ঢাকা , সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
গ্যাস-তেল নেই, সরকারের দোষ—লংমার্চের গাড়ি কি তেলে চলে না নিউইয়র্ক সফরে ট্রাম্পের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক হতে পারে: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ব্যাংকে পুরোনো মালিকদের ফেরার পথ বন্ধ চায় সংসদীয় কমিটি প্রধানমন্ত্রীকে সতর্ক করে যা বললেন মির্জা আব্বাস ১১ দলীয় ঐক্যের বিশাল সমাবেশ জনগণের প্রয়োজনে যেকোনো সময় আন্দোলনের ডাক: ডা. শফিকুর রহমান ইতিহাসের সেরা ২ নারী গোয়েন্দা ৮ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতির দায়িত্ব নেবেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী কিছু রাজনৈতিক দল ও ব্যক্তি বিভ্রান্তির মাধ্যমে অরাজকতা সৃষ্টির পাঁয়তারা করছে: প্রধানমন্ত্রী যুদ্ধ-পরবর্তী মধ্যপ্রাচ্য নিয়ে পরিকল্পনা করছে যুক্তরাষ্ট্র, লক্ষ্য কী দক্ষিণখানে অস্ত্র-মাদকসহ কিশোর গ্যাংয়ের ৭ সদস্য গ্রেপ্তার

‘লতিরাজ’ কচু চাষে মনজেরের ভাগ্য বদল

বাঙালি কণ্ঠ ডেস্কঃ  অভাবের সংসারে ভাগ্য ফেরাল লতিরাজ কচু। কচু চাষাবাদ করে স্বাবলম্বী হয়ে বেশ ভালোই আছেন দিনাজপুরের চিরিরবন্দরের সাতনালা গ্রামের জসিনেম্বার পাড়ার মো. মনজের আলী। মৃত বাবার আজগার আলীর ২৫ বছরের পুরোনো এই কচু চাষকে আঁকড়ে ধরেই নিজেকে পাল্টে দিয়েছেন মনজের আলী।

কচু চাষ তার ভাগ্য বদলে দিয়েছে। তাকে দেখে ও পরামর্শ নিয়ে ওই এলাকার বিভিন্ন জায়গার অনেকেই কচুর আবাদ করে স্বাবলম্বী হয়েছেন। কৃষক মনজের দুই সন্তান ও স্ত্রীকে নিয়ে লতিরাজ কচু চাষে বেশ ভালোই দিন কাটাচ্ছেন।

বাবা মারা যাওয়ার পর বাবার রেখে যাওয়া জমিতে ১০ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে মনজের আলী আবার কচু চাষ শুরু করেন। এখন তিনি উপজেলার সফল ‘লতি রাজ’ কচু চাষি। চার বিঘা জমিতে কচুর চাষ করছেন তিনি। মাসিক আয় লাখ টাকা ছাড়িয়ে। উপজেলার বিভিন্ন এলাকার কৃষকরা মনজের আলীর কাছ থেকে চারা ও পরামর্শ নিয়ে ‘লতি রাজ’ কচুর চাষ করছেন।

সম্প্রতি জসিনেম্বার পাড়ায় গিয়ে দেখা যায়, মনজের আলী কচু জমি থেকে তুলে বাজারজাত করার জন্য পরিষ্কার করছেন।

তিনি জানান, প্রথম দিকে আমি ২৫ শতক জমিতে স্বল্প পরিসরে কচু চাষ  শুরু করি। শুরুতেই আমি কচু চাষে বেশ লাভবান হলে পরের বছর নিজের ২৫ শতক জমির সাথে অন্যের সাড়ে তিন বিঘা জমি বর্গা নিয়ে মোট ৪ বিঘা মাটিতে ‘লতি রাজ’ কচুর চাষ শুরু করি।

কচু চাষ করতে খুব তেমন বেশি মজুরি খরচ হয় না বলে তিনি জানান, কচুর চারা রোপনের ২০ দিন পরপর ৬ মাস পর্যন্ত হালকা নিড়ানি দিতে হয়। কচু গাছের যখন তিন মাস বয়স হয়, তখন গাছের গুড়ায় যে লতি বের হয় তা কেজি প্রতি খুচরা বিক্রি হয় ৩০ থেকে ৪০ টাকা। চার বিঘা জমিতে আমি প্রায় লতি বিক্রি করি ৬০ হাজার টাকা। কচু গাছের ছয় মাস বয়স সম্পূর্ণ হলে তা বাজারজাত করার উপযোগী হয়। এক একর জমিতে কচু গাছ হয় প্রায় ১২ হাজার, যার প্রতিটি কচুর পাইকারি মূল্য ২০ থেকে ৩০ টাকা হলে মোট কচু বিক্রি হয় প্রায় ২ লাখ ৪০ হাজার টাকা। এক একর জমিতে কচু চাষে মজুরি খরচ ও যাতায়েত খরচসহ মোট উৎপাদন খরচ হয় ৬০ থেকে ৬৫ হাজার টাকা।

একর প্রতি কচু চাষে লাভ হয় প্রায় ১ লাখ ৭০ হাজার টাকা। মনজেরের বাড়ি থেকে অনেক পাইকাররা কচু নিয়ে যায় জেলার বিভিন্ন উপজেলাসহ স্থানীয় হাট-বাজারে।

তিনি আরো বলেন, লতিরাজ কচুর চাষ করে তিনি কিছু ধানি জমিও কিনেছেন। এছাড়া আধাপাকা বসতবাড়ি তৈরি করেছেন। কচু চাষে মনজেরের কাছ থেকে বুদ্ধি-পরামর্শ নেন এলাকার অনেক কৃষকরা।

এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মাহমুদুল হাসান জানান, মনজের দারিদ্র্য জয় করেছেন। লেখাপড়া না জানলেও তিনি উপজেলার সবার কাছে অনুকরণীয়। চিরিরবন্দরের অনেক এলাকায় বর্ষাকালীন সময়ে কচু চাষের যথেষ্ট উপযোগী। ইতোমধ্যে স্থানীয় পর্যায়ে দেশি কচুর পাশাপাশি আমরা ‘লতিরাজ’ নামে একটি কচু কৃষকদের আবাদের পরামর্শ দিচ্ছি। যার সুফল এখন পাচ্ছেন কৃষক।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

Bangal Kantha

গ্যাস-তেল নেই, সরকারের দোষ—লংমার্চের গাড়ি কি তেলে চলে না

‘লতিরাজ’ কচু চাষে মনজেরের ভাগ্য বদল

আপডেট টাইম : ০৭:৫৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৮ জুলাই ২০১৭

বাঙালি কণ্ঠ ডেস্কঃ  অভাবের সংসারে ভাগ্য ফেরাল লতিরাজ কচু। কচু চাষাবাদ করে স্বাবলম্বী হয়ে বেশ ভালোই আছেন দিনাজপুরের চিরিরবন্দরের সাতনালা গ্রামের জসিনেম্বার পাড়ার মো. মনজের আলী। মৃত বাবার আজগার আলীর ২৫ বছরের পুরোনো এই কচু চাষকে আঁকড়ে ধরেই নিজেকে পাল্টে দিয়েছেন মনজের আলী।

কচু চাষ তার ভাগ্য বদলে দিয়েছে। তাকে দেখে ও পরামর্শ নিয়ে ওই এলাকার বিভিন্ন জায়গার অনেকেই কচুর আবাদ করে স্বাবলম্বী হয়েছেন। কৃষক মনজের দুই সন্তান ও স্ত্রীকে নিয়ে লতিরাজ কচু চাষে বেশ ভালোই দিন কাটাচ্ছেন।

বাবা মারা যাওয়ার পর বাবার রেখে যাওয়া জমিতে ১০ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে মনজের আলী আবার কচু চাষ শুরু করেন। এখন তিনি উপজেলার সফল ‘লতি রাজ’ কচু চাষি। চার বিঘা জমিতে কচুর চাষ করছেন তিনি। মাসিক আয় লাখ টাকা ছাড়িয়ে। উপজেলার বিভিন্ন এলাকার কৃষকরা মনজের আলীর কাছ থেকে চারা ও পরামর্শ নিয়ে ‘লতি রাজ’ কচুর চাষ করছেন।

সম্প্রতি জসিনেম্বার পাড়ায় গিয়ে দেখা যায়, মনজের আলী কচু জমি থেকে তুলে বাজারজাত করার জন্য পরিষ্কার করছেন।

তিনি জানান, প্রথম দিকে আমি ২৫ শতক জমিতে স্বল্প পরিসরে কচু চাষ  শুরু করি। শুরুতেই আমি কচু চাষে বেশ লাভবান হলে পরের বছর নিজের ২৫ শতক জমির সাথে অন্যের সাড়ে তিন বিঘা জমি বর্গা নিয়ে মোট ৪ বিঘা মাটিতে ‘লতি রাজ’ কচুর চাষ শুরু করি।

কচু চাষ করতে খুব তেমন বেশি মজুরি খরচ হয় না বলে তিনি জানান, কচুর চারা রোপনের ২০ দিন পরপর ৬ মাস পর্যন্ত হালকা নিড়ানি দিতে হয়। কচু গাছের যখন তিন মাস বয়স হয়, তখন গাছের গুড়ায় যে লতি বের হয় তা কেজি প্রতি খুচরা বিক্রি হয় ৩০ থেকে ৪০ টাকা। চার বিঘা জমিতে আমি প্রায় লতি বিক্রি করি ৬০ হাজার টাকা। কচু গাছের ছয় মাস বয়স সম্পূর্ণ হলে তা বাজারজাত করার উপযোগী হয়। এক একর জমিতে কচু গাছ হয় প্রায় ১২ হাজার, যার প্রতিটি কচুর পাইকারি মূল্য ২০ থেকে ৩০ টাকা হলে মোট কচু বিক্রি হয় প্রায় ২ লাখ ৪০ হাজার টাকা। এক একর জমিতে কচু চাষে মজুরি খরচ ও যাতায়েত খরচসহ মোট উৎপাদন খরচ হয় ৬০ থেকে ৬৫ হাজার টাকা।

একর প্রতি কচু চাষে লাভ হয় প্রায় ১ লাখ ৭০ হাজার টাকা। মনজেরের বাড়ি থেকে অনেক পাইকাররা কচু নিয়ে যায় জেলার বিভিন্ন উপজেলাসহ স্থানীয় হাট-বাজারে।

তিনি আরো বলেন, লতিরাজ কচুর চাষ করে তিনি কিছু ধানি জমিও কিনেছেন। এছাড়া আধাপাকা বসতবাড়ি তৈরি করেছেন। কচু চাষে মনজেরের কাছ থেকে বুদ্ধি-পরামর্শ নেন এলাকার অনেক কৃষকরা।

এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মাহমুদুল হাসান জানান, মনজের দারিদ্র্য জয় করেছেন। লেখাপড়া না জানলেও তিনি উপজেলার সবার কাছে অনুকরণীয়। চিরিরবন্দরের অনেক এলাকায় বর্ষাকালীন সময়ে কচু চাষের যথেষ্ট উপযোগী। ইতোমধ্যে স্থানীয় পর্যায়ে দেশি কচুর পাশাপাশি আমরা ‘লতিরাজ’ নামে একটি কচু কৃষকদের আবাদের পরামর্শ দিচ্ছি। যার সুফল এখন পাচ্ছেন কৃষক।