,



নিয়ন্ত্রণকারীদের পকেটে দিনে ৩০ লাখ টাকা

বাঙালী কণ্ঠ ডেস্কঃ ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার বুড়িচংয়ের মোকাম ইউনিয়ন ও নিমসার ঘিরে জুনাব আলী কলেজ গেইটের সামনে সড়ক ও জনপথের জায়গায় অবৈধভাবে গড়ে তোলা প্রায় অর্ধশত সবজির আড়ত গুঁড়িয়ে দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।
হাইকোর্টের নির্দেশ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সড়ক ও জনপথ বিভাগের সহযোগিতায় বিপুল সংখ্যক পুলিশ, আনসার ব্যাটেলিয়ন ওই উচ্ছেদ কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করে। গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় শুরু হওয়া এ উচ্ছেদ কার্যক্রম চলে বেলা ১২টা পর্যন্ত।

মহাসড়কের পাশে অবৈধভাবে গড়ে তোলা সবজির আড়ত ঘিরে প্রতিদিন স্থানীয় একটি মহল আয় করতো প্রায় ৩০ লাখ টাকা। দেশের সবজিখ্যাত অঞ্চল থেকে প্রতিদিন ভোররাতে মোকাম ও নিমসারে আসা অসংখ্য সবজিবাহি ট্রাক, মিনিট্রাক ও কুমিল্লা অঞ্চলের উৎপাদিত সবজি ওইসব অবৈধ আড়তে তোলা হতো। আর সেখান থেকেই প্রতিদিনের সবজি বিক্রির কমিশনের প্রায় ৩০ লাখ টাকা আসতো অবৈধ স্থাপনা ঘিরে গড়ে তোলা আড়ত নিয়ন্ত্রণকারীদের পকেটে। অথচ মহাসড়কের দক্ষিণপাশে নিমসার সবজি বাজারের জন্য নির্র্ধারিত দোকান বেশির ভাগই খালি পড়ে থাকতো। কলেজের সামনে মহাসড়কের পাশে গড়ে উঠা অবৈধ সবজি আড়তগুলোর কারণে যানজট সৃষ্টিসহ প্রতিষ্ঠানটির প্রায় আড়াই হাজার শিক্ষার্থী প্রতিদিনই ভোগান্তি ও ইভটিজিংয়ের শিকার হতো।
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার নিমসারে সওজ’র জায়গায় সরকারি নির্দেশনা উপেক্ষা করে বছরের পর বছর সবজির আড়ত পরিচালিত হয়ে আসছে। দেশের অন্যতম বৃহৎ সবজির হাট নিমসারে ইজারার মাধ্যমে বাজার পরিচালনার জন্য নির্দিষ্ট করে জায়গা বরাদ্দ থাকার পরও স্থানীয় একটি মহল ঐতিহ্যবাহী জুনাব আলী কলেজ গেইটের সামনের ও আশপাশের অংশ দখল করে অবৈধভাবে স্থাপনা ঘেরে সবজির আড়ত গড়ে তুলে। গত ২৩ সেপ্টেম্বর ওই কলেজের শিক্ষার্থী মো. আশরাফুল আলম অবৈধ স্থাপনার আড়তসমেত বাজার অপসারণের জন্য হাইকোর্টে রিট পিটিশন দায়ের করে। সেই আলোকে গত ২৪ নভেম্বর হাইকোর্ট কলেজের সামনে থেকে অবৈধ বাজার উচ্ছেদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বুড়িচং উপজেলা নির্বাহী অফিসার বুড়িচং কুমিল্লাকে নির্দেশ প্রদান করেন।

হাইকোর্টের ওই নির্দেশনার আলোকে গত ১২ ডিসেম্বর বুড়িচং উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. ইমরুল হাসান সাতদিনের মধ্যে অবৈধ সব স্থাপনা সরিয়ে নেয়ার জন্য নোটিশ দেন। কিন্তু ১৮ ডিসেম্বরের মধ্যে তা সরিয়ে না নেয়ায় গতকাল বৃহস্পতিবার উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নেতৃত্বে সড়ক ও জনপথ বিভাগের সহযোগিতায় মহাসড়কের কুমিল্লার মোকাম ও নিমসার অংশে গড়ে ওঠা অবৈধ প্রায় ৫০টি স্থাপনা বুলড্রেজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দিয়ে জায়গাটি উদ্ধার করে সেখানে বিভিন্ন প্রজাতির গাছগাছালি রোপন করা হয়। উচ্ছেদাভিযানে সহকারি কমিশনার (ভ‚মি) তাহমিদা আক্তার, সওজ’র বিভাগীয় উপ-প্রকৌশলী জাফরুল হায়দার, বুড়িচং থানার ওসি আকুল চন্দ্র বিশ্বাস, দেবপুর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ইন্সপেক্টর সাজ্জাদ হোসেন, মোকাম ইউপি চেয়ারম্যান ফজলুল হক মুন্সিসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

বুড়িচং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইমরুল হাসান বলেন, হাইকোর্টের নিদের্শনায় এ উচ্ছেদ কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে। ভবিষ্যতে এখানে যাতে পুনরায় হাটবাজারের নামে অবৈধ স্থাপনা গড়ে না উঠতে পারে এজন্য আমাদের ফলোআপ থাকবে। তারপরও যদি কেউ অবৈধ স্থাপনা গড়ে তুলে তাহলে আমরা আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হবো।

Print Friendly, PDF & Email

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর