ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
জনগণের দোরগোড়ায় দ্রুত সেবা পৌঁছে দিতে হবে : ডিএসসিসি প্রশাসক বগুড়াকে আধুনিক শিক্ষা নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে চান প্রধানমন্ত্রী: শিক্ষামন্ত্রী আগামী বৈশাখ থেকে প্রতি জেলায় হবে গ্রামীণ খেলাধুলা : ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জুন মাসের মধ্যে হেলথ কার্ড দেওয়া হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী বিরোধী দলের ওপর স্বৈরাচারের ভূত আছর করেছে : প্রধানমন্ত্রী মাদক নির্মূলে শিগগিরই শুরু হবে বিশেষ অভিযান : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বৈশাখী সাজে শোবিজ তারকারা জুলাই সনদের প্রত্যেকটি অক্ষর বিএনপি বাস্তবায়ন করবে: প্রধানমন্ত্রী হারিয়ে যাচ্ছে বাঙালির ঐতিহ্যবাহী ‘লাল কাপড়ের মোড়ানো খাতা’ কৃষি ও কৃষকই অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি: তথ্যমন্ত্রী

‘কৃষক কার্ডে’ মিলবে যেসব সুবিধা

দেশের কৃষি খাতে স্বচ্ছতা ও আধুনিকায়ন নিশ্চিত করতে ‘কৃষক কার্ড’ চালু করছে সরকার। প্রি-পাইলটিং কার্যক্রমে প্রথম ধাপে ২১ হাজার ১৪ জন কৃষক এই কার্ড পাচ্ছেন। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের কৃষি পুনর্বাসন সহায়তা কর্মসূচির আওতায় আট বিভাগের ১১টি উপজেলার ১১টি ব্লকে এ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এ জন্য মোট আট কোটি ৩৪ লাখ ১০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

আগামী ১ বৈশাখ এই কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।এই উদ্যোগের আওতায় প্রতিটি কৃষক পরিবার একটি করে কৃষক কার্ড পাবে। তবে নির্ধারিত শ্রেণির কৃষক—ভূমিহীন, প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষকদের সরাসরি আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে। নীতিমালা অনুযায়ী, তাঁরা জনপ্রতি আড়াই হাজার টাকা হারে অনুদান পাবেন।

এই অর্থ দিয়ে সার, বীজ, কীটনাশকসহ কৃষি উপকরণ এবং মৎস্য ও গবাদি পশুর খাদ্য সংগ্রহ করা যাবে। শস্য উৎপাদনকারী কৃষকের পাশাপাশি মৎস্য চাষি ও প্রাণিসম্পদ খামারিরাও এ সুবিধার আওতায় থাকবেন।

যে সুবিধা পাবেন কৃষকরা
কৃষি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কৃষক কার্ডের আওতায় একজন কৃষক প্রাথমিকভাবে ১০ ধরনের সুবিধা পাবেন। এর মধ্যে রয়েছে—ন্যায্যমূল্যে বীজ, সার ও কীটনাশক সংগ্রহ, সরাসরি ভর্তুকি ও প্রণোদনা প্রাপ্তি, সাশ্রয়ী সেচ সুবিধা, সহজ শর্তে কৃষিঋণ, কৃষি বীমা, কৃষিপণ্য ন্যায্যমূল্যে বিক্রির সুযোগ, প্রশিক্ষণ, আবহাওয়ার তথ্য এবং রোগবালাই দমন-সংক্রান্ত পরামর্শ।

সোনালী ব্যাংকে অ্যাকাউন্ট, পস মেশিনে লেনদেন
কৃষি মন্ত্রণালয় বলছে, এই কর্মসূচির মাধ্যমে কৃষকদের জন্য একটি সমন্বিত আর্থিক কাঠামো গড়ে তোলা হচ্ছে, যাতে সরকারি সহায়তা সরাসরি প্রকৃত কৃষকের হাতে পৌঁছায় এবং নির্ধারিত খাতে ব্যয় নিশ্চিত হয়।

সরকারি তথ্য মতে, প্রি-পাইলটিং প্রকল্পের আওতায় ১১টি ব্লকে ২১ হাজার ১৪ জন কৃষকের তালিকা করা হয়েছে। আগামী চার বছরে এক কোটি ৬৫ লাখ কৃষকের হাতে এই কার্ড পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এই তালিকায় ভূমিহীন, প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষক অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন। পঞ্চগড় সদর, বগুড়ার শিবগঞ্জ, টাঙ্গাইল সদর, রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ, জামালপুরের ইসলামপুর, ঝিনাইদহের শৈলকুপা, পিরোজপুরের নেছারাবাদ, কক্সবাজারের টেকনাফ, কুমিল্লার আদর্শ সদর এবং মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলার কৃষকরা প্রাথমিকভাবে এ কার্ড পাচ্ছেন।

কৃষি ভর্তুকি ও উপকরণ সহায়তা কর্মসূচির আওতায় ২১ হাজার ১৪ জন কৃষকের চূড়ান্ত তালিকা করা হলেও প্রাথমিক বাজেট প্রণয়নের সময় ২৫ হাজার কৃষককে বিবেচনায় নেওয়া হয়। সে অনুযায়ী এ খাতে ছয় কোটি ২৫ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

এ ছাড়া অতিরিক্ত আরো দুই হাজার কৃষকের জন্য কার্ড প্রস্তুতের পরিকল্পনা রয়েছে। ২৭ হাজার কার্ড মুদ্রণের জন্য ৯৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। তথ্য সংগ্রহকারীদের সম্মানি বাবদ রাখা হয়েছে ১৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা।

মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব কামরুল হাসান বলেন, প্রতিটি তালিকাভুক্ত কৃষকের জন্য সোনালী ব্যাংকে একটি অ্যাকাউন্ট খোলার পাশাপাশি একটি ডেবিট কার্ড দেওয়া হবে। কার্ডে থাকা সরকারি সহায়তার অর্থ (যেমন আড়াই হাজার টাকা) কেবল নির্ধারিত ডিলারের পস মেশিনের মাধ্যমে সার, বীজ ও কীটনাশক কেনার জন্য ব্যবহার করা যাবে। এতে সহায়তার অর্থ অন্য খাতে ব্যয়ের সুযোগ থাকবে না এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত হবে।

একই সঙ্গে কার্ডটি সাধারণ ডেবিট কার্ড হিসেবেও ব্যবহার করা যাবে। কৃষক নিজের অর্থ জমা রাখলে তা ব্যক্তিগত প্রয়োজনে ব্যয় করতে পারবেন। ফলে গ্রামীণ এলাকায় ব্যাংকিং সেবার প্রসার ঘটবে এবং সঞ্চয়ের প্রবণতা বাড়বে।

এই ব্যবস্থায় বড় কৃষকদেরও অন্তর্ভুক্ত করা হবে। তাঁরা আধুনিক কৃষি যন্ত্রপাতি ক্রয়ে এই কার্ড ব্যবহার করতে পারবেন, যা কৃষির যান্ত্রিকীকরণ ত্বরান্বিত করবে বলে মন্ত্রণালয় জানিয়েছে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

Bangal Kantha

জনগণের দোরগোড়ায় দ্রুত সেবা পৌঁছে দিতে হবে : ডিএসসিসি প্রশাসক

‘কৃষক কার্ডে’ মিলবে যেসব সুবিধা

আপডেট টাইম : ০৫:৫৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ মার্চ ২০২৬
দেশের কৃষি খাতে স্বচ্ছতা ও আধুনিকায়ন নিশ্চিত করতে ‘কৃষক কার্ড’ চালু করছে সরকার। প্রি-পাইলটিং কার্যক্রমে প্রথম ধাপে ২১ হাজার ১৪ জন কৃষক এই কার্ড পাচ্ছেন। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের কৃষি পুনর্বাসন সহায়তা কর্মসূচির আওতায় আট বিভাগের ১১টি উপজেলার ১১টি ব্লকে এ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এ জন্য মোট আট কোটি ৩৪ লাখ ১০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

আগামী ১ বৈশাখ এই কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।এই উদ্যোগের আওতায় প্রতিটি কৃষক পরিবার একটি করে কৃষক কার্ড পাবে। তবে নির্ধারিত শ্রেণির কৃষক—ভূমিহীন, প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষকদের সরাসরি আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে। নীতিমালা অনুযায়ী, তাঁরা জনপ্রতি আড়াই হাজার টাকা হারে অনুদান পাবেন।

এই অর্থ দিয়ে সার, বীজ, কীটনাশকসহ কৃষি উপকরণ এবং মৎস্য ও গবাদি পশুর খাদ্য সংগ্রহ করা যাবে। শস্য উৎপাদনকারী কৃষকের পাশাপাশি মৎস্য চাষি ও প্রাণিসম্পদ খামারিরাও এ সুবিধার আওতায় থাকবেন।

যে সুবিধা পাবেন কৃষকরা
কৃষি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কৃষক কার্ডের আওতায় একজন কৃষক প্রাথমিকভাবে ১০ ধরনের সুবিধা পাবেন। এর মধ্যে রয়েছে—ন্যায্যমূল্যে বীজ, সার ও কীটনাশক সংগ্রহ, সরাসরি ভর্তুকি ও প্রণোদনা প্রাপ্তি, সাশ্রয়ী সেচ সুবিধা, সহজ শর্তে কৃষিঋণ, কৃষি বীমা, কৃষিপণ্য ন্যায্যমূল্যে বিক্রির সুযোগ, প্রশিক্ষণ, আবহাওয়ার তথ্য এবং রোগবালাই দমন-সংক্রান্ত পরামর্শ।

সোনালী ব্যাংকে অ্যাকাউন্ট, পস মেশিনে লেনদেন
কৃষি মন্ত্রণালয় বলছে, এই কর্মসূচির মাধ্যমে কৃষকদের জন্য একটি সমন্বিত আর্থিক কাঠামো গড়ে তোলা হচ্ছে, যাতে সরকারি সহায়তা সরাসরি প্রকৃত কৃষকের হাতে পৌঁছায় এবং নির্ধারিত খাতে ব্যয় নিশ্চিত হয়।

সরকারি তথ্য মতে, প্রি-পাইলটিং প্রকল্পের আওতায় ১১টি ব্লকে ২১ হাজার ১৪ জন কৃষকের তালিকা করা হয়েছে। আগামী চার বছরে এক কোটি ৬৫ লাখ কৃষকের হাতে এই কার্ড পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এই তালিকায় ভূমিহীন, প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষক অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন। পঞ্চগড় সদর, বগুড়ার শিবগঞ্জ, টাঙ্গাইল সদর, রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ, জামালপুরের ইসলামপুর, ঝিনাইদহের শৈলকুপা, পিরোজপুরের নেছারাবাদ, কক্সবাজারের টেকনাফ, কুমিল্লার আদর্শ সদর এবং মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলার কৃষকরা প্রাথমিকভাবে এ কার্ড পাচ্ছেন।

কৃষি ভর্তুকি ও উপকরণ সহায়তা কর্মসূচির আওতায় ২১ হাজার ১৪ জন কৃষকের চূড়ান্ত তালিকা করা হলেও প্রাথমিক বাজেট প্রণয়নের সময় ২৫ হাজার কৃষককে বিবেচনায় নেওয়া হয়। সে অনুযায়ী এ খাতে ছয় কোটি ২৫ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

এ ছাড়া অতিরিক্ত আরো দুই হাজার কৃষকের জন্য কার্ড প্রস্তুতের পরিকল্পনা রয়েছে। ২৭ হাজার কার্ড মুদ্রণের জন্য ৯৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। তথ্য সংগ্রহকারীদের সম্মানি বাবদ রাখা হয়েছে ১৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা।

মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব কামরুল হাসান বলেন, প্রতিটি তালিকাভুক্ত কৃষকের জন্য সোনালী ব্যাংকে একটি অ্যাকাউন্ট খোলার পাশাপাশি একটি ডেবিট কার্ড দেওয়া হবে। কার্ডে থাকা সরকারি সহায়তার অর্থ (যেমন আড়াই হাজার টাকা) কেবল নির্ধারিত ডিলারের পস মেশিনের মাধ্যমে সার, বীজ ও কীটনাশক কেনার জন্য ব্যবহার করা যাবে। এতে সহায়তার অর্থ অন্য খাতে ব্যয়ের সুযোগ থাকবে না এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত হবে।

একই সঙ্গে কার্ডটি সাধারণ ডেবিট কার্ড হিসেবেও ব্যবহার করা যাবে। কৃষক নিজের অর্থ জমা রাখলে তা ব্যক্তিগত প্রয়োজনে ব্যয় করতে পারবেন। ফলে গ্রামীণ এলাকায় ব্যাংকিং সেবার প্রসার ঘটবে এবং সঞ্চয়ের প্রবণতা বাড়বে।

এই ব্যবস্থায় বড় কৃষকদেরও অন্তর্ভুক্ত করা হবে। তাঁরা আধুনিক কৃষি যন্ত্রপাতি ক্রয়ে এই কার্ড ব্যবহার করতে পারবেন, যা কৃষির যান্ত্রিকীকরণ ত্বরান্বিত করবে বলে মন্ত্রণালয় জানিয়েছে।