মৃদু শৈত্যপ্রবাহের কবলে পড়েছে দেশের সর্বউত্তরের জেলা পঞ্চগড়। গত তিন দিন ধরে এ জেলার ওপর দিয়ে বয়ে যাচ্ছে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ। উত্তরাঞ্চলের অন্য জেলাগুলোতে শৈত প্রবাহ না পড়লেও জনজীবনে শীতের প্রভাব আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। রাস্তাঘাট, বাড়ির সামনে, চা-স্টলের পাশে খড়কুটো জ্বালিয়ে অনেকে শীত নিবারণের চেষ্টা করছেন। বিশেষ করে নিম্ন আয়ের মানুষ ভোরের হাড়কাঁপানো ঠান্ডা উপেক্ষা করে মাঠে-ঘাটে বের হতে হিমশিম খাচ্ছে। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে রোদ উঠলেও এতে তেমন উষ্ণতা মেলেনি।
আগামী ১৪ থেকে ২০ ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশের কয়েকটি স্থানে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে নামার শঙ্কা রয়েছে। এতে দেশের ৪-৫টি জেলায় তাপমাত্রা মৃদু শৈত্যপ্রবাহের মাত্রা স্পর্শ করতে পারে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ ওয়েদার অবজারভেশন টিম (বিডব্লিউওটি)।
সংস্থাটি জানায়, গত কয়েকদিন ধরে দেশের কিছু স্থানে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১০-১১ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ঘরে নামলেও শুধু তেঁতুলিয়াতেই তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে অর্থাৎ মৃদু শৈত্যপ্রবাহের মাত্রায় নামতে দেখা গিয়েছিল। সাধারণত ডিসেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে দেশে শৈত্যপ্রবাহ তেমন আসে না। তবে এবার ব্যতিক্রম হতে যাচ্ছে।
বিডব্লিউওটি তথ্যানুযায়ী, আগামী সপ্তাহে দেশের ৪-৫টি জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৮ থেকে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে নেমে মৃদু শৈত্যপ্রবাহের সৃষ্টি করতে পারে। এসব জেলার মধ্যে রয়েছে—পঞ্চগড়, দিনাজপুর, কুড়িগ্রাম, চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর যশোর (কয়েকটি স্থান) এবং শ্রীমঙ্গলে (মৌলভীবাজার জেলা)। এই স্থানগুলোতে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৯-১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে নামার শঙ্কা রয়েছে। এর মধ্যে তেঁতুলিয়ায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা আরও কমে ৮-৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ঘরে থাকতে পারে।
সংস্থাটি আরও জানায়, মৃদু শৈত্যপ্রবাহের আওতার বাইরে থাকলেও দেশের আরও কয়েকটি জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা উল্লেখযোগ্য হারে কমতে পারে। এই জেলাগুলোতে তাপমাত্রা ১০-১২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে নেমে শীতের অনুভূতি দেবে।
এই তালিকায় থাকা জেলাগুলো হচ্ছে—রাজশাহী, পাবনা, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নওগাঁ, নীলফামারী, লালমনিরহাট, গাইবান্ধা, বগুড়া, জয়পুরহাট, কুষ্টিয়া, মাগুরা, ঝিনাইদহ, নড়াইল, সাতক্ষীরা, গোপালগঞ্জ, বরিশাল, ভোলা, কুমিল্লা, ফেনী, খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি, ময়মনসিংহ ও এর পার্শ্ববর্তী এলাকা।
অন্যদিকে, দেশের বাকি এলাকায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১৩-১৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে থাকতে পারে। এর মধ্যে কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, ঢাকা, চাঁদপুর, লক্ষ্মীপুর ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রার মান সব থেকে বেশি অর্থাৎ ১৫-১৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। ডিসেম্বরের তৃতীয় সপ্তাহে দেশের ৪-৫টি জেলায় মৃদু শৈত্যপ্রবাহ আসতে পারে এবং দেশের বাকি এলাকায়ও শীতের তীব্রতা কিছুটা বৃদ্ধি পেতে পারে বলে জানিয়েছে বিডব্লিউওটি।
শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) আবহাওয়া অধিদফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, উত্তর অথবা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৬ থেকে ১২ কিলোমিটার বেগে হালকা বাতাস বইতে পারে। এ সময় দিনের তাপমাত্রায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই।
অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার সকাল ৬টায় ঢাকার তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১৬ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ সময় বাতাসের আপেক্ষিক আর্দ্রতা ছিল ৮৭ শতাংশ। এর আগের দিন শুক্রবার ঢাকায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ২৮ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গত ২৪ ঘণ্টায় রাজধানীতে কোনো বৃষ্টিপাত হয়নি।
সারা দেশের জন্য দেওয়া সম্ভাব্য পূর্বাভাসে আবহাওয়া অধিদফতর জানিয়েছে, শনিবার দেশের সব বিভাগেই শুষ্ক আবহাওয়া বিরাজ করতে পারে। ভোরের দিকে কিছু এলাকায় হালকা কুয়াশা পড়ার সম্ভাবনা থাকলেও কোথাও বৃষ্টির আশঙ্কা নেই। রাত ও দিনের তাপমাত্রায় সামান্য ওঠানামা হলেও সার্বিক আবহাওয়ায় বড় কোনো পরিবর্তন হবে না বলে জানানো হয়েছে।

বাঙ্গালী কণ্ঠ ডেস্ক 

























