ঢাকা , শনিবার, ১৩ জুলাই ২০২৪, ২৯ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

ভালো জাতের অভাবে পর্যাপ্ত উৎপাদনেও রপ্তানিতে পিছিয়ে বাংলাদেশের আলু

দেশে প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ উৎপাদন হলেও রপ্তানি বাজার ধরতে পারছে না বাংলাদেশের আলু। মূলত ভালো জাতের অভাবেই এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। দেশে চাহিদার চেয়ে বছরে প্রায় ২০-২৫ লাখ টন আলু বেশি উৎপাদন হয়। আলু উৎপাদনে বিশ্বে সপ্তম অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ আর এশিয়ায় তৃতীয়। খাদ্যপণ্যের মধ্যে দেশের একমাত্র উদ্বৃত্ত ফসল আলু। কিন্তু চলতি অর্থবছরের জানুয়ারি পর্যন্ত মাত্র ১৩ হাজার টন আলু রপ্তানি হয়েছে। আর ২০২১-২২ অর্থবছরে ৭৮ হাজার ৯১০ টন আলু রপ্তানি হয়েছিল। এর আগের অর্থবছর রপ্তানি হয় মাত্র ৬৮ হাজার ৭৭৩ টন। কৃষি মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়। সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, বর্তমানে দেশে আলুর অভ্যন্তরীণ চাহিদা ৭৫-৮০ লাখ টন। এর বিপরীতে চলতি অর্থবছরে উৎপাদন হয়েছে প্রায় ১ কোটি ১১ লাখ ২৪ হাজার ৭০০ টন। চলতি বছর দেশে ৪ লাখ ৬০ হাজার হেক্টর জমিতে আলু আবাদের লক্ষ্যমাত্রা হাতে নেয়া হয়। ইতোমধ্যে ৪ লাখ ৫১ হাজার হেক্টর জমির আলু কর্তন করা হয়েছে। এর মধ্যে ৪ লাখ ৫ হাজার হেক্টর জমিতে ১ কোটি ৪ লাখ ৩১ হাজার টন উচ্চফলনশীল (উফশী) আলু উৎপাদন হয়েছে। গড় ফলন প্রতি হেক্টরে ২৫ দশমিক ৭৭ টন। আর ৪৬ হাজার হেক্টর জমিতে স্থানীয় আলুর ফলন হয়েছে ৬ লাখ ৯৩ হাজার টন। গড় ফলন হেক্টরপ্রতি ১৫ দশমিক শূন্য ৫ টন। ২০২১-২২ অর্থবছরে ৪ লাখ ৬৪ হাজার ১১ হেক্টর জমিতে ১ কোটি ১ লাখ ৪৪ হাজার ৮৩৫ টন আলু উৎপাদন হয়েছিল। এর আগের বছর অর্থাৎ ২০২০-২১ অর্থবছরে ৪ লাখ ৬৮ হাজার ৬৮০ হেক্টর জমিতে ৯৮ লাখ ৮৭ হাজার ২৪২ টন আলু উৎপাদন হয়। আর ২০১৯-২০ অর্থবছরে ৪ লাখ ৬১ হাজার ৩১৭ হেক্টর জমিতে ৯৬ লাখ ৫ হাজার ৬২৪ টন আলু উৎপাদন হয়। সূত্র জানায়, বাংলাদেশে উৎপাদিত আলু আন্তর্জাতিক বাজারে জায়গা করে নিতে পারছে না। বাংলাদেশ বিশ্বে মোট রপ্তানি হওয়া আলুর মাত্র দশমিক ৩১ শতাংশ রপ্তানি করতে পারে। বর্তমানে বাংলাদেশের আলু রপ্তানির সবচেয়ে বড় বাজার মালয়েশিয়া। প্রায় ৫২ শতাংশই ওই দেশে রপ্তানি হচ্ছে। তাছাড়া শ্রীলংকা, নেপাল, সিঙ্গাপুর ও আরব আমিরাতেও রপ্তানি হয়। সম্প্রতি আলু রপ্তানির জন্য রাশিয়ার সঙ্গে চুক্তি করেছে সরকার। এর আগে ক্ষতিকর ব্রাউনরট রোগের উপস্থিতি শনাক্ত হওয়ায় ২০১৫ সালের ৬ মে থেকে আলু রপ্তানিতে সাময়িক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে রাশিয়া। দেশটির নিষেধাজ্ঞার কারণে ২০১৫-১৬ অর্থবছরে রপ্তানির পরিমাণ ৯১ হাজার টন থেকে ৪০ হাজার টনে নেমে আসে। পরে আলুকে ব্যাকটেরিয়ামুক্ত ও নিরাপদ করতে সরকার পদক্ষেপ গ্রহণ করায় ২০২২ সালের মার্চে রাশিয়া এ নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে নেয়। সূত্র আরো জানায়, বেশি উৎপাদন হলেও ভালো জাতের অভাব ও উৎপাদন খরচ বেশি হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে টিকতে পারছে না বাংলাদেশ। কারণ উৎপাদন পর্যায়েই প্রায় ১৪ শতাংশ আলু নষ্ট হচ্ছে। আর রপ্তানির ক্ষেত্রে ভালো জাত এবং উৎপাদন খরচ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সাম্প্রতিক সময়ে আলু রপ্তানিতে অধিক গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার। কিন্তু জাতের ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতা রয়েই গেছে। তবে ইতোমধ্যে রপ্তানি উপযোগী আলুর ১০টি উন্নত জাত উদ্ভাবন করেছে বিএডিসি। তার মধ্যে বিএডিসি আলু১ (সানশাইন), বিএডিসি আলু৩ (সান্তানা), বিএডিসি আলু৭ (কুইনঅ্যানি) ও বিএডিসি আলু৮ (লেবেলা) উল্লেখযোগ্য। বিএডিসির সানশাইন আলু সম্ভাবনাময়ী। এ জাতটি যদি রপ্তানি করা যায় তাহলে রপ্তানিতে এগিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে। বর্তমানে বাংলাদেশে যেসব জাতের আলুর উৎপাদন হয় সেগুলো মূলত টেবিল পটেটো বা রান্নার জন্য। এদিকে এ প্রসঙ্গে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বাদল চন্দ্র বিশ্বাস জানান, গত বছরের তুলনায় এবার রপ্তানি অনেক বেশি হবে। নতুন উদ্ভাবিত জাতগুলো দিয়ে উৎপাদন বাড়ানো গেলে যে ২০-২৫ শতাংশ বিভিন্ন কারণে নষ্ট হয়, তা অনেকটা কমে যাবে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

Bangal Kantha

ভালো জাতের অভাবে পর্যাপ্ত উৎপাদনেও রপ্তানিতে পিছিয়ে বাংলাদেশের আলু

আপডেট টাইম : ০৪:০৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ এপ্রিল ২০২৩

দেশে প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ উৎপাদন হলেও রপ্তানি বাজার ধরতে পারছে না বাংলাদেশের আলু। মূলত ভালো জাতের অভাবেই এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। দেশে চাহিদার চেয়ে বছরে প্রায় ২০-২৫ লাখ টন আলু বেশি উৎপাদন হয়। আলু উৎপাদনে বিশ্বে সপ্তম অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ আর এশিয়ায় তৃতীয়। খাদ্যপণ্যের মধ্যে দেশের একমাত্র উদ্বৃত্ত ফসল আলু। কিন্তু চলতি অর্থবছরের জানুয়ারি পর্যন্ত মাত্র ১৩ হাজার টন আলু রপ্তানি হয়েছে। আর ২০২১-২২ অর্থবছরে ৭৮ হাজার ৯১০ টন আলু রপ্তানি হয়েছিল। এর আগের অর্থবছর রপ্তানি হয় মাত্র ৬৮ হাজার ৭৭৩ টন। কৃষি মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়। সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, বর্তমানে দেশে আলুর অভ্যন্তরীণ চাহিদা ৭৫-৮০ লাখ টন। এর বিপরীতে চলতি অর্থবছরে উৎপাদন হয়েছে প্রায় ১ কোটি ১১ লাখ ২৪ হাজার ৭০০ টন। চলতি বছর দেশে ৪ লাখ ৬০ হাজার হেক্টর জমিতে আলু আবাদের লক্ষ্যমাত্রা হাতে নেয়া হয়। ইতোমধ্যে ৪ লাখ ৫১ হাজার হেক্টর জমির আলু কর্তন করা হয়েছে। এর মধ্যে ৪ লাখ ৫ হাজার হেক্টর জমিতে ১ কোটি ৪ লাখ ৩১ হাজার টন উচ্চফলনশীল (উফশী) আলু উৎপাদন হয়েছে। গড় ফলন প্রতি হেক্টরে ২৫ দশমিক ৭৭ টন। আর ৪৬ হাজার হেক্টর জমিতে স্থানীয় আলুর ফলন হয়েছে ৬ লাখ ৯৩ হাজার টন। গড় ফলন হেক্টরপ্রতি ১৫ দশমিক শূন্য ৫ টন। ২০২১-২২ অর্থবছরে ৪ লাখ ৬৪ হাজার ১১ হেক্টর জমিতে ১ কোটি ১ লাখ ৪৪ হাজার ৮৩৫ টন আলু উৎপাদন হয়েছিল। এর আগের বছর অর্থাৎ ২০২০-২১ অর্থবছরে ৪ লাখ ৬৮ হাজার ৬৮০ হেক্টর জমিতে ৯৮ লাখ ৮৭ হাজার ২৪২ টন আলু উৎপাদন হয়। আর ২০১৯-২০ অর্থবছরে ৪ লাখ ৬১ হাজার ৩১৭ হেক্টর জমিতে ৯৬ লাখ ৫ হাজার ৬২৪ টন আলু উৎপাদন হয়। সূত্র জানায়, বাংলাদেশে উৎপাদিত আলু আন্তর্জাতিক বাজারে জায়গা করে নিতে পারছে না। বাংলাদেশ বিশ্বে মোট রপ্তানি হওয়া আলুর মাত্র দশমিক ৩১ শতাংশ রপ্তানি করতে পারে। বর্তমানে বাংলাদেশের আলু রপ্তানির সবচেয়ে বড় বাজার মালয়েশিয়া। প্রায় ৫২ শতাংশই ওই দেশে রপ্তানি হচ্ছে। তাছাড়া শ্রীলংকা, নেপাল, সিঙ্গাপুর ও আরব আমিরাতেও রপ্তানি হয়। সম্প্রতি আলু রপ্তানির জন্য রাশিয়ার সঙ্গে চুক্তি করেছে সরকার। এর আগে ক্ষতিকর ব্রাউনরট রোগের উপস্থিতি শনাক্ত হওয়ায় ২০১৫ সালের ৬ মে থেকে আলু রপ্তানিতে সাময়িক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে রাশিয়া। দেশটির নিষেধাজ্ঞার কারণে ২০১৫-১৬ অর্থবছরে রপ্তানির পরিমাণ ৯১ হাজার টন থেকে ৪০ হাজার টনে নেমে আসে। পরে আলুকে ব্যাকটেরিয়ামুক্ত ও নিরাপদ করতে সরকার পদক্ষেপ গ্রহণ করায় ২০২২ সালের মার্চে রাশিয়া এ নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে নেয়। সূত্র আরো জানায়, বেশি উৎপাদন হলেও ভালো জাতের অভাব ও উৎপাদন খরচ বেশি হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে টিকতে পারছে না বাংলাদেশ। কারণ উৎপাদন পর্যায়েই প্রায় ১৪ শতাংশ আলু নষ্ট হচ্ছে। আর রপ্তানির ক্ষেত্রে ভালো জাত এবং উৎপাদন খরচ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সাম্প্রতিক সময়ে আলু রপ্তানিতে অধিক গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার। কিন্তু জাতের ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতা রয়েই গেছে। তবে ইতোমধ্যে রপ্তানি উপযোগী আলুর ১০টি উন্নত জাত উদ্ভাবন করেছে বিএডিসি। তার মধ্যে বিএডিসি আলু১ (সানশাইন), বিএডিসি আলু৩ (সান্তানা), বিএডিসি আলু৭ (কুইনঅ্যানি) ও বিএডিসি আলু৮ (লেবেলা) উল্লেখযোগ্য। বিএডিসির সানশাইন আলু সম্ভাবনাময়ী। এ জাতটি যদি রপ্তানি করা যায় তাহলে রপ্তানিতে এগিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে। বর্তমানে বাংলাদেশে যেসব জাতের আলুর উৎপাদন হয় সেগুলো মূলত টেবিল পটেটো বা রান্নার জন্য। এদিকে এ প্রসঙ্গে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বাদল চন্দ্র বিশ্বাস জানান, গত বছরের তুলনায় এবার রপ্তানি অনেক বেশি হবে। নতুন উদ্ভাবিত জাতগুলো দিয়ে উৎপাদন বাড়ানো গেলে যে ২০-২৫ শতাংশ বিভিন্ন কারণে নষ্ট হয়, তা অনেকটা কমে যাবে।