মানবসভ্যতার মহাকাশ অভিযানে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় যুক্ত হতে যাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বেসরকারি মহাকাশ প্রযুক্তি কোম্পানি বিশ্বের প্রথম বাণিজ্যিক মহাকাশ স্টেশন নির্মাণের কাজ শুরু করেছে। এই স্টেশনের নাম হ্যাভেন-১। এটি সফলভাবে উৎক্ষেপণ হলে প্রথমবারের মতো কোনো বেসরকারি প্রতিষ্ঠান পরিচালিত মহাকাশ স্টেশন পৃথিবীর কক্ষপথে কাজ শুরু করবে। ইন্টারনেট থেকে তথ্য নিয়ে বিস্তারিত জানাচ্ছেন- জামিউর রহমান
কেন তৈরি হচ্ছে নতুন মহাকাশ স্টেশন : দীর্ঘদিন ধরে পৃথিবীর নিম্ন কক্ষপথে মানব গবেষণার প্রধান কেন্দ্র ছিল। তবে ২০ বছরের বেশি সময় ধরে ব্যবহারের পর এই স্টেশন ২০৩০ সালের দিকে অবসর নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। ফলে মহাকাশে গবেষণা চালিয়ে যাওয়ার জন্য নতুন স্টেশনের প্রয়োজন দেখা দিয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে বেসরকারি কোম্পানিগুলো এগিয়ে এসেছে এবং ভাস্টের হ্যাভেন-১ প্রকল্পকে মহাকাশ গবেষণার ভবিষ্যৎ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
হ্যাভেন-১ স্টেশনে যা যা থাকবে : হ্যাভেন-১ একটি আধুনিক ও তুলনামূলক ছোট মহাকাশ স্টেশন, যা পৃথিবীর নিম্ন কক্ষপথে স্থাপন করা হবে। এতে একসঙ্গে চারজন নভোচারী থাকতে পারবেন এবং সাধারণত তারা ১০ থেকে ৩০ দিন পর্যন্ত সেখানে অবস্থান করবেন।
এই স্টেশনে থাকবে-
বৈজ্ঞানিক গবেষণাগার
মাইক্রোগ্রাভিটি গবেষণা সুবিধা
নভোচারীদের থাকার কক্ষ
পৃথিবী পর্যবেক্ষণের জন্য বড় জানালা
দ্রুতগতির যোগাযোগব্যবস্থা
মাইক্রোগ্রাভিটি পরিবেশে এখানে জীববিজ্ঞান, ওষুধ তৈরি, উদ্ভিদ গবেষণা এবং নতুন প্রযুক্তির পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা সম্ভব হবে।
যেভাবে নির্মাণ করা হচ্ছে হ্যাভেন-১
হ্যাভেন-১ বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার কারখানায় নির্মাণ করা হচ্ছে। স্টেশনের মূল কাঠামো তৈরি হয়ে গেছে এবং এখন বিভিন্ন প্রযুক্তিগত সিস্টেম যুক্ত করা হচ্ছে।
স্টেশনে ব্যবহৃত গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তিগুলোর মধ্যে রয়েছে-
প্রপালশন বা চালনা ব্যবস্থা
বিদ্যুৎ ও শক্তি সরবরাহ ব্যবস্থা
যোগাযোগব্যবস্থা
বায়ু ও পরিবেশ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা
এই স্টেশন মহাকাশে পাঠানোর জন্য ব্যবহার করা হবে রকেট। আর নভোচারীদের যাতায়াতের জন্য ব্যবহৃত হবে মহাকাশযান, যা তৈরি করেছে।
উৎক্ষেপণ যখন : পরিকল্পনা অনুযায়ী হ্যাভেন মহাকাশে পাঠানো হতে পারে ২০২৭ সালের দিকে। উৎক্ষেপণের পর প্রথম মানব মিশনে চারজন নভোচারী প্রায় এক মাস সেখানে অবস্থান করবেন এবং বিভিন্ন গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনা করবেন।
হ্যাভেন-২ ভবিষ্যতের বড় মহাকাশ স্টেশন : হ্যাভেন-১ মূলত একটি প্রাথমিক ধাপ। এর অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে ভাস্ট ভবিষ্যতে আরও বড় একটি মহাকাশ স্টেশন তৈরি করতে চায়, যার নাম হ্যাভেন-২।
এই নতুন স্টেশন হবে বহু মডিউলবিশিষ্ট এবং দীর্ঘ সময় মানুষের বসবাস ও গবেষণার উপযোগী। ভাস্টের লক্ষ্য হলো ২০৩০ সালের মধ্যে একটি পূর্ণাঙ্গ বাণিজ্যিক মহাকাশ স্টেশন তৈরি করা, যা ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনের বিকল্প হিসেবে কাজ করতে পারে।

বাঙ্গালী কণ্ঠ ডেস্ক 

























