,



প্রস্তুতি ম্যাচে জিম্বাবুয়ের কাছে মুশফিক-সাব্বিরদের হার

সময় খারাপ হলে যেমন হয় আর কি। সব খারাপ ভর করে এক সাথে। এই মুহূর্তে দেশের ক্রিকেট বুঝি সেই সময়টাই পার করছে।

বিভিন্ন বয়সভিত্তিক দল, ‘এ’ দল, জাতীয় দলের ধারাবাহিক ব্যর্থতা চলছে। আফগানিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের একমাত্র টেস্টে হারের পর ত্রিদেশীয় টি-টোয়েন্টি সিরিজে যখন ঘুরে দাঁড়ানোর প্রত্যাশায় সবাই, ঠিক তখন আরেকটি শঙ্কা জাগানিয়া ব্যর্থতা। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে একমাত্র প্রস্তুতি ম্যাচে হেরে গেছে বিসিবি একাদশ। যে দলটা কিনা মুশফিকুর রহিম, সাব্বির রহমান, মোহাম্মদ সাইফউদ্দিনকে নিয়ে গড়া।

বুধবার ফতুল্লার খান সাহেব ওসমান আলী স্টেডিয়ামে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে প্রস্তুতিমূলক টি-টোয়েন্টি ম্যাচটিতে ৭ উইকেটে হেরেছে বিসিবি একাদশ।

টস জিতে আগে ব্যাট করে সাইফ হাসানের নেতৃত্বাধীনে বিসিবি একাদশ ৭ উইকেটে ১৪২ রানের বেশি করতে পারেনি। জবাবে ১৬ বল বাকি থাকতেই মাত্র ৩ উইকেট হারিয়ে জয় নিশ্চিত করে হ্যামিল্টন মাসাকাদজার জিম্বাবুয়ে।

টি-টোয়েন্টি সিরিজের প্রথম দুই ম্যাচের জন্য ঘোষিত দল থেকে চারজনকে রাখা হয়েছিল প্রস্তুতি ম্যাচের এই দলে। তবে নিজের ভালো প্রস্তুতির জন্য সাব্বির রহমান, মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন, আফিফ হোসেন, ইয়াসিন আরাতের সঙ্গে যোগ দেন মুশফিকুর রহিমও।

যদিও বড় ইনিংস খেলতে পারেননি মুশফিক। ২৬ বলে ২ চারে ২৬ রান করে শন উইলিয়ামসকে ফিরতি ক্যাচ দিয়ে ফেরেন। তার আগে দুই ওপেনার সাইফ হাসান ও মোহাম্মদ নাঈম এবং তিন নম্বরে নামা সাব্বির রহমান ভালো শুরুর ইঙ্গিত দিয়ে ফেরেন।

অধিনায়ক সাইফ ১৯ বলে ১টি করে চার ও ছক্কায় ২১ রান করেন। মোহাম্মদ নাঈম ১৪ বলে ৫ চারে ২৩ রান করে উইলিয়ামসের প্রথম শিকার হন। ৫৩ রানে ২ উইকেট হারানোর পর সাব্বির ও মুশফিকের ফিফটি ছোঁয়া জুটি। তবে ১৫তম ওভারে দুজনকেই ফিরিয়ে দেন উইলিয়ামস। ১০৭ রানে চতুর্থ উইকেট হারায় বিসিবি একাদশ। সাব্বির সর্বোচ্চ ৩১ বলে ১ ছক্কায় ৩০ রান করেন।

এরপর বাংলাদেশ অলআউট হওয়ার লজ্জা এড়াতে কোনো রকমে ইনিংস শেষ করে। আফিফ হোসেন ১০, ইয়াসির আলী ৬, সাইফউদ্দিন অপরাজিত ৭, আরিফুল হক ৯ ও ইয়াসিন আরাফাত অপরাজিত ২ রান করেন।

জিম্বাবুয়ের পক্ষে সর্বাধিক ৩ উইকেট নিয়েছেন শন উইলিয়ামস। এ ছাড়া নেভিলে মাদজিভা দেন ২ উইকেট।

জবাবে ব্রেন্ডন টেইলর, হ্যামিল্টন মাসাকাদজার ও টিমিকেন মারুমার ব্যাটে সহজেই লক্ষ্যে পৌঁছে যায় জিম্বাবুয়ে। টেইলর ৪৪ বলে ২ চার ও ৩ ছক্কায় অপরাজিত ৫৭ রান করেন। মাসাকাদজা ২৩ বলে ৬ চারে ৩১ রানে ফেরেন। মাঝে ক্রেইগ এরভিন (৪) ও শন উইলিয়ামস (২) ব্যর্থ ছিলেন। তবে মারুমা দারুণ সঙ্গ দেন টেইলকে। ২৮ বলে ৫ চার ও ১ ছক্কায় অপরাজিত ৪৬ রান করেন তিনি।

যে তিনটি উইকেট পড়েছে জিম্বাবুয়ের সব কটি নিয়েছেন আফিফ হোসেন। এই ম্যাচ থেকে প্রাপ্তি কিছু থাকলে সেটি আফিফের এই বোলিংটাই। ৪ ওভার বল করে ১৯ রান খরচায় ৩ উইকেট নেন তিনি। আন্তর্জাতিক অভিষেকের অপেক্ষায় থাকা ইয়াসিন আরাফাত ২ ওভার বল করে ২২ রান খরচায় কোনো উইকেট পাননি। সাইফউদ্দিন ৩ ওভার বল করে ২০ রান খরচ করে ছিলেন উইকেটশূন্য।

শুক্রবার শুরু ত্রিদেশীয় সিরিজ। মিরপুরে প্রথম ম্যাচেই জিম্বাবুয়ের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। সিরিজের অপর দল আফগানিস্তান।

Print Friendly, PDF & Email

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর