,



তারা ‘বাউত উৎসবে’ মেতেছেন

বাঙালী কণ্ঠ ডেস্কঃ কারো হাতে মাছ ধরার পলো, কারো হাতে জাল। কি শিশু, কি বৃদ্ধ- বিলে মাছ ধরার উৎসবে মেতেছেন সবাই। মাছও ধরা পড়ছে শোল, পুঁটি, টেংরা, টাকি, কাতল, বোয়াল ইত্যাদি। তবে সবাই যে ধরতে পারছেন তা কিন্তু নয়; কারো কারো ফিরতে হচ্ছে খালি হাতে। তবে তাতে তাদের আক্ষেপ নেই। আনন্দে মাততে পেরেছেন এতেই তারা খুশি।

পাবনায় বিভিন্ন বিলে শত শত মানুষ মিলে মাছ ধরার এই উৎসবকে এলাকার ভাষায় বলে ‘বাউত উৎসব’। প্রতি বছর মাসব্যাপি এই উৎসব চলে। তবে দিন দিন জলাশয় ও বিল প্রভাবশালীদের দখলে চলে যাওয়ায় উৎসবের জৌলুস কমে যাচ্ছে।

শনিবার ভোরের আলো ফুটতে না ফুটতেই ভাঙ্গুড়া উপজেলার রুহুল বিল অভিমুখে মানুষের ঢল। কারো কাঁধে পলো, কারো হাতে ঠেলা জাল বা বাদাই জালসহ মাছ ধরার নানান উপকরণ। দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ জড়ো হচ্ছেন এক স্থানে। বিলে উৎসবমুখর পরিবেশ। কিছুক্ষণে পরে শুরু হলো দল বেঁধে বিলের পানিতে নেমে মাছ শিকার।

প্রতি বছর অগ্রহায়ণ মাসের মাঝামাঝি থেকে পরের এক মাস সপ্তাহে শনি ও মঙ্গলবার চলে এই মাছ শিকার উৎসব। এই উৎসবে যোগ দেন পাবনা ছাড়াও আশপাশের জেলার মানুষ। শুধু রুহুল বিলে নয়, পাবনার খলিশাগাড়ি বিল, আফরার বিল, ডিকশীর বিল, চলনবিলে চলে এই উৎসব।

অনেকে শখে এই উৎসবে মাছ শিকার করতে আসেন। তাদের কারো ভাগ্যে মাছ জোটে, কেউ ফেরেন খালি হাতে। কিন্তু এ নিয়ে কারো আক্ষেপ থাকে না। সবার সঙ্গে মিলে মাছ ধরার উৎসবটাই আসল।

রুহুল বিলে মাছ শিকারে আসা সাদেক আলী, জনাব আলী, খাইরুল ইসলাম, নজরুল প্রামাণিক জানান, কবে থেকে এ উৎসব চলে আসছে তা জানেন না। তবে ছোট-বড় সবাই মিলে মাছ ধরার এ উৎসবে তারা প্রতি বছর যোগ দেন। মাছ কে পেলো, আর কে পেলো না, তাতে তাদের আক্ষেপ নেই। সবাই মিলে মাছ ধরার আনন্দটাই মুখ্য। তবে তারা জানান, আগের মতো বিলে মাছ পাওয়া যায় না। বিল ছোট হয়ে গেছে, দেশি মাছও নেই।

উৎসবে আসা ভাঙ্গুড়া টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিজনেস ম্যানেজমেন্ট কলেজের অধ্যক্ষ বদরুল আলম বিদ্যুৎ বলেন, দিনে দিনে বাউত উৎসবের রঙ ফিকে হয়ে আসছে। আগের মতো বিল নেই, মাছও নেই। প্রভাবশালীদের দখলে চলে যাচ্ছে বিল, জলাশয়। সরকার কার্যকর উদ্যোগ নিয়ে মাছের অভয়ারণ্য তৈরি করলে ঐতিহ্যবাহী এই উৎসব ধরে রাখা যেত।

পাবনা জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. আব্দুর রউফ জানান, দেশি প্রজাতির মাছ ও প্রজননক্ষেত্র রক্ষায় মৎস্য শিকারিদের ভূমিকা রাখতে হবে। সবার মাঝে সচেতনতা বাড়াতে হবে। বর্তমানে ১২২ প্রজাতির মাছ বিলুপ্ত হয়ে গেছে বলে জানান তিনি।

Print Friendly, PDF & Email

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর