,



সিরিজে চোখ

ওয়ানডেতে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজ জয়ের নজির নেই বাংলাদেশের। তবে এবারের চিত্র ভিন্ন। প্রথম ওয়ানডেতে স্বাগতিকদের বিপক্ষে বিশাল জয় নিয়ে এবার সিরিজে চোখ টাইগারদের। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে তিন ম্যাচ সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডেতে টাইগাররা মাঠে নামছে কাল। ডাম্বুলার একই মাঠে খেলা শুরু বাংলাদেশ সময় বিকাল ৩টায়। এতে ফেভারিটের তকমাটা বাংলাদেশেরই। আর কাল জয় পেলে সিরিজ নিশ্চিত হয়ে যাবে বাংলাদেশের। সাম্প্রতিক পরিসংখ্যানটা টাইগারদের পক্ষেই। শ্রীলঙ্কার মাটিতে সর্বশেষ সিরিজে ২০১৩ সালে ১-১ সমতা নিয়ে খেলা শেষ করে বাংলাদেশ। ২০১৫ বিশ্বকাপের পর ওয়ানডেতে দক্ষিণ আফ্রিকা ও ইংল্যান্ডের পর সেরা হারজিতের অনুপাত বাংলাদেশের। এ সময় ২২ ম্যাচের ১৪টিতে জয় দেখেছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশকে ভেভারিট মানছেন শ্রীলঙ্কার সহ-অধিনায়ক দিনেশ চান্ডিমালও। চান্ডিমাল বলেন, আমার ক্যারিয়ারের শুরুতে শ্রীলঙ্কাকে তাদের (বাংলাদেশ) বিপক্ষে সহজেই জয় পেতে দেখতাম। তবে এখনকার বাংলাদেশ দলটি ভিন্ন। তাদের সাত আটজন ক্রিকেটার নিয়মিত আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলছে। আর এক সঙ্গে দীর্ঘদিন খেলে অনেক অভিজ্ঞ তারা। ডাম্বুলায় সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে টস জিতে বাংলাদেশকে ব্যাটিংয়ে পাঠান শ্রীলঙ্কার অধিনায়ক উপুল থারাঙ্গা। এতে স্থানীয় মিডিয়ার সমালোচনা শোনে তারা। তবে চান্ডিমাল মনে করেন ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নয়, বাজে নৈপুণ্যই হারের কারণ। চান্ডিমাল বলেন, শ্রীলঙ্কা দল পুনর্গঠন প্রক্রিয়ায় রয়েছে, এমন অজুহাত আর চলে না। ডাম্বুলায় আগে ব্যাটিং শেষে বাংলাদেশের সংগ্রহ পৌঁছে ৩২৪/৫-এ। ওয়ানডে ক্রিকেটে বাংলাদেশের এটি তৃতীয় সর্বোচ্চ দলীয় স্কোর। নিজেদের  ‘পারফেক্ট’ ম্যাচে ব্যাটিং-বোলিং-ফিল্ডিং, ক্রিকেটের তিন বিভাগেই টাইগারদের নৈপুণ্যটা ছিল উজ্জ্বল। ব্যাট হাতে সেঞ্চুরি হাঁকান ওপেনার তামিম ইকবাল। এটা ছিল ‘ক্যারি দ্য ব্যাট থ্রো দ্য ইনিংস’-এর মতো। ওপেনার তামিম ইকবাল ক্রিজে কাটান ৪৭.৫ ওভার। ছক্কা হাঁকাতে গিয়ে উইকেট দেয়ার আগে তামিম খেলে নেন ১২৭ রানের ঝলমলে ইনিংস। তামিম হাঁকান ১৫টি চার ও একটি ছক্কা। তামিমকে ব্যাট হাতে ক্রিজে দারুণ সঙ্গ দেন সাব্বির রহমান ও সাকিব আল হাসান। দ্বিতীয় উইকেটে তামিম-সাব্বির ৯০ ও চতুর্থ উইকেটে তামিম-সাকিব গড়েন ১৪৪ রানের জুটি। বাংলাদেশ ইনিংসের শেষ ১০ ওভারে স্কোর বোর্ডে জমা পড়ে ১০৯ রান। জবাবে ব্যাট হাতে ইনিংসে শুরুতেই টাইগার বোলারদের তোপের মুখে পড়ে স্বাগতিকরা। প্রথম ওভারেই মেডেন উইকেট তুলে নেন অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা। আর অভিষিক্ত অফস্পিনার মেহেদী হাসান মিরাজও ক্রিজে বেঁধে রাখেন লঙ্কান ব্যাটসম্যানদের।  এতে ইনিংসের শুরুর ৫ ওভারে শ্রীলঙ্কার সংগ্রহ দাঁড়ায় ১৩/১ ও ১০ ওভার শেষে ৩০/২। শেষ পর্যন্ত ২৯ বল বাকি রেখেই ২৩৪ রানে গুঁড়িয়ে যায় শ্রীলঙ্কার ইনিংস। স্বাগতিকরা হার দেখে ৯০ রানে। লঙ্কানদের লজ্জা বাড়তে পারতো আরো। ৩৫ বলে ৫৫ রানের ইনিংস খেলেন শ্রীলঙ্কার আট নম্বর ব্যাটসম্যান থিসারা পেরেরা।
বল হাতে ৭ ওভারের স্পেলে ৩৫ রানে দুই উইকেট নেন মাশরাফি। আর ১০ ওবারের স্পেলে ৪৩ রানে মিরাজের শিকার দুই  উইকেট। একটি করে উইকেট নেন বাঁ-হাতি স্পিনার সাকিব আল হাসান ও পেসার তাসকিন আহমেদ। বল হাতে আরো একবার প্রতিপক্ষ ব্যাটসম্যানদের ভোগান্তির কারণ হতে দেখা গেল মোস্তাফিজুর রহমানকে। প্রথম ওয়ানডেতে বাংলাদেশের কাটার-মাস্টার মোস্তাফিজের শিকার তিন উইকেট। ক্যারিয়ারের শুরুর ১২ ওয়ানডেতে মোস্তাফিজুর রহমানের শিকার দাঁড়ালো ৩৩ উইকেটে। ওয়ানডে ইতিহাসে ক্যারিয়ারের শুরুর ১২ ওয়ানডেতে এত বেশি উইকেট শিকারের নজির নেই আর কোনো বোলারের। প্রথম ওয়ানডেতে বাংলাদেশের ফিল্ডিংটা ছিল ‘টপ ক্লাস’। দুরূহ একাধিক ক্যাচ দক্ষতার সঙ্গে তালুবন্দি করেন টাইগাররা। আর মোস্তাফিজুর রহমানের দারুণ থ্রোতে সরাসরি স্টাম্প ভেঙে রানআউটে কাটা পড়ে লঙ্কান ব্যাটসম্যান লাকশান সান্দাকানের উইকেট। বাংলাদেশের বিপক্ষে ওয়ানডেতে এটি ছিল শ্রীলঙ্কার দ্বিতীয় হার। আর ওয়ানডে ইতিহাসে শ্রীলঙ্কার রানের ব্যবধানে ষষ্ঠ বাজে হার এটি। সর্বশেষ ওয়ানডে সিরিজে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ৫-০তে হোয়াইটওয়াশের স্মৃতি লঙ্কানদের। কাল সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডেতে টাইগাররা ছাড়াও লঙ্কানদের বড় প্রতিপক্ষ হতে পারেন তারা নিজেরাই। চান্ডিমাল বলেন, এ হার  বেদনাদায়ক। আর বাংলাদেশের বিপক্ষে হার শেষে লঙ্কান মিডিয়ার শিরোনাম ছিল ‘যন্ত্রণাদায়ক এক হার’।

Print Friendly, PDF & Email

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর