ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
জনগণের দোরগোড়ায় দ্রুত সেবা পৌঁছে দিতে হবে : ডিএসসিসি প্রশাসক বগুড়াকে আধুনিক শিক্ষা নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে চান প্রধানমন্ত্রী: শিক্ষামন্ত্রী আগামী বৈশাখ থেকে প্রতি জেলায় হবে গ্রামীণ খেলাধুলা : ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জুন মাসের মধ্যে হেলথ কার্ড দেওয়া হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী বিরোধী দলের ওপর স্বৈরাচারের ভূত আছর করেছে : প্রধানমন্ত্রী মাদক নির্মূলে শিগগিরই শুরু হবে বিশেষ অভিযান : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বৈশাখী সাজে শোবিজ তারকারা জুলাই সনদের প্রত্যেকটি অক্ষর বিএনপি বাস্তবায়ন করবে: প্রধানমন্ত্রী হারিয়ে যাচ্ছে বাঙালির ঐতিহ্যবাহী ‘লাল কাপড়ের মোড়ানো খাতা’ কৃষি ও কৃষকই অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি: তথ্যমন্ত্রী

গণমাধ্যমের স্বাধীনতায় অবনতির শীর্ষে যুক্তরাষ্ট্র

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সহ পুরো আমেরিকা মহাদেশ অঞ্চলে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে এবং এর মধ্যে সবচেয়ে বড় পতন ঘটেছে যুক্তরাষ্ট্রে, এমন তথ্য উঠে এসেছে একটি নতুন প্রতিবেদনে। ইন্টার আমেরিকান প্রেস এসোসিয়েশন (আইএপিএ) মঙ্গলবার (১০ মার্চ) তাদের সর্বশেষ প্রেস ফ্রিডম সূচক প্রকাশ করে এ তথ্য জানায়।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২০ সালে সূচক প্রকাশ শুরু হওয়ার পর গত বছরই অঞ্চলটিতে মতপ্রকাশের স্বাধীনতার অবস্থা সবচেয়ে খারাপ পর্যায়ে পৌঁছেছে। গবেষকেরা বলেছেন, আমেরিকা অঞ্চলে অবাধ মতপ্রকাশের ক্ষেত্রে গুরুতর অবনতি ঘটেছে।

প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, মেক্সিকো, হন্ডুরাস, ইকুয়েডর, নিকারাগুয়া, এল সালভাদর, গুয়াতেমালা, কলম্বিয়া, কিউবা ও ভেনেজুয়েলার মতো দেশে সাংবাদিকদের হত্যা, নির্বিচারে গ্রেপ্তার, নির্বাসনে যেতে বাধ্য করা এবং অপরাধের বিচারহীনতা বেড়েছে।

২৩টি দেশের তালিকায় যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান চতুর্থ থেকে নেমে ১১তম স্থানে এসেছে, যা সেখানে সাংবাদিকদের কাজ করার ক্ষেত্রে বাড়তি সীমাবদ্ধতার ইঙ্গিত দেয়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত বছর প্রেসিডেন্ট হিসেবে ডোনাল্ড ট্রাম্পের দায়িত্ব গ্রহণের পর নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপ এ পতনের অন্যতম কারণ।

প্রতিবেদনটি উল্লেখ করেছে, যুক্তরাষ্ট্রে সংবিধান ও আইনের মাধ্যমে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা সুরক্ষিত থাকলেও সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো সেই সুরক্ষাকে দুর্বল করেছে। সমালোচনামূলক সাংবাদিকতাকে কলঙ্কিত করা, সরকারি অর্থায়নে পরিচালিত গণমাধ্যমের বাজেট কমানো এবং ভয়েস অভ আমেরিকা বন্ধ করে দেওয়ার মতো পদক্ষেপকে সংবাদমাধ্যমের জন্য ক্ষতিকর বলে উল্লেখ করা হয়েছে। গত বছর দেশটিতে সাংবাদিকদের ওপর মোট ১৭০টি হামলার ঘটনাও নথিভুক্ত হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, নিকারাগুয়া ও ভেনেজুয়েলাকে এখনও “মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নেই” এমন দেশের তালিকায় রাখা হয়েছে। ভেনেজুয়েলায় বিতর্কিত ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের পর ৪০০টির বেশি রেডিও স্টেশন বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে এবং ২৫ জন সাংবাদিককে আটক করা হয়েছে।

এদিকে এল সালভাদর সূচকে ২১তম স্থানে নেমে এসেছে। দেশটির সাংবাদিক সংগঠন জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট Nayib Bukele-এর সরকারের ক্রমবর্ধমান দমন-পীড়নের কারণে গত এক বছরে প্রায় ৫০ জন সাংবাদিক দেশ ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইকুয়েডর, বলিভিয়া, হন্ডুরাস, পেরু, মেক্সিকো, হাইতি, কিউবা ও এল সালভাদর—এই আটটি দেশকে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার ক্ষেত্রে উচ্চ মাত্রার বিধিনিষেধ থাকা দেশের তালিকায় রাখা হয়েছে।

অন্যদিকে ডোমিনিকান রিপাবলিক, চিলি, কানাডা ও ব্রাজিলকে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা রক্ষায় তুলনামূলকভাবে ভালো অবস্থানে থাকা দেশ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

Bangal Kantha

জনগণের দোরগোড়ায় দ্রুত সেবা পৌঁছে দিতে হবে : ডিএসসিসি প্রশাসক

গণমাধ্যমের স্বাধীনতায় অবনতির শীর্ষে যুক্তরাষ্ট্র

আপডেট টাইম : ০৫:২৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সহ পুরো আমেরিকা মহাদেশ অঞ্চলে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে এবং এর মধ্যে সবচেয়ে বড় পতন ঘটেছে যুক্তরাষ্ট্রে, এমন তথ্য উঠে এসেছে একটি নতুন প্রতিবেদনে। ইন্টার আমেরিকান প্রেস এসোসিয়েশন (আইএপিএ) মঙ্গলবার (১০ মার্চ) তাদের সর্বশেষ প্রেস ফ্রিডম সূচক প্রকাশ করে এ তথ্য জানায়।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২০ সালে সূচক প্রকাশ শুরু হওয়ার পর গত বছরই অঞ্চলটিতে মতপ্রকাশের স্বাধীনতার অবস্থা সবচেয়ে খারাপ পর্যায়ে পৌঁছেছে। গবেষকেরা বলেছেন, আমেরিকা অঞ্চলে অবাধ মতপ্রকাশের ক্ষেত্রে গুরুতর অবনতি ঘটেছে।

প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, মেক্সিকো, হন্ডুরাস, ইকুয়েডর, নিকারাগুয়া, এল সালভাদর, গুয়াতেমালা, কলম্বিয়া, কিউবা ও ভেনেজুয়েলার মতো দেশে সাংবাদিকদের হত্যা, নির্বিচারে গ্রেপ্তার, নির্বাসনে যেতে বাধ্য করা এবং অপরাধের বিচারহীনতা বেড়েছে।

২৩টি দেশের তালিকায় যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান চতুর্থ থেকে নেমে ১১তম স্থানে এসেছে, যা সেখানে সাংবাদিকদের কাজ করার ক্ষেত্রে বাড়তি সীমাবদ্ধতার ইঙ্গিত দেয়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত বছর প্রেসিডেন্ট হিসেবে ডোনাল্ড ট্রাম্পের দায়িত্ব গ্রহণের পর নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপ এ পতনের অন্যতম কারণ।

প্রতিবেদনটি উল্লেখ করেছে, যুক্তরাষ্ট্রে সংবিধান ও আইনের মাধ্যমে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা সুরক্ষিত থাকলেও সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো সেই সুরক্ষাকে দুর্বল করেছে। সমালোচনামূলক সাংবাদিকতাকে কলঙ্কিত করা, সরকারি অর্থায়নে পরিচালিত গণমাধ্যমের বাজেট কমানো এবং ভয়েস অভ আমেরিকা বন্ধ করে দেওয়ার মতো পদক্ষেপকে সংবাদমাধ্যমের জন্য ক্ষতিকর বলে উল্লেখ করা হয়েছে। গত বছর দেশটিতে সাংবাদিকদের ওপর মোট ১৭০টি হামলার ঘটনাও নথিভুক্ত হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, নিকারাগুয়া ও ভেনেজুয়েলাকে এখনও “মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নেই” এমন দেশের তালিকায় রাখা হয়েছে। ভেনেজুয়েলায় বিতর্কিত ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের পর ৪০০টির বেশি রেডিও স্টেশন বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে এবং ২৫ জন সাংবাদিককে আটক করা হয়েছে।

এদিকে এল সালভাদর সূচকে ২১তম স্থানে নেমে এসেছে। দেশটির সাংবাদিক সংগঠন জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট Nayib Bukele-এর সরকারের ক্রমবর্ধমান দমন-পীড়নের কারণে গত এক বছরে প্রায় ৫০ জন সাংবাদিক দেশ ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইকুয়েডর, বলিভিয়া, হন্ডুরাস, পেরু, মেক্সিকো, হাইতি, কিউবা ও এল সালভাদর—এই আটটি দেশকে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার ক্ষেত্রে উচ্চ মাত্রার বিধিনিষেধ থাকা দেশের তালিকায় রাখা হয়েছে।

অন্যদিকে ডোমিনিকান রিপাবলিক, চিলি, কানাডা ও ব্রাজিলকে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা রক্ষায় তুলনামূলকভাবে ভালো অবস্থানে থাকা দেশ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।