ঢাকা , বুধবার, ২৬ মার্চ ২০২৫, ১১ চৈত্র ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

রমজান ঐতিহ্য মেহেদির রঙে রঙিন রোজা

বিশ্বজুড়ে বিচিত্র রীতি ও সংস্কৃতিতে উদযাপিত হয় পবিত্র রমজান। এসব রীতি ও সংস্কৃতির সব উৎস কোরআন ও হাদিস নয়, তবু যুগ যুগ ধরে স্থানীয়রা গুরুত্বের সঙ্গে তা পালন করে আসছে। রমজানকেন্দ্রিক এমন একটি ঐতিহ্য হলো প্রথম রোজার সময় মেয়েদের হাতে মেহেদি দেওয়া। সৌদি আরবের উত্তর সীমান্তবর্তী অঞ্চলের রীতি হলো কোনো মেয়ে যখন প্রথম রোজা রাখে তাদের হাতে মেহেদি দেওয়া হয়।

মেয়ের হাতে মেহেদি দিতে পরিবারের সদস্যরা একত্র হয় এবং তারা তার হাতে বাহারি নকশায় মেহেদি এঁকে দেয়। মেহেদি দিয়ে তারা তরুণীকে রোজা রাখতে উৎসাহিত করে এবং জীবনের প্রথম রোজাকে স্মরণীয় করে রাখতে চায়। উৎসবমুখর পরিবেশে আঁকা মেহেদির নকশা তরুণীর গর্ব ও উৎসাহ বাড়িয়ে দেয়। তারা তাদের নকশা আঁকা হাত অন্যকে দেখায়।

এর মাধ্যমে সমাজে রমজানের চেতনাই সুদৃঢ় হয়।ওয়াজদান আল আনজি সৌদি আরবের আরার অঞ্চলের বাসিন্দা। প্রথম রোজার সময় মেয়েদের হাতে মেহেদি দেওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বহু বছর ধরে আমরা আমাদের মেয়েদের ব্যাপারে এই ঐতিহ্য বহন করে আসছি। এটা আমাদের শিশুদের আমাদের বয়স্কদের সঙ্গে যুক্ত করে।

তারা পরস্পরের সঙ্গে রমজানের চেতনা ভাগাভাগি করে।আফাফ আল সুওয়াইনি বলেন, এই ঐতিহ্যের নান্দনিকতার বাইরে আধ্যাত্মিক দিকও আছে। এটা শিশুর ভেতর ধর্মীয় ও সামাজিক মূল্যবোধ সৃষ্টি করে, তাদের আনন্দ ও উৎসাহের সঙ্গে রোজা পালনে সাহায্য করে। এমন অনেক ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সৌদি আরবের মুসলিমদের ভেতর সেতুবন্ধন তৈরি করেছে, যা তাদের যুগ যুগ ধরে একই সুতায় বেঁধে রেখেছে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

Bangal Kantha

জনপ্রিয় সংবাদ

রমজান ঐতিহ্য মেহেদির রঙে রঙিন রোজা

আপডেট টাইম : ০৪:৪৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১০ মার্চ ২০২৫
বিশ্বজুড়ে বিচিত্র রীতি ও সংস্কৃতিতে উদযাপিত হয় পবিত্র রমজান। এসব রীতি ও সংস্কৃতির সব উৎস কোরআন ও হাদিস নয়, তবু যুগ যুগ ধরে স্থানীয়রা গুরুত্বের সঙ্গে তা পালন করে আসছে। রমজানকেন্দ্রিক এমন একটি ঐতিহ্য হলো প্রথম রোজার সময় মেয়েদের হাতে মেহেদি দেওয়া। সৌদি আরবের উত্তর সীমান্তবর্তী অঞ্চলের রীতি হলো কোনো মেয়ে যখন প্রথম রোজা রাখে তাদের হাতে মেহেদি দেওয়া হয়।

মেয়ের হাতে মেহেদি দিতে পরিবারের সদস্যরা একত্র হয় এবং তারা তার হাতে বাহারি নকশায় মেহেদি এঁকে দেয়। মেহেদি দিয়ে তারা তরুণীকে রোজা রাখতে উৎসাহিত করে এবং জীবনের প্রথম রোজাকে স্মরণীয় করে রাখতে চায়। উৎসবমুখর পরিবেশে আঁকা মেহেদির নকশা তরুণীর গর্ব ও উৎসাহ বাড়িয়ে দেয়। তারা তাদের নকশা আঁকা হাত অন্যকে দেখায়।

এর মাধ্যমে সমাজে রমজানের চেতনাই সুদৃঢ় হয়।ওয়াজদান আল আনজি সৌদি আরবের আরার অঞ্চলের বাসিন্দা। প্রথম রোজার সময় মেয়েদের হাতে মেহেদি দেওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বহু বছর ধরে আমরা আমাদের মেয়েদের ব্যাপারে এই ঐতিহ্য বহন করে আসছি। এটা আমাদের শিশুদের আমাদের বয়স্কদের সঙ্গে যুক্ত করে।

তারা পরস্পরের সঙ্গে রমজানের চেতনা ভাগাভাগি করে।আফাফ আল সুওয়াইনি বলেন, এই ঐতিহ্যের নান্দনিকতার বাইরে আধ্যাত্মিক দিকও আছে। এটা শিশুর ভেতর ধর্মীয় ও সামাজিক মূল্যবোধ সৃষ্টি করে, তাদের আনন্দ ও উৎসাহের সঙ্গে রোজা পালনে সাহায্য করে। এমন অনেক ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সৌদি আরবের মুসলিমদের ভেতর সেতুবন্ধন তৈরি করেছে, যা তাদের যুগ যুগ ধরে একই সুতায় বেঁধে রেখেছে।