,



বিশ্বের সব স্ট্র্যাটেজিক পরিকল্পনায় বাংলাদেশ

বাঙালী কণ্ঠ ডেস্কঃ যুক্তরাষ্ট্র, চীন, জাপানসহ বিশ্বের সব স্ট্র্যাটেজিক (সুদূরপ্রসারী সার্বিক লক্ষ্যমুখী) পরিকল্পনায় গুরুত্বপূর্ণ স্থানে আছে বাংলাদেশ। পরিকল্পনাগুলোর মধ্যে অন্যতম যুক্তরাষ্ট্রের ‘ইন্দো-প্যাসিফিক স্ট্র্যাটেজি (আইপিএস)’, চীনের ‘বেল্ট অ্যান্ড রোড উদ্যোগ (বিআরআই)’, জাপানের ‘বে অব বেঙ্গল ইন্ডাস্ট্রিয়াল গ্রোথ বেল্ট (বিগ-বি)’, ইউরোপের ‘ইউরো এশিয়া’। সবার প্রত্যাশা, বাংলাদেশ এসব পরিকল্পনায় সক্রিয় ভূমিকা রাখবে।

একাধিক কূটনৈতিক সূত্রে জানা যায়, ভৌগোলিকভাবে চীন ও ভারতের মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থান বাংলাদেশের জন্য বিশাল সুযোগ ও সম্ভাবনা সৃষ্টি করেছে। বিশ্ব অর্থনীতির কেন্দ্র আবার এশিয়ায় চলে আসছে। এ ছাড়া প্রতিযোগিতা সৃষ্টি হয়েছে বঙ্গোপসাগরকেন্দ্রিক বড় শক্তিগুলোর। এর ফলে বাংলাদেশের গুরুত্ব আগের চেয়ে অনেক বেড়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কূটনীতিক বলেন, বাংলাদেশের সামনে যে বিশাল সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছে তা কাজে লাগাতে আঞ্চলিক সহযোগিতার কোনো বিকল্প নেই।

গত নভেম্বরে ঢাকায় অনুষ্ঠিত ‘ঢাকা গ্লোবাল ডায়ালগ-২০১৯’-এ বিভিন্ন পর্বের আলোচনায় ওই পরিকল্পনাগুলো, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের ইন্দো-প্যাসিফিক স্ট্র্যাটেজি এবং চীনের বিআরআইয়ের বিষয়ে বাংলাদেশ কী করছে সে বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। সেখানে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম বলেন, চীনের ‘ওয়ান বেল্ট ওয়ান রোড’ এবং যুক্তরাষ্ট্রের ‘ইন্দো-প্যাসিফিক ভিশন’—দুটিকেই উন্নয়নের দৃষ্টিকোণে দেখে বাংলাদেশ। তিনি বলেন, বাংলাদেশের কাছে ওই দুটি লক্ষ্যের মধ্যে কোনো সংঘাত নেই। বরং সেগুলো একে অন্যের পরিপূরক।

২০১৬ সালে চীনের প্রেসিডেন্ট শি চিনপিংয়ের ঢাকা সফরকালে আনুষ্ঠানিকভাবে চীনের বিআরআইয়ে যোগ দিয়েছে বাংলাদেশ। তারও আগে ‘বিগ-বি’ পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে জাপান।

আওয়ামী লীগ টানা তৃতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পর পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেনের সঙ্গে প্রথম সাক্ষাতেই যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত আর্ল রবার্ট মিলার ইন্দো-প্যাসিফিক স্ট্র্যাটেজির বিষয়টি তুলে ধরেন। এরপর গত এপ্রিলে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেওর সঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মোমেনের বৈঠকে আলোচনা হয় ইন্দো-প্যাসিফিক স্ট্র্যাটেজি নিয়ে। ওই বৈঠকের পর পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মোমেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে চিঠি পাঠিয়ে ইন্দো-প্যাসিফিক স্ট্র্যাটেজির বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেন। সর্বশেষ গত নভেম্বরে ঢাকা গ্লোবাল ডায়ালগ-২০১৯-এ ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের সত্যিকারের সম্ভাবনা কাজে লাগাতে আন্ত আঞ্চলিক বাণিজ্য ও ভৌত সংযোগের মাধ্যমে দক্ষিণ, দক্ষিণ-পূর্ব ও পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতা আরো বাড়ানোর ওপর জোর দিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

ইন্দো-প্যাসিফিক স্ট্র্যাটেজিতে ভারতীয় উপমহাদেশ থেকে প্রশান্ত মহাসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত অঞ্চলের প্রতি স্থিতিশীলতার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও গত বছর ওই স্ট্র্যাটেজি ঘোষণার সময় বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের জনগণ ও সারা বিশ্ব ইন্দো-প্যাসিফিকে শান্তি ও সমৃদ্ধির অংশীদার। এ কারণেই ইন্দো-প্যাসিফিককে অবশ্যই উন্মুক্ত হতে হবে।

যুক্তরাষ্ট্রের ওই পরিকল্পনার গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হলো অর্থনীতি, সুশাসন ও নিরাপত্তা।

চীন বিআরআই গ্রহণ করে ২০১৩ সালে। এশিয়া, ইউরোপ, আফ্রিকা, মধ্যপ্রাচ্য ও আমেরিকা অঞ্চলের ১৫২টি দেশ ও সংস্থায় অবকাঠামো উন্নয়ন ও বিনিয়োগের লক্ষ্যে চীন ওই পরিকল্পনা ঘোষণা করে।

ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) এশিয়া ও ইউরোপকে সংযুক্ত করে ইউরোএশিয়া নামে একটি নীতি গ্রহণ করেছে। এশিয়া ও ইউরোপের সমাজ ও জনগণের নিরাপত্তা, সমৃদ্ধি জোরদার করার সমন্বিত, টেকসই ও শৃঙ্খলাভিত্তিক কানেকটিভিটির কথা বলা হয়েছে ইউরোএশিয়া পরিকল্পনায়।

জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে ২০১৪ সালে ঢাকা সফরের সময় বিগ-বি পরিকল্পনার বিষয়ে জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে। বাংলাদেশের অবস্থান বঙ্গোপসাগরের তীরে। আবার স্থলভাগ বিবেচনায় বাংলাদেশের অবস্থান দক্ষিণ এশিয়া ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মধ্যবর্তী স্থানে। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক শক্তি যখন ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে স্থানান্তরিত হচ্ছে তখন বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থানগত সুবিধা আঞ্চলিক ও আন্ত আঞ্চলিক কেন্দ্র হয়ে ওঠার ক্ষেত্রে বড় সুযোগ সৃষ্টি করেছে। জাপানের বিগ-বি পরিকল্পনায় বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অবকাঠামো, বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নয়ন এবং কানেকটিভিটি জোরদার করার কথা বলা হয়েছে।

Print Friendly, PDF & Email

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর