিডিয়াতে বিজ্ঞাপন দেখে অনেককেই স্মার্টনেস এবং আকর্ষণের অস্ত্র হিসেবে মনে করবে। তাদের মডেলিং দেখে মুগ্ধ হয়ে দুই একজন যদি হাত তালি কিংবা শিষ দিয়েই ফেলে তবে অবাধ্য অসভ্য ছেলের আর দোষ কোথায়??
আর সবকিছুর পরে ক্ষতি যা হওয়ার নারীরই হবে, এদেশের যুবক-যুবতীদের হবে, এদেশের পরিচ্ছন্ন সংর্স্কৃতির হবে, আগামী প্রজন্মের হবে আপামর জনগনের নৈতিক চরিত্রের বিলোপ ঘটবে।

কিন্তু নারীর শরীরকে পুজি করে সেই সব প্রতিষ্ঠান ব্যবসা করার, তারা ঠিকই অবাধে ব্যবসা বানিজ্য করে যাবে………………….

আর উচ্ছাভিলাসী অশিক্ষিত ও স্বল্প-শিক্ষিতনারী তার সম্ভ্রম হারাতেই থাকবে…………………. আফসুস!!!!!!!!!!

Print Friendly, PDF & Email

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর