ঢাকা , শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নির্বাচনী রোডম্যাপ চূড়ান্ত: সুশীল সমাজের সঙ্গে সংলাপ শুরু ৩১ জুলাই

বাঙালী কণ্ঠ নিউজঃ  একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের চূড়ান্ত রোডম্যাপ বা কর্মপরিকল্পনা অনুমোদন করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। আগামী ৩১ জুলাই বিকেল ৩টায় সুশীল সমাজের সঙ্গে সংলাপের মধ্য দিয়ে একাদশ সংসদ নির্বাচনের কার্যক্রম শুরু করতে যাচ্ছে ইসি। সুশীল সমাজের পর আগস্টের প্রথম সপ্তাহে মিডিয়ার সঙ্গে সংলাপে বসবে ইসি। পাশাপাশি আগস্ট থেকে অক্টোবর পর্যন্ত তিন মাস রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপ করা হবে। আর এক্ষেত্রে শুধু নিবন্ধিত ৪০টি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সংলাপে বসবে ইসি। এ ছাড়াও চূড়ান্ত রোডম্যাপে আগামী নির্বাচনে ভোটগ্রহণে ইলেক্ট্রনিক ভোটিং মেশিন বা ইভিএম ব্যবহারের বিষয়টি বাদ দেওয়া হয়েছে। গতকাল ইসি সচিব মোহাম্মদ আবদুল্লাহ সাংবাদিকদের এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেন। এর আগে বিকেলে ইসি সভায় চূড়ান্ত রোডম্যাপ অনুমোদন দেওয়া হয়। ইসি সচিব বলেন, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে রোডম্যাপের চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এতে সাতটি বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ১৬ জুলাই এটি বই আকারে প্রকাশ করে রাজনৈতিক দলসহ সংশ্লিষ্টদের কাছে পাঠানো হবে। এতে কবে কখন সংলাপ ও নির্বাচনী অন্যান্য কার্যক্রম নেওয়া হবে তার সময়সূচি উল্লেখ থাকবে। সংলাপের বিষয়ে সচিব জানান, গত ৩০ জুলাই সংলাপ শুরু হওয়ার কথা থাকলেও তা পরিবর্তন করা হয়েছে। সুশীল সমাজের সঙ্গে ইসির বৈঠকটি ৩১ জুলাই বিকেল ৩টা থেকে শুরু হবে। এ ছাড়া গণমাধ্যমের প্রতিনিধি, নির্বাচন পর্যবেক্ষক ও রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপ করা হবে। রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে কবে থেকে সংলাপ শুরু করা হবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, কোনো তারিখ নির্ধারণ করা হয়নি। আগস্ট থেকে অক্টোবর মাস পর্যন্ত রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপ করা হবে। সীমানা পুনর্নির্ধারণ ও আইন সংস্কারে দুজন পরামর্শক নিয়োগ দেওয়া হবে বলেও জানান ইসি সচিব। তিনি জানা, সংবিধান অনুযায়ী সরকারের মেয়াদ শেষ হওয়ার তিন মাসের মধ্যে যে কোনো দিন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারে। এ হিসাবে ২০১৮ সালের ৩০ অক্টোবর থেকে ২০১৯ সালের ২৮ জানুয়ারির মধ্যে দেশে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ইসি সূত্র জানায়, চূড়ান্ত রোডম্যাপ অনুযায়ী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সাতটি করণীয় নির্ধারণ করে একটি কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করা হয়েছে। সেগুলো হল-আইনি কাঠামো পর্যালোচনা ও সংস্কার, নির্বাচনী প্রক্রিয়া সহজীকরণ ও যুগোপযোগী করার লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট সবার পরামর্শ গ্রহণ, সংসদীয় এলাকার সীমানা পুনর্নির্ধারণ, নির্ভুল ভোটার তালিকা প্রণয়ন ও সরবরাহকরণ, বিধিবিধান অনুসরণপূর্বক ভোটকেন্দ্র স্থাপন, নতুন রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন এবং নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের নিরীক্ষা ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানে সংশ্লিষ্ট সবার সক্ষমতা কার্যক্রম বৃদ্ধির কার্যক্রম গ্রহণ। ইসি সূত্র জানায়, গত ২৩ মে সাতটি বিষয়কে প্রাধান্য দিয়ে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের খসড়া রোডম্যাপের ঘোষণা দেয় নির্বাচন কমিশন। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ইভিএমে নির্বাচন অনুষ্ঠানের দাবি জানালেও রোডম্যাপে বহুল আলোচিত ইভিএম ব্যবহারের বিষয়টি বাদ দেওয়া হয়েছে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

Bangal Kantha

নির্বাচনী রোডম্যাপ চূড়ান্ত: সুশীল সমাজের সঙ্গে সংলাপ শুরু ৩১ জুলাই

আপডেট টাইম : ০৫:২৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১০ জুলাই ২০১৭

বাঙালী কণ্ঠ নিউজঃ  একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের চূড়ান্ত রোডম্যাপ বা কর্মপরিকল্পনা অনুমোদন করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। আগামী ৩১ জুলাই বিকেল ৩টায় সুশীল সমাজের সঙ্গে সংলাপের মধ্য দিয়ে একাদশ সংসদ নির্বাচনের কার্যক্রম শুরু করতে যাচ্ছে ইসি। সুশীল সমাজের পর আগস্টের প্রথম সপ্তাহে মিডিয়ার সঙ্গে সংলাপে বসবে ইসি। পাশাপাশি আগস্ট থেকে অক্টোবর পর্যন্ত তিন মাস রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপ করা হবে। আর এক্ষেত্রে শুধু নিবন্ধিত ৪০টি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সংলাপে বসবে ইসি। এ ছাড়াও চূড়ান্ত রোডম্যাপে আগামী নির্বাচনে ভোটগ্রহণে ইলেক্ট্রনিক ভোটিং মেশিন বা ইভিএম ব্যবহারের বিষয়টি বাদ দেওয়া হয়েছে। গতকাল ইসি সচিব মোহাম্মদ আবদুল্লাহ সাংবাদিকদের এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেন। এর আগে বিকেলে ইসি সভায় চূড়ান্ত রোডম্যাপ অনুমোদন দেওয়া হয়। ইসি সচিব বলেন, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে রোডম্যাপের চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এতে সাতটি বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ১৬ জুলাই এটি বই আকারে প্রকাশ করে রাজনৈতিক দলসহ সংশ্লিষ্টদের কাছে পাঠানো হবে। এতে কবে কখন সংলাপ ও নির্বাচনী অন্যান্য কার্যক্রম নেওয়া হবে তার সময়সূচি উল্লেখ থাকবে। সংলাপের বিষয়ে সচিব জানান, গত ৩০ জুলাই সংলাপ শুরু হওয়ার কথা থাকলেও তা পরিবর্তন করা হয়েছে। সুশীল সমাজের সঙ্গে ইসির বৈঠকটি ৩১ জুলাই বিকেল ৩টা থেকে শুরু হবে। এ ছাড়া গণমাধ্যমের প্রতিনিধি, নির্বাচন পর্যবেক্ষক ও রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপ করা হবে। রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে কবে থেকে সংলাপ শুরু করা হবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, কোনো তারিখ নির্ধারণ করা হয়নি। আগস্ট থেকে অক্টোবর মাস পর্যন্ত রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপ করা হবে। সীমানা পুনর্নির্ধারণ ও আইন সংস্কারে দুজন পরামর্শক নিয়োগ দেওয়া হবে বলেও জানান ইসি সচিব। তিনি জানা, সংবিধান অনুযায়ী সরকারের মেয়াদ শেষ হওয়ার তিন মাসের মধ্যে যে কোনো দিন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারে। এ হিসাবে ২০১৮ সালের ৩০ অক্টোবর থেকে ২০১৯ সালের ২৮ জানুয়ারির মধ্যে দেশে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ইসি সূত্র জানায়, চূড়ান্ত রোডম্যাপ অনুযায়ী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সাতটি করণীয় নির্ধারণ করে একটি কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করা হয়েছে। সেগুলো হল-আইনি কাঠামো পর্যালোচনা ও সংস্কার, নির্বাচনী প্রক্রিয়া সহজীকরণ ও যুগোপযোগী করার লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট সবার পরামর্শ গ্রহণ, সংসদীয় এলাকার সীমানা পুনর্নির্ধারণ, নির্ভুল ভোটার তালিকা প্রণয়ন ও সরবরাহকরণ, বিধিবিধান অনুসরণপূর্বক ভোটকেন্দ্র স্থাপন, নতুন রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন এবং নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের নিরীক্ষা ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানে সংশ্লিষ্ট সবার সক্ষমতা কার্যক্রম বৃদ্ধির কার্যক্রম গ্রহণ। ইসি সূত্র জানায়, গত ২৩ মে সাতটি বিষয়কে প্রাধান্য দিয়ে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের খসড়া রোডম্যাপের ঘোষণা দেয় নির্বাচন কমিশন। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ইভিএমে নির্বাচন অনুষ্ঠানের দাবি জানালেও রোডম্যাপে বহুল আলোচিত ইভিএম ব্যবহারের বিষয়টি বাদ দেওয়া হয়েছে।