,



কাউন্সিল অধিবেশনে সাধারণ সম্পাদক পদে নাম প্রস্তাব উত্তর খুঁজতে নেতা-কর্মীরা

বাঙালী কণ্ঠ ডেস্কঃ আওয়ামী লীগের ২১তম জাতীয় সম্মেলনে দলের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকসহ কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব কেমন হচ্ছে সেসব প্রশ্নের উত্তর মিলবে আজ।

শনিবার সম্মেলনের দ্বিতীয় অধিবেশন রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (আইইবি) মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে থাকবেন শুধু কাউন্সিলররা। এই অধিবেশনে নতুন নেতৃত্ব নির্বাচন করা হবে।

নির্বাচন পরিচালনায় বুধবার দলের কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠকে তিন সদস্যের কমিশন গঠন করা হয়েছে। কমিশনের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পেয়েছেন দলের উপদেষ্টা কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন। অপর দুই সদস্য হলেন-উপদেষ্টা সদস্য ড. সাইদুর রহমার ও ড. মশিউর রহমান। আওয়ামী লীগের গঠনতন্ত্রের ৫২(ক) ধারা মোতাবেক কমিটি গঠন করেন দলের সভাপতি শেখ হাসিনা।

কাউন্সিল অধিবেশনে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে নাম প্রস্তাব ও সমর্থন করে থাকেন জ্যেষ্ঠ নেতারা। আর এতে কণ্ঠভোটে সমর্থন দেন উপস্থিত কাউন্সিলররা। পরে গঠনতন্ত্র মোতাবেক পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করেন নতুন সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক।

নেতা-কর্মীদের কাছে তুমুল জনপ্রিয়তা এবং দলে তার অপরিহার্যতার কারণে রেকর্ড নবমবারের মতো আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পাচ্ছেন শেখ হাসিনা। বিষয়টি নিয়ে নেতা-কর্মীদের মধ্যে কোনো দ্বি-মত নেই। তবে সাধারণ সম্পাদক কে হচ্ছেন তা এক প্রকার রহস্যেই রেখেছেন দলের সভাপতি। প্রতি সম্মেলনের আগে সাধারণ সম্পাদক কে হচ্ছে সেটি নিয়ে কিছুটা ধারণা পাওয়া গেলেও এবার সেই সুযোগ নেই। সাধারণ সম্পাদক পদে যাদের নাম আলোচনায় আছে, তারা তো বটেই নীতি নির্ধারণী পর্যায়েরও কারো কাছে কোনো তথ্য নেই। দায়িত্বশীল নেতারা বলছেন, নেত্রী যার ওপর আস্থা রাখবেন তিনি এই পদে আসবেন।

সাধারণ সম্পাদক পদের জন্য এবার আলোচনায় আছেন বর্তমান সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ড. আবদুর রাজ্জাক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক, আব্দুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, বিএম মোজাম্মেল হক, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক হাছান মাহমুদ, কেন্দ্রীয় সদস্য আজমত উল্লাহ খান।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, গত দুই দিনে গণভবনে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা সাক্ষাৎ দেননি দলের কোনো নেতাকে। এমনকি ওবায়দুল কাদের গিয়েও সাক্ষাৎ পাননি। বিষয়টি নিয়ে নেতা-কর্মীদের মধ্যে ভিন্ন বার্তা ছড়িয়ে পড়েছে। ওবায়দুল কাদেরই দ্বিতীয় মেয়াদে এই পদে থাকছেন, না কি অন্য কেউ আসছেন সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজছেন তারা। এ ছাড়া বড় রদ বদল হতে পারে দলের প্রেসিডিয়াম ও সম্পাদকীয় পদগুলোয়।

শুক্রবার সন্ধ্যায় রাজধানীন ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, দলের নেতা-কর্মীদের আনা গোনা খুব কম। কেন্দ্রীয় নেতাদের মধ্যে দু’একজন ছাড়া আর কেউই আসেননি। ওবায়দুল কাদের সন্ধ্যার দিকে এসে বেশ কিছুক্ষণ থেকে বেরিয়ে যান।

দলের সাধারণ সম্পাদক কে হচ্ছেন, সভাপতিমণ্ডলীতে যাচ্ছেন কে কে, সম্পাদকীয় পদগুলো পরিবর্তন কেমন হবে, উপদেষ্টা পরিষদে থাকছেন কারা এসব প্রশ্নের উত্তর মিলবে সম্মেলনের দ্বিতীয় অধিবেশনে। আপাতত সেই উত্তর খুঁজতে নেতা-কর্মীরা ভিড় করেছে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে।

প্রতিষ্ঠা লাভের পর থেকে এখন পর্যন্ত ২০টি জাতীয় সম্মেলন হয়েছে আওয়ামী লীগের। এসব সসেম্মলনে এখন পর্যন্ত সভাপতি হয়েছেন সাতজন। এর মধ্যে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী তিনবার করে সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন। বর্তমান সভাপতি শেখ হাসিনা সর্বোচ্চ আটবার, আবদুর রশীদ তর্কবাগীশ দুইবার এবং এ এইচ এম কামারুজ্জামান ও আবদুল মালেক উকিল একবার করে সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন। আর সৈয়দা জোহরা তাজউদ্দিন একবার নির্বাচিত হয়েছেন দলের আহ্বায়ক।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন ১০ জন। সবচেয়ে বেশি চারবার করে হয়েছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও জিল্লুর রহমান। এ ছাড়া তাজউদ্দিন আহমেদ তিনবার, আবদুর রাজ্জাক, সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম ও সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী দুইবার করে, প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক শামসুল হক, আবদুল জলিল এবং ওবায়দুল কাদের একবার করে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন।

Print Friendly, PDF & Email

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর