,



আপনাদের কপাল ভালো :শামীম ওসমান

বাঙালী কণ্ঠ ডেস্কঃ  বিএনপির নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্য করে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাংসদ একেএম শামীম ওসমান বলেছেন, ‘বিএনপি নারায়ণগঞ্জ কোর্টে মিছিল করে। মানি না, মানবো না, হেন দেও, ত্যান দেও। কিন্তু ২০০১ এর কথা যদি মনে আমাদের করাইয়া দেন তাহলে নারায়ণগঞ্জে তো থাকার কথা না। আমাদের তো কোর্টেও যাইতে দেন নাই। আর এখন গণতন্ত্রের চর্চা দেখান? আপনাদের কপাল ভালো। আমরা আল্লাহকে খুশি করার জন্য ধৈর্যশীল হইছি।’ বৃহস্পতিবার রাতে চাষাঢ়ায় সমবায় ভবনের ষষ্ঠ তলায় জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্যানেলের পরিচিতি সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে সভাপতি প্রার্থী হিসেবে দাড়িয়ে সরে গিয়েছেন আওয়ামী লীগের জাতীয় পরিষদের সদস্য এড. আনিসুর রহমান দিপু। এ প্রসঙ্গ টেনে শামীম ওসমান বলেন, ‘কিছুটা মনমালিন্য হয়েছে, মিটে গেছে। ওটা আসলে খেলা। অনেকে গেম খেলে। কিছু লোক আছে খেলাইয়া মজা পায়। তারা খেলছে কিন্তু যখন কথা হইসে তখন খেলা শেষ হইয়া গেছে। হয়তো দুই-চাইরজন পরিবর্তন হইতো যদি মনোনয়ন চাইতো। কিন্তু মনোনয়ন না চাইলে দিবো কেমনে?’
তিনি আরও বলেন, ‘নারায়ণগঞ্জে কিছু লোক আছে এজেন্সি নিয়া নিছে। বক্তা এগারোটা কিন্তু মানুষ নয়টা। প্রেস ক্লাবের সামনে কিংবা শহীদ মিনারের সামনে খাড়ায়। যেকোন বিষয়ে সারাদিন কথা কইতেই থাকে। তারা নারায়ণগঞ্জকে অস্থিতিশীল করতে চায়। এদের আবার কিছু পত্রিকা মুখপাত্র আছে। ওই পত্রিকাগুলো দেয়ালে লাগায়। পত্রিকা আবার দেয়ালে লাগায়নি? দিপু বইসা যাওয়াকে দিপুকে কী তিরস্কার! আমি চ্যালেঞ্জ কইরা বলতাছি, যে সাংবাদিক ওই পত্রিকা চালায় সে ঠিকমতো জার্নালিস্ট বানানটাও লিখতে পারে না।
তিনি বলেন, ‘ধান্দা করতে আসি নাই। অনেকে মুক্তিযোদ্ধা না হইয়াও মুক্তিযোদ্ধা সাজেন। অনেকেই আছেন হিন্দুদের সম্পত্তি দখল করেন। অনেকেই আছেন যাদের কিছুই ছিল না। কিন্তু এত কোটি টাকার মালিক কীভাবে হইছেন প্রশ্ন করলে অনেকে উত্তর দিতে পারবেন না। আমার দলেও আছে অন্য দলেও আছে। শত শত কোটি টাকার মালিক। অনেকে সজলদের (কাউন্সিলর নাজমুল আলম সজল) বাড়িতে ড্রাইভারিও করছে। সুতরাং কোত্থেকে টাকা আসে?’
শামীম ওসমান বলেন, ‘যদিও নামটা বলা উচিত না। নারায়ণগঞ্জ ক্লাবের একটা অনুষ্ঠানে আমার ছোটবেলার বন্ধু হুমায়ূন, জাকির আমাকে বললো, আমরা মনে করি এই কমিটির মেয়াদ আরও এক বছর বাড়িয়ে দেয়া উচিত। আমরা প্রস্তাব দেবো। রাজনীতি করেন আর অঙ্গিকারের কোন দাম নাই? আপনারাই তো বললেন। বিএনপির তরফ থেকে বিএনপির নেতারাই কমিটির মেয়াদ বাড়িয়ে দিতে আবার আপনারাই নির্বাচনে দাড়ালেন! আসলে এতে আমার মাঝে মাঝে ঘেন্না লাগে।’
সাধারণ আইনজীবীদের উদ্দেশ্যে আওয়ামী লীগের এই সাংসদ বলেন, ‘যদি গতানুগতিক নির্বাচন হয় আগামীতে যারা নেতৃত্বে আসবে তারা খুব একটা ভালো কাজ করবে না, করতে চাইবে না। কারণ ভালো কাজ যে করেছে তাকে উৎসাহিত করতে হবে। এটা আপনার দায়িত্ব। আপনি বিজ্ঞ আইনজীবী। আপনার দায়িত্ব কিন্তু অনেক বেশি। নারায়ণগঞ্জের মানুষ আপনার বিজ্ঞতা দেখতে চায়। আর সেটা আপনারা ২৯ জানুয়ারি দেখাবেন।’
এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন সাবেক সাংসদ হোসনে আরা বেগম বাবলী, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত শহীদ বাদল, মহানগর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি চন্দন শীল, সাধারণ সম্পাদক এড. খোকন সাহা, জেলা আদলতের পিপি এড. ওয়াজেদ আলী খোকন, নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি খালেদ হায়দার খান কাজল, সোনারগাঁ উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শামসুল ইসলাম ভূইয়া, জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি এড. হাসান ফেরদৌস জুয়েল, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি সাফায়েত আলম সানি প্রমুখ। পরিচিতি সভায় জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্যানেলের সভাপতি প্রার্থী এড. মোহসীন মিয়া, সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী এড. মাহবুবুর রহমানসহ অন্যান্য প্রার্থীরাও উপস্থিত ছিলেন।

Print Friendly, PDF & Email

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর