ঢাকা , শনিবার, ১৩ জুলাই ২০২৪, ২৯ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

হু হু করে বাড়ছে দাম, পূর্বাচলে প্লট বিক্রির হিড়িক

রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) রাজউকের পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে হঠাৎ করে জমির দাম বেড়ে গেছে। এ কারণে প্লট বেচাকেনার হিড়িক পড়ে গেছে। বিশেষ করে প্রথম বরাদ্দপ্রাপ্তরা প্লট বিক্রি করছেন বেশি।

জানা যায়, বর্তমানে পূর্বাচলে তিন কাঠার প্লট তিন কোটি টাকা। অর্থাৎ কাঠাপ্রতি এক কোটি টাকা বিক্রি হচ্ছে। অথচ তিন কাঠা প্লট বরাদ্দ নিতে খরচ হয়েছে ৬ লাখ টাকা মাত্র।

জানতে চাইলে রাজউকের পূর্বাচল প্রকল্পে তিন কাঠার প্লট বরাদ্দপ্রাপ্ত রবিউল হক ঢাকাপ্রকাশ-কে বলেন, কাঠাপ্রতি এক লাখ ৬৫ হাজার টাকা করে রাজউকে জমা দিতে হয়েছে। এর বাইরে জামানত মোটের উপর এক লাখ টাকা দিতে হয়েছে।

এক প্রশ্নের জবাবে রবিউল হক বলেন, ‘এখন তো ৩ কোটি টাকা দাম উঠেছে। অনেকের মতো আমিও বিক্রি করে দেব বলে চিন্তা করছি।’

পূর্বাচলের ১০৩/বি রোডে প্লট রয়েছে নাভিদ আক্তারের। তিনি বিক্রি করে দিবেন। তাদের প্লট সাড়ে সাত কাঠার। তিনি অবশ্যই দ্রুত বিক্রি করতে চান। এজন্য সাড়ে ৬ কোটি পেলেই ছেড়ে দেবেন।

জানতে চাইলে নাভিদ আক্তার ঢাকাপ্রকাশ-কে বলেন, ‘জমিটা আমার দুলাভাইয়ের। সরকারি চাকরিজীবী কোটায় তিনি বরাদ্দ পেয়েছিলেন। বোন-দুলাভাই মারা গেছেন। দুই ভাগ্নি থাকে বিদেশে। ওরা আমাকে দায়িত্ব দিয়েছে বিক্রির। ওদের পক্ষ থেকে আমি কথা বলি।’

পূর্বাচলে জমির ব্যবসার সঙ্গে জড়িত শহীদুল ইসলাম ঢাকাপ্রকাশ-কে বলেন, আমি তো কয়েকটা গ্রুপের সঙ্গে টুকটাক ব্রোকারি করি। এখানে বিশাল বিশাল সব বিনিয়োগকারী আছে যারা প্লট পেলেই কিনে ফেলে রাখছে। এমন একটি বিনিয়োগকারী গ্রুপের সন্ধানও আমি জানি যারা ৩৫১টি প্লট কিনে রেখেছে পরে বেশি দামে বিক্রি করবে বলে।

এক প্রশ্নের জবাবে শহীদুল ইসলাম বলেন, কাঠাপ্রতি মাত্র দুই লাখ টাকা জমা দিয়ে প্লট বরাদ্দ পেয়েছে প্রথম বরাদ্দপ্রাপ্তরা। এখন সেটার দাম কাঠাপ্রতি এক কোটি টাকা। কাজেই বিক্রি মূলত প্রথম বরাদ্দপ্রাপ্তরা করছেন। কারণ. তারা পানির দামে বরাদ্দ পেয়েছিলেন।

জানতে চাইলে রাজউকের পূর্বাচলের উপ-পরিচালক প্রশাসন বিধান রায় ঢাকাপ্রকাশ-কে বলেন, নিয়মিত ট্রান্সফারের আবেদন করছেন বরাদ্দপ্রাপ্তরা। এর সংখ্যা দিনদিন বাড়ছে। বেশিরভাগই বিক্রি করে দিতে চান।

প্রবাসী কোটায় প্লট পেয়েছিলেন সাখাওয়াত হোসেন। তিনি এখন যুক্তরাষ্ট্রের ডালাসে রিয়েল এস্টেট ব্যবসা করেন। অনলাইন ঢাকাপ্রকাশ-কে তিনি জানান, পূর্বাচলের ১০৩ নাম্বার রোডে তার ১০ কাঠার বাণিজ্যিক প্লট রয়েছে। তিনি দাম চাইছেন ২৫ কোটি টাকা।

এক প্রশ্নের জবাবে সাখাওয়াত হোসেন বলেন, এখন পর্যন্ত দাম উঠেছে ১৮ কোটি টাকা। কিন্তু আমি ২৫ কোটির নিচে বিক্রি করব না।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পূর্বাচলে এখনো সেই অর্থে বাসযোগ্য হয়নি। আরও ১০ বছর লেগে যাবে পুরোপুরি বাসযোগ্য হতে। কিন্তু তারপরও প্লটের দাম বাড়ছে রকেটের গতিতে।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলনের (পবা) সভাপতি আবু নাসের খান ঢাকাপ্রকাশ-কে বলেন, নিম্ন ভূমি-খাল-জলাশয় ভরাট করে বিত্তশালীদের জন্য আবাসন করেছে রাজউক। অথচ এটি হওয়ার কথা ছিল গৃহহীনদের জন্য।

এক প্রশ্নের জবাবে আবু নাসের খান বলেন, ‘বিশ্বের কোথাও এমন সিস্টেম নাই যে সরকার হাজার হাজার কোটি টাকা খরচ করে বিত্তশালীদের জন্য মাথাপিছু ১০ কাঠা করে জমি বরাদ্দ দেয়। এটা শুধু বাংলাদেশেই সম্ভব।’

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

Bangal Kantha

হু হু করে বাড়ছে দাম, পূর্বাচলে প্লট বিক্রির হিড়িক

আপডেট টাইম : ০৩:০০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৩

রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) রাজউকের পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে হঠাৎ করে জমির দাম বেড়ে গেছে। এ কারণে প্লট বেচাকেনার হিড়িক পড়ে গেছে। বিশেষ করে প্রথম বরাদ্দপ্রাপ্তরা প্লট বিক্রি করছেন বেশি।

জানা যায়, বর্তমানে পূর্বাচলে তিন কাঠার প্লট তিন কোটি টাকা। অর্থাৎ কাঠাপ্রতি এক কোটি টাকা বিক্রি হচ্ছে। অথচ তিন কাঠা প্লট বরাদ্দ নিতে খরচ হয়েছে ৬ লাখ টাকা মাত্র।

জানতে চাইলে রাজউকের পূর্বাচল প্রকল্পে তিন কাঠার প্লট বরাদ্দপ্রাপ্ত রবিউল হক ঢাকাপ্রকাশ-কে বলেন, কাঠাপ্রতি এক লাখ ৬৫ হাজার টাকা করে রাজউকে জমা দিতে হয়েছে। এর বাইরে জামানত মোটের উপর এক লাখ টাকা দিতে হয়েছে।

এক প্রশ্নের জবাবে রবিউল হক বলেন, ‘এখন তো ৩ কোটি টাকা দাম উঠেছে। অনেকের মতো আমিও বিক্রি করে দেব বলে চিন্তা করছি।’

পূর্বাচলের ১০৩/বি রোডে প্লট রয়েছে নাভিদ আক্তারের। তিনি বিক্রি করে দিবেন। তাদের প্লট সাড়ে সাত কাঠার। তিনি অবশ্যই দ্রুত বিক্রি করতে চান। এজন্য সাড়ে ৬ কোটি পেলেই ছেড়ে দেবেন।

জানতে চাইলে নাভিদ আক্তার ঢাকাপ্রকাশ-কে বলেন, ‘জমিটা আমার দুলাভাইয়ের। সরকারি চাকরিজীবী কোটায় তিনি বরাদ্দ পেয়েছিলেন। বোন-দুলাভাই মারা গেছেন। দুই ভাগ্নি থাকে বিদেশে। ওরা আমাকে দায়িত্ব দিয়েছে বিক্রির। ওদের পক্ষ থেকে আমি কথা বলি।’

পূর্বাচলে জমির ব্যবসার সঙ্গে জড়িত শহীদুল ইসলাম ঢাকাপ্রকাশ-কে বলেন, আমি তো কয়েকটা গ্রুপের সঙ্গে টুকটাক ব্রোকারি করি। এখানে বিশাল বিশাল সব বিনিয়োগকারী আছে যারা প্লট পেলেই কিনে ফেলে রাখছে। এমন একটি বিনিয়োগকারী গ্রুপের সন্ধানও আমি জানি যারা ৩৫১টি প্লট কিনে রেখেছে পরে বেশি দামে বিক্রি করবে বলে।

এক প্রশ্নের জবাবে শহীদুল ইসলাম বলেন, কাঠাপ্রতি মাত্র দুই লাখ টাকা জমা দিয়ে প্লট বরাদ্দ পেয়েছে প্রথম বরাদ্দপ্রাপ্তরা। এখন সেটার দাম কাঠাপ্রতি এক কোটি টাকা। কাজেই বিক্রি মূলত প্রথম বরাদ্দপ্রাপ্তরা করছেন। কারণ. তারা পানির দামে বরাদ্দ পেয়েছিলেন।

জানতে চাইলে রাজউকের পূর্বাচলের উপ-পরিচালক প্রশাসন বিধান রায় ঢাকাপ্রকাশ-কে বলেন, নিয়মিত ট্রান্সফারের আবেদন করছেন বরাদ্দপ্রাপ্তরা। এর সংখ্যা দিনদিন বাড়ছে। বেশিরভাগই বিক্রি করে দিতে চান।

প্রবাসী কোটায় প্লট পেয়েছিলেন সাখাওয়াত হোসেন। তিনি এখন যুক্তরাষ্ট্রের ডালাসে রিয়েল এস্টেট ব্যবসা করেন। অনলাইন ঢাকাপ্রকাশ-কে তিনি জানান, পূর্বাচলের ১০৩ নাম্বার রোডে তার ১০ কাঠার বাণিজ্যিক প্লট রয়েছে। তিনি দাম চাইছেন ২৫ কোটি টাকা।

এক প্রশ্নের জবাবে সাখাওয়াত হোসেন বলেন, এখন পর্যন্ত দাম উঠেছে ১৮ কোটি টাকা। কিন্তু আমি ২৫ কোটির নিচে বিক্রি করব না।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পূর্বাচলে এখনো সেই অর্থে বাসযোগ্য হয়নি। আরও ১০ বছর লেগে যাবে পুরোপুরি বাসযোগ্য হতে। কিন্তু তারপরও প্লটের দাম বাড়ছে রকেটের গতিতে।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলনের (পবা) সভাপতি আবু নাসের খান ঢাকাপ্রকাশ-কে বলেন, নিম্ন ভূমি-খাল-জলাশয় ভরাট করে বিত্তশালীদের জন্য আবাসন করেছে রাজউক। অথচ এটি হওয়ার কথা ছিল গৃহহীনদের জন্য।

এক প্রশ্নের জবাবে আবু নাসের খান বলেন, ‘বিশ্বের কোথাও এমন সিস্টেম নাই যে সরকার হাজার হাজার কোটি টাকা খরচ করে বিত্তশালীদের জন্য মাথাপিছু ১০ কাঠা করে জমি বরাদ্দ দেয়। এটা শুধু বাংলাদেশেই সম্ভব।’