ঢাকা , শুক্রবার, ১৯ জুলাই ২০২৪, ৩ শ্রাবণ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

অস্বস্তির বাজারে দাম বেড়েছে পেঁয়াজের

নিত্যপ্রয়োজনীয় ভোগ্যপণ্যের ক্রম-ঊর্ধ্বমূল্যের বাজারে এমনিতেই অস্বস্তিতে রয়েছে স্বল্পআয়ের মানুষ। এরই মধ্যে সপ্তাহের ব্যবধানে রাজধানীর বাজারে পেঁয়াজের দাম আরও বেড়েছে। কেজিপ্রতি সর্বোচ্চ ২০ টাকা বেড়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় এ পণ্যটি এখন বিক্রি হচ্ছে ১২০ টাকা পর্যন্ত। এর আগে কেজিপ্রতি ১০ থেকে ১৫ টাকা বেড়ে পেঁয়াজের দাম শতকের ঘরে পৌঁছায়। অথচ এ সময়ে পেঁয়াজ ৩০ থেকে ৩৫ টাকা কেজি বিক্রি হওয়ার কথা।

খুচরা বিক্রেতারা বলছেন, গেল সপ্তাহের শুরুর দিক থেকেই পাইকারি বাজারে দামে অস্থিরতা দেখা দেয়। এর প্রভাব এখন খুচরা বাজারেও পড়েছে। এদিকে পাইকারি ব্যবসায়ীরা বলছেন, একদিকে আমদানিকৃত পেঁয়াজের সংকট, অপরদিকে দেশি পেঁয়াজের সরবরাহও এখন তলানিতে। তারা বলছেন, মুড়িকাটা পেঁয়াজের মৌসুম শেষ হওয়ায় সরবরাহে টান পড়েছে। স্থানীয় মোকাম থেকে রাজধানীর পাইকারি বাজারে সরবরাহ কমে গেছে।

শ্যামবাজারের পাইকারি বিক্রেতা তপু সেন বলেন, ভালো দাম পাওয়ায় এবার বেশিরভাগ কৃষক আগেভাগে মুড়িকাটা পেঁয়াজ তুলে ফেলেছেন। ফলে ফেব্রুয়ারির আগেই এ পেঁয়াজের সরবরাহে ঘাটতি দেখা দিয়েছে। অপরদিকে হালি পেঁয়াজ উঠতে আরও অনেকটা সময় বাকি। ভারতীয় পেঁয়াজের সংকট আগে থেকেই চলছে। অন্যান্য পেঁয়াজ আমদানিতেও নষ্ট হচ্ছে বেশি, পরিমাণেও কম। সব মিলিয়ে চাহিদার তুলনায় সরবরাহে ঘাটতি দেখা দেওয়ায় দামের এ ঊর্ধ্বগতি।

আরেক পাইকারি বিক্রেতা কানাই সাহা বলেন, বিগত বছরগুলোতে এমন সময় সাধারণত নতুন পেঁয়াজের কারণে দাম অনেকটা কম থাকে। বছরের এমন সময় পেঁয়াজের কেজি ৩০ থেকে ৩৫ টাকা থাকে। সেখানে এবার ভিন্ন চিত্র। ভারত থেকে আমদানি বন্ধ থাকায় বাজারে বিদেশি পেঁয়াজের সরবরাহ অনেক কম। আগাম পেঁয়াজ দিয়ে আর কত দিনই-বা চলে! কৃষকরাও এবার আগেভাগে মুড়িকাটা পেঁয়াজ তুলে ফেলেছেন। ফলে দেশি পেঁয়াজেরও টান পড়েছে। এতে দামে প্রভাব পড়েছে। মাসখানেক বাদে হালি পেঁয়াজ উঠবে। তার আগে দাম কমার সম্ভাবনা কম।

কদমতলী এলাকার খুচরা বিক্রেতা মো. হাবিব রহমান বলেন, গত সপ্তাহে ১০০ থেকে ১০৫ টাকায় বিক্রি করতে পেরেছি। কিন্তু নতুন কেনা পেঁয়াজের দাম বাড়তি। এ পেঁয়াজ ১১৫ টাকায় বিক্রি করছি। বাছাই করা ভালো মানের পেঁয়াজ ১২০ টাকা কেজি।

ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) প্রতিবেদনেও মূল্যবৃদ্ধির চিত্র উঠে এসেছে। সংস্থাটির পর্যবেক্ষণ বলছে, গতকাল রাজধানীর বাজারে খুচরা দেশি পেঁয়াজের কেজি ১০০ থেকে ১২০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়েছে। মাসের ব্যবধানে যা প্রায় ১৯ শতাংশ বেড়েছে।

এদিকে পেঁয়াজের বাজারের এমন উত্তাপের পেছনে কারসাজি রয়েছে বলে মনে করছেন ভোক্তারা। বেশির ভাগ ক্রেতাদের অভিযোগ, রমজান মাসকে সামনে রেখে অন্যান্য নিত্যপণ্যের মতো পেঁয়াজেও কারসাজি চলছে। কৃত্রিম সংকট তৈরি করে দাম বাড়ানো হচ্ছে।

রাজধানীর দক্ষিণগাঁও এলাকার বাসিন্দা বেসরকারি চাকরিজীবী মো. নাঈম বলেন, প্রতিদিনের রান্নায় পেঁয়াজ দরকার। এর দাম এত বেড়ে গেলে মাসের বাজার খরচে বড় প্রভাব পড়ে। এখন পেঁয়াজের মৌসুম। এখন দাম কম হওয়ার কথা। তা নয়, উল্টো রোজাকে সামনে রেখে ব্যবসায়ীরা আগেভাগে কৃত্রিম সংকট তৈরি করেছে। এটা অনৈতিক ব্যবসা। এতে আমাদের মতো সাধারণ ভোক্তাদের কষ্ট আরও বেড়েছে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

Bangal Kantha

অস্বস্তির বাজারে দাম বেড়েছে পেঁয়াজের

আপডেট টাইম : ০৪:৪৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৪

নিত্যপ্রয়োজনীয় ভোগ্যপণ্যের ক্রম-ঊর্ধ্বমূল্যের বাজারে এমনিতেই অস্বস্তিতে রয়েছে স্বল্পআয়ের মানুষ। এরই মধ্যে সপ্তাহের ব্যবধানে রাজধানীর বাজারে পেঁয়াজের দাম আরও বেড়েছে। কেজিপ্রতি সর্বোচ্চ ২০ টাকা বেড়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় এ পণ্যটি এখন বিক্রি হচ্ছে ১২০ টাকা পর্যন্ত। এর আগে কেজিপ্রতি ১০ থেকে ১৫ টাকা বেড়ে পেঁয়াজের দাম শতকের ঘরে পৌঁছায়। অথচ এ সময়ে পেঁয়াজ ৩০ থেকে ৩৫ টাকা কেজি বিক্রি হওয়ার কথা।

খুচরা বিক্রেতারা বলছেন, গেল সপ্তাহের শুরুর দিক থেকেই পাইকারি বাজারে দামে অস্থিরতা দেখা দেয়। এর প্রভাব এখন খুচরা বাজারেও পড়েছে। এদিকে পাইকারি ব্যবসায়ীরা বলছেন, একদিকে আমদানিকৃত পেঁয়াজের সংকট, অপরদিকে দেশি পেঁয়াজের সরবরাহও এখন তলানিতে। তারা বলছেন, মুড়িকাটা পেঁয়াজের মৌসুম শেষ হওয়ায় সরবরাহে টান পড়েছে। স্থানীয় মোকাম থেকে রাজধানীর পাইকারি বাজারে সরবরাহ কমে গেছে।

শ্যামবাজারের পাইকারি বিক্রেতা তপু সেন বলেন, ভালো দাম পাওয়ায় এবার বেশিরভাগ কৃষক আগেভাগে মুড়িকাটা পেঁয়াজ তুলে ফেলেছেন। ফলে ফেব্রুয়ারির আগেই এ পেঁয়াজের সরবরাহে ঘাটতি দেখা দিয়েছে। অপরদিকে হালি পেঁয়াজ উঠতে আরও অনেকটা সময় বাকি। ভারতীয় পেঁয়াজের সংকট আগে থেকেই চলছে। অন্যান্য পেঁয়াজ আমদানিতেও নষ্ট হচ্ছে বেশি, পরিমাণেও কম। সব মিলিয়ে চাহিদার তুলনায় সরবরাহে ঘাটতি দেখা দেওয়ায় দামের এ ঊর্ধ্বগতি।

আরেক পাইকারি বিক্রেতা কানাই সাহা বলেন, বিগত বছরগুলোতে এমন সময় সাধারণত নতুন পেঁয়াজের কারণে দাম অনেকটা কম থাকে। বছরের এমন সময় পেঁয়াজের কেজি ৩০ থেকে ৩৫ টাকা থাকে। সেখানে এবার ভিন্ন চিত্র। ভারত থেকে আমদানি বন্ধ থাকায় বাজারে বিদেশি পেঁয়াজের সরবরাহ অনেক কম। আগাম পেঁয়াজ দিয়ে আর কত দিনই-বা চলে! কৃষকরাও এবার আগেভাগে মুড়িকাটা পেঁয়াজ তুলে ফেলেছেন। ফলে দেশি পেঁয়াজেরও টান পড়েছে। এতে দামে প্রভাব পড়েছে। মাসখানেক বাদে হালি পেঁয়াজ উঠবে। তার আগে দাম কমার সম্ভাবনা কম।

কদমতলী এলাকার খুচরা বিক্রেতা মো. হাবিব রহমান বলেন, গত সপ্তাহে ১০০ থেকে ১০৫ টাকায় বিক্রি করতে পেরেছি। কিন্তু নতুন কেনা পেঁয়াজের দাম বাড়তি। এ পেঁয়াজ ১১৫ টাকায় বিক্রি করছি। বাছাই করা ভালো মানের পেঁয়াজ ১২০ টাকা কেজি।

ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) প্রতিবেদনেও মূল্যবৃদ্ধির চিত্র উঠে এসেছে। সংস্থাটির পর্যবেক্ষণ বলছে, গতকাল রাজধানীর বাজারে খুচরা দেশি পেঁয়াজের কেজি ১০০ থেকে ১২০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়েছে। মাসের ব্যবধানে যা প্রায় ১৯ শতাংশ বেড়েছে।

এদিকে পেঁয়াজের বাজারের এমন উত্তাপের পেছনে কারসাজি রয়েছে বলে মনে করছেন ভোক্তারা। বেশির ভাগ ক্রেতাদের অভিযোগ, রমজান মাসকে সামনে রেখে অন্যান্য নিত্যপণ্যের মতো পেঁয়াজেও কারসাজি চলছে। কৃত্রিম সংকট তৈরি করে দাম বাড়ানো হচ্ছে।

রাজধানীর দক্ষিণগাঁও এলাকার বাসিন্দা বেসরকারি চাকরিজীবী মো. নাঈম বলেন, প্রতিদিনের রান্নায় পেঁয়াজ দরকার। এর দাম এত বেড়ে গেলে মাসের বাজার খরচে বড় প্রভাব পড়ে। এখন পেঁয়াজের মৌসুম। এখন দাম কম হওয়ার কথা। তা নয়, উল্টো রোজাকে সামনে রেখে ব্যবসায়ীরা আগেভাগে কৃত্রিম সংকট তৈরি করেছে। এটা অনৈতিক ব্যবসা। এতে আমাদের মতো সাধারণ ভোক্তাদের কষ্ট আরও বেড়েছে।