বাঙালী কণ্ঠ ডেস্কঃ একের পর এক প্রাকৃতিক দুর্যোগ দেখে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের দৃঢ় বিশ্বাস, দেশে আল্লাহর গজব পড়েছে। তিনি বলেন, এ জন্য বন্যা হচ্ছে, পাহাড় ধস হচ্ছে, মানুষ মরছে।’
শুক্রবার দুপুরে বন্যা উপদ্রুত সিলেটের ওসমানীনগরে ত্রাণ দিতে এসে সংক্ষিপ্ত পথসভায় সাবেক সেনা শাসক এরশাদ এ কথা বলেন। উপজেলার শেরপুর বাজারে এই পথসভা ও ত্রাণ বিতরণ করা হয়।
এরশাদ দুপুরে জুমার নামাজের আগে হেলিকপ্টারে করে শেরপুর বাজারে আসেন। সেখানে তিনি অবস্থান করেন ১৫ মিনিটের মতো। এরপর আবার হেলিকপ্টারে করেই ফিরে আসেন।
আগে থেকেই সেখানে অপেক্ষা করছিলেন দুর্গত পাঁচ শতাধিক মানুষ। এরশাদের এই সফরের আগে তাদেরকে ত্রাণের কার্ড দেয়া হয়। ত্রাণ হিসেবে তাদেরকে চাল ও শুকনো খাবার দেয়া হয়।
গত কয়েকদিন ধরেই সিলেট অঞ্চলে বন্যা দেখা দিয়েছে। এতে ফসলহানির পাশাপাশি ব্যাপক দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে স্থানীয়দের। বাড়িঘরে টিকতে না পেরে শত শত মানুষ আশ্রয় নিয়েছে বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রে। এলাকায় কাজ প্রায় বন্ধ হয়ে যাওয়ায় শ্রমজীবীরা আছেন বিপাকে।
দুর্গতদের জন্য সরকার ত্রাণের ব্যবস্থা করলেও তা পর্যাপ্ত নয় বলে অভিযোগ করছেন স্থানীয়রা।
মাস তিনেক আগেও বৃহত্তর সিলেটের হাওর এলাকায় বন্যায় ফসলহানি হয়েছে। সেই দুর্ভোগ ও ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার আগেই আবার বন্যায় দিশেহারা হয়ে পড়েছে মানুষ।
এরশাদ বলেন, ‘বন্যায় ফসল হারিয়ে মানুষ আজ নিঃস্ব, চরম দুর্ভোগে সবাই। কোন সু সংবাদ নেই।’
জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান বলেন, ‘দেশের মানুষ ভাল নেই। চারিদিকে শুধু গুম-খুন। দিন শুরু হয় খুনের খবর দিয়ে।’
‘ঘরে ঘরে গুম-খুনের আতঙ্ক বিরাজ করছে।জাতীয় পার্টি ক্ষমতায় গেলে আবার মানুষের সুদিন ফিরে আসবে।আতঙ্ক কেটে যাবে’- বলেন এরশাদ।
আগামী জাতীয় নির্বাচনে জাতীয় পার্টিকে ভোট দিয়ে ক্ষমতায় পাঠানোর আহ্বানও জানান এরশাদ। বলেন, ‘আমাদেরকে আরেকবার সুযোগ দিন। আমরা নিরাশ করব না।’
জাতীয় পার্টির মহাসচিব রুহুল আমিন হাওলাদার, সাবেক মহাসচিব জিয়া উদ্দিন বাবলু, সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কাজী ফিরোজ রশিদ, সংসদ সদস্য মুমিন চৌধুরী বাবু, ইয়াহইয়া চৌধুরী, ওসমানীনগর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ময়নুল হক চৌধুরী প্রমুখ এ সময় বক্তব্য রাখেন।

বাঙ্গালী কণ্ঠ ডেস্ক 
























