ঢাকা , শনিবার, ১৩ জুলাই ২০২৪, ২৯ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদে দানের টাকায় সর্বোচ্চ রেকর্ড

কিশোরগঞ্জের পাগলা মসজিদের দানবাক্সে এবার ১৯ বস্তায় সাড়ে ৫ কোটির বেশি টাকা পাওয়া গেছে। পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে এবার দান বেশি আসায় টাকার অঙ্ক বেড়েছে বলে জানিয়েছে মসজিদ কর্তৃপক্ষ।

ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদে আটটি দানবাক্স রয়েছে। প্রতি তিন বা সাড়ে তিনমাস পর পর এই বাক্সগুলো খোলা হয়। তবে করোনার প্রাদুর্ভাব শুরুর পর থেকে এ মসজিদের দানবাক্সগুলো খোলা হয় চার মাস পর পর। এবারও দানবাক্সগুলো খোলা হয়েছে চার মাস পর। শনিবার সকাল ৮টায় দানবাক্সগুলো খোলা হয়। দানবাক্স খুলে প্রথমে টাকাগুলো বস্তায় ভরা হয়। পরে মসজিদের দ্বিতীয় তলায় নিয়ে মেঝেতে ঢেলে গণনা শুরু করা হয়। দিনভর গণনা শেষে ৫ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৮৯ টাকাসহ বৈদেশিক ডলার, মুদ্রা এবং স্বর্ণ ও রূপার বিভিন্ন ধরনের অলংকার পাাওয়া গেছে।

জেলা প্রশাসক ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকের উপস্থিতিতে দানবাক্স খোলা কমিটির আহ্বায়ক অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কাজী মহুয়া মমতাজের তত্ত্বাবধানে সকাল ৮টায় দানবাক্স খোলা হয়। দিনভর টাকা গননার কাজে সহায়তা করেছেন পাগলা মসজিদের ৩৫জন স্টাফ, ৮৯ জন মাদ্রাসার ছাত্র, রূপালি ও সোনালী ব্যাংকের ৯৭জন কর্মকর্তা-কর্মচারী ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পুলিশ,আনসার সহ পাগলা মসজিদের অন্যান্য কর্মচারীরা।

জেলা প্রশাসক ও পাগলা মসজিদ কমিটির সভাপতি আবুল কালাম আজাদ ঢাকাপ্রকাশ-কে বলেন, এইবার সর্বোচ্চ রেকর্ড সাড়ে পাঁচ কোটির অধিক টাকা পাওয়া গেছে। পাগলা মসজিদের দানের টাকায় আন্তর্জাতিক মানের একটি ইসলামিক কমপ্লেক্স নির্মাণ করা হবে। কমপ্লেক্সটি এশিয়া মহাদেশের মধ্যে অন্যতম স্থাপনা হিসেবে পরিগণিত হবে। এতে স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রাকৃতিক আলোর ব্যবস্থা থাকবে। এজন্য আনুমানিক ব্যয় ধরা হয়েছে ১২০ থেকে ১২৫ কোটি টাকা। সেখানে একসঙ্গে প্রায় ৪০ হাজার মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পারবেন। এ ছাড়া ৫ হাজার নারীর জন্য নামাজের আলাদা ব্যবস্থা থাকবে।

এর আগে চলতি বছরের ৭ জানুয়ারি পাগলা মসজিদের দানবাক্স খুলে ২০টি বস্তায় পাওয়া গিয়েছিল ৪ কোটি ১৮ লাখ ১৬ হাজার ৭৪৪ টাকা। আরও ছিল বৈদেশিক মুদ্রা, সোনা ও রুপার অলংকার।

জনশ্রুতিতে আছে, পাগলবেশী এক আধ্যাত্মিক পুরুষ খরস্রোতা নরসুন্দা নদীর মধ্যস্থলে মাদুর পেতে ভেসে এসে বর্তমান মসজিদের কাছে স্থিত হন এবং তাকে ঘিরে আশেপাশে অনেক ভক্তকূল সমবেত হন। উক্ত পাগলের মৃত্যুর পর তার সমাধির পাশে পরবর্তীতে এই মসজিদটি গড়ে উঠে তাই কালক্রমে এটি পাগলা মসজিদ নামে পরিচিত হয়। মসজিদটি শুধু ইসলাম ধর্মাবলম্বীর কাছেই নয়, সকল র্ধমাবলম্বীর কাছে অত্যন্ত পবিত্র ধর্মীয় কেন্দ্র হিসেবে পরিগণিত। অনেকের বদ্ধমূল বিশ্বাস যে, কেও সহি নিয়তে এ মসজিদে দান খয়রাত করলে তার ইচ্ছা পূর্ণ হয়।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

Bangal Kantha

ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদে দানের টাকায় সর্বোচ্চ রেকর্ড

আপডেট টাইম : ০৬:১০ অপরাহ্ন, শনিবার, ৬ মে ২০২৩

কিশোরগঞ্জের পাগলা মসজিদের দানবাক্সে এবার ১৯ বস্তায় সাড়ে ৫ কোটির বেশি টাকা পাওয়া গেছে। পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে এবার দান বেশি আসায় টাকার অঙ্ক বেড়েছে বলে জানিয়েছে মসজিদ কর্তৃপক্ষ।

ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদে আটটি দানবাক্স রয়েছে। প্রতি তিন বা সাড়ে তিনমাস পর পর এই বাক্সগুলো খোলা হয়। তবে করোনার প্রাদুর্ভাব শুরুর পর থেকে এ মসজিদের দানবাক্সগুলো খোলা হয় চার মাস পর পর। এবারও দানবাক্সগুলো খোলা হয়েছে চার মাস পর। শনিবার সকাল ৮টায় দানবাক্সগুলো খোলা হয়। দানবাক্স খুলে প্রথমে টাকাগুলো বস্তায় ভরা হয়। পরে মসজিদের দ্বিতীয় তলায় নিয়ে মেঝেতে ঢেলে গণনা শুরু করা হয়। দিনভর গণনা শেষে ৫ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৮৯ টাকাসহ বৈদেশিক ডলার, মুদ্রা এবং স্বর্ণ ও রূপার বিভিন্ন ধরনের অলংকার পাাওয়া গেছে।

জেলা প্রশাসক ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকের উপস্থিতিতে দানবাক্স খোলা কমিটির আহ্বায়ক অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কাজী মহুয়া মমতাজের তত্ত্বাবধানে সকাল ৮টায় দানবাক্স খোলা হয়। দিনভর টাকা গননার কাজে সহায়তা করেছেন পাগলা মসজিদের ৩৫জন স্টাফ, ৮৯ জন মাদ্রাসার ছাত্র, রূপালি ও সোনালী ব্যাংকের ৯৭জন কর্মকর্তা-কর্মচারী ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পুলিশ,আনসার সহ পাগলা মসজিদের অন্যান্য কর্মচারীরা।

জেলা প্রশাসক ও পাগলা মসজিদ কমিটির সভাপতি আবুল কালাম আজাদ ঢাকাপ্রকাশ-কে বলেন, এইবার সর্বোচ্চ রেকর্ড সাড়ে পাঁচ কোটির অধিক টাকা পাওয়া গেছে। পাগলা মসজিদের দানের টাকায় আন্তর্জাতিক মানের একটি ইসলামিক কমপ্লেক্স নির্মাণ করা হবে। কমপ্লেক্সটি এশিয়া মহাদেশের মধ্যে অন্যতম স্থাপনা হিসেবে পরিগণিত হবে। এতে স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রাকৃতিক আলোর ব্যবস্থা থাকবে। এজন্য আনুমানিক ব্যয় ধরা হয়েছে ১২০ থেকে ১২৫ কোটি টাকা। সেখানে একসঙ্গে প্রায় ৪০ হাজার মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পারবেন। এ ছাড়া ৫ হাজার নারীর জন্য নামাজের আলাদা ব্যবস্থা থাকবে।

এর আগে চলতি বছরের ৭ জানুয়ারি পাগলা মসজিদের দানবাক্স খুলে ২০টি বস্তায় পাওয়া গিয়েছিল ৪ কোটি ১৮ লাখ ১৬ হাজার ৭৪৪ টাকা। আরও ছিল বৈদেশিক মুদ্রা, সোনা ও রুপার অলংকার।

জনশ্রুতিতে আছে, পাগলবেশী এক আধ্যাত্মিক পুরুষ খরস্রোতা নরসুন্দা নদীর মধ্যস্থলে মাদুর পেতে ভেসে এসে বর্তমান মসজিদের কাছে স্থিত হন এবং তাকে ঘিরে আশেপাশে অনেক ভক্তকূল সমবেত হন। উক্ত পাগলের মৃত্যুর পর তার সমাধির পাশে পরবর্তীতে এই মসজিদটি গড়ে উঠে তাই কালক্রমে এটি পাগলা মসজিদ নামে পরিচিত হয়। মসজিদটি শুধু ইসলাম ধর্মাবলম্বীর কাছেই নয়, সকল র্ধমাবলম্বীর কাছে অত্যন্ত পবিত্র ধর্মীয় কেন্দ্র হিসেবে পরিগণিত। অনেকের বদ্ধমূল বিশ্বাস যে, কেও সহি নিয়তে এ মসজিদে দান খয়রাত করলে তার ইচ্ছা পূর্ণ হয়।